পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় চলমান সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের নিজ ভূমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার অধিকার রয়েছে, যা বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
শুক্রবার দেওয়া এক বক্তব্যে পোপ বলেন, দুঃখজনকভাবে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে, যেখানে বেসামরিক মানুষের জন্য স্থায়ী শান্তি ও ন্যায়বিচারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা জরুরি।
গাজায় মানবিক সংকট ও চলমান প্রাণহানি
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও প্রাণহানি পুরোপুরি থামেনি। সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছে। দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি অস্থায়ী আশ্রয়ে ড্রোন হামলায় কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর খবরও জানানো হয়েছে। দুই মিলিয়নের বেশি মানুষ এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি কিংবা অস্থায়ী ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ট্রাম্প পরিকল্পনা ও শান্তি বোর্ডের উদ্যোগ
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে, যা যুদ্ধ থামানোর পর গাজা পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, চলতি মাসেই এই বোর্ডের কাঠামো ঘোষণা হতে পারে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক আলোচনা
জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তা হুসেইন আল শেখ-এর সঙ্গে রামাল্লায় বৈঠক করেছেন। আলোচনায় গাজার পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ এবং ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে কথা হয়েছে। তবে তিনি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।
ইসরায়েলের অবস্থান ও হামাস প্রসঙ্গ
এর আগে ম্লাদেনভ জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে ইসরায়েল পুনর্ব্যক্ত করেছে যে গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে এবং হামাস-এর কোনো ভূমিকা গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও একই সঙ্গে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সরাসরি শাসন নিয়েও আপত্তি জানিয়ে এসেছে।
হামাসের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, পরবর্তী ধাপে গাজার সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি কাঠামো গঠন এবং সরকারিভাবে হামাসের সরে দাঁড়ানো প্রত্যাশিত। তবে বাস্তবে এই রূপান্তর কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
পোপের শান্তির আহ্বান
এই জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতার মধ্যেই পোপ লিও চতুর্দশের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















