ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দেশজুড়ে ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার দিনভর বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্য ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একাধিক শহরের রাজপথে আগুন জ্বলছে, পুড়ছে যানবাহন ও স্থাপনা, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির খবরও মিলছে।
সুপ্রিম নেতার কড়া অবস্থান
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বিরোধী গোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় এই অস্থিরতা উসকে দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভের কাছে নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়ে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দেশ দেন।

অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক স্লোগান
গত বছরের অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। জাতীয় মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রথমে দোকানদার ও বাজারের ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাদেশিক শহর ও যুবসমাজ এতে যুক্ত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি সরাসরি শাসক গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে স্লোগান ওঠে।

ইন্টারনেট বন্ধ, তথ্য প্রবাহে অন্ধকার
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদেশ থেকে ফোন সংযোগও ব্যাহত হয়। এই অবরোধে বিক্ষোভের দৃশ্য ও হতাহতের খবর বাইরে পৌঁছানো উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
রাজপথে আগুন ও সংঘর্ষের ছবি
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে বাস, গাড়ি, মোটরসাইকেল পোড়ানোর দৃশ্য দেখা যায়। পাতাল রেল স্টেশন ও ব্যাংকেও অগ্নিসংযোগের খবর প্রচার করা হয়। কাস্পিয়ান সাগর উপকূলীয় শহর রাশতে একটি প্রধান সড়কে আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে একজন প্রতিবেদক এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রের মতো দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

সংখ্যালঘু অঞ্চলে গুলির অভিযোগ
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাহেদানে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালানো হয়, এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। ওই এলাকায় সংখ্যালঘু বেলুচ জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি।
দ্বৈত কৌশলে সরকার
কর্তৃপক্ষ একদিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষকে ব্যক্তিগত বা বৈধ অভিযোগ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে, অন্যদিকে সহিংসতার অভিযোগে কঠোর দমন অভিযান চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















