০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি বিচ্ছেদের সবচেয়ে কঠিন সত্য জানালেন জেনিফার গার্নার বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ২০২৬ সালের ইতিবাচক সূচনা ইরানে বিক্ষোভে গুলি, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন আরও তীব্র আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণ, তিন দিনে নিহত অন্তত সতেরো গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো সহজ নয়: অর্থ উপদেষ্টা গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যুক্ত হতে আগ্রহ জানাল বাংলাদেশ ‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ইরানে অগ্নিগর্ভ রাজপথ, কঠোর দমনের হুঁশিয়ারি; ইন্টারনেট অন্ধকারে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

ইরানে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভকে ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নিচ্ছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ, রাজপথে হাজারো মানুষ, আর রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ থেকে জানানো হয়েছে—কোনোভাবেই পিছু হটা হবে না। টানা অস্থিরতার দ্বিতীয় দিনে কঠোর দমনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নেতৃত্বের কঠোর বার্তা ও দমনের ইঙ্গিত
বিক্ষোভ শুরুর পর প্রথম ভাষণে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আন্দোলনকারীদের নাশকতা ও বিদেশি প্ররোচনার সঙ্গে যুক্ত করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অন্য দেশের সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের শহর ধ্বংস করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে আন্দোলনকে অবৈধ আখ্যা দেন। এই বক্তব্যের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা বেড়েছে।

মুদ্রা পতন থেকে রাজনৈতিক দাবির বিস্তার
হঠাৎ করে জাতীয় মুদ্রার বড় পতনের পর ক্ষোভ ছড়ায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা রাজনৈতিক সংস্কার ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। রাজধানীসহ বহু শহর ও জনপদে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং শ্লোগানে উত্তাল রাজপথ দেখা যায়।

ইন্টারনেট বন্ধ, তথ্যপ্রবাহে অচলাবস্থা
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দেশের ভেতরের পরিস্থিতি জানা কঠিন হয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই অন্ধকারে ঘটছে সহিংসতা ও আটক, কিন্তু প্রমাণ সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

Image

রাস্তায় সংঘর্ষ ও প্রাণহানির অভিযোগ
বিক্ষোভকারীরা জানান, পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক ও সাদা পোশাকধারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। কোথাও গুলির শব্দে আহতের খবর মিলেছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের হিসাবে এ পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত এবং হাজারের বেশি আটক হয়েছে।

প্রতীকী আগুন ও পুরোনো পতাকা
রাজধানীতে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার ভবনে আগুন দেওয়া ও বিপ্লব-পূর্ব প্রতীক খচিত পতাকা ওড়ানোর দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমের শহরগুলোতেও বড় জমায়েত দেখা গেছে, যা আগের আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় বলে ধরা হচ্ছে।

প্রবাসী নেতৃত্বের ডাক ও সাড়া
প্রবাসে থাকা সাবেক রাজবংশের উত্তরাধিকারী রাতের বিক্ষোভের ডাক দেন। নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী শ্লোগান শোনা যায়। সমর্থকেরা বলেন, আগের আন্দোলনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ঐক্য গড়ার চেষ্টা চলছে।

Image

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা
ইউরোপের শীর্ষ নেতৃত্ব একযোগে সহিংসতা বন্ধ ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলেছে। বিপরীতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আন্দোলনকে বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গা বলে প্রচার করছে এবং স্বাভাবিকতার ছবি দেখাচ্ছে।

অচেনা রাত, অনিশ্চিত আগামী
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি ধোঁয়াশায়। তবু রাজপথে মানুষের উপস্থিতি দেখাচ্ছে—ভয় আর ক্ষোভের মাঝেও আন্দোলন থামেনি। আগামী রাতগুলোই বলে দেবে, দমন নাকি সমঝোতার পথে হাঁটবে দেশটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি

ইরানে অগ্নিগর্ভ রাজপথ, কঠোর দমনের হুঁশিয়ারি; ইন্টারনেট অন্ধকারে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

০৬:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভকে ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নিচ্ছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ, রাজপথে হাজারো মানুষ, আর রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ থেকে জানানো হয়েছে—কোনোভাবেই পিছু হটা হবে না। টানা অস্থিরতার দ্বিতীয় দিনে কঠোর দমনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নেতৃত্বের কঠোর বার্তা ও দমনের ইঙ্গিত
বিক্ষোভ শুরুর পর প্রথম ভাষণে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আন্দোলনকারীদের নাশকতা ও বিদেশি প্ররোচনার সঙ্গে যুক্ত করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অন্য দেশের সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের শহর ধ্বংস করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে আন্দোলনকে অবৈধ আখ্যা দেন। এই বক্তব্যের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা বেড়েছে।

মুদ্রা পতন থেকে রাজনৈতিক দাবির বিস্তার
হঠাৎ করে জাতীয় মুদ্রার বড় পতনের পর ক্ষোভ ছড়ায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা রাজনৈতিক সংস্কার ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। রাজধানীসহ বহু শহর ও জনপদে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং শ্লোগানে উত্তাল রাজপথ দেখা যায়।

ইন্টারনেট বন্ধ, তথ্যপ্রবাহে অচলাবস্থা
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দেশের ভেতরের পরিস্থিতি জানা কঠিন হয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই অন্ধকারে ঘটছে সহিংসতা ও আটক, কিন্তু প্রমাণ সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

Image

রাস্তায় সংঘর্ষ ও প্রাণহানির অভিযোগ
বিক্ষোভকারীরা জানান, পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক ও সাদা পোশাকধারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। কোথাও গুলির শব্দে আহতের খবর মিলেছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের হিসাবে এ পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত এবং হাজারের বেশি আটক হয়েছে।

প্রতীকী আগুন ও পুরোনো পতাকা
রাজধানীতে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার ভবনে আগুন দেওয়া ও বিপ্লব-পূর্ব প্রতীক খচিত পতাকা ওড়ানোর দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমের শহরগুলোতেও বড় জমায়েত দেখা গেছে, যা আগের আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় বলে ধরা হচ্ছে।

প্রবাসী নেতৃত্বের ডাক ও সাড়া
প্রবাসে থাকা সাবেক রাজবংশের উত্তরাধিকারী রাতের বিক্ষোভের ডাক দেন। নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী শ্লোগান শোনা যায়। সমর্থকেরা বলেন, আগের আন্দোলনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ঐক্য গড়ার চেষ্টা চলছে।

Image

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা
ইউরোপের শীর্ষ নেতৃত্ব একযোগে সহিংসতা বন্ধ ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলেছে। বিপরীতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আন্দোলনকে বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গা বলে প্রচার করছে এবং স্বাভাবিকতার ছবি দেখাচ্ছে।

অচেনা রাত, অনিশ্চিত আগামী
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি ধোঁয়াশায়। তবু রাজপথে মানুষের উপস্থিতি দেখাচ্ছে—ভয় আর ক্ষোভের মাঝেও আন্দোলন থামেনি। আগামী রাতগুলোই বলে দেবে, দমন নাকি সমঝোতার পথে হাঁটবে দেশটি।