মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাবের বিরুদ্ধে এক নতুন ও স্পষ্ট রাজনৈতিক লড়াই শুরু করেছেন। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিম গোলার্ধে আর কোনো বিকল্প মহাশক্তির জায়গা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং বেইজিংকে সরাসরি লক্ষ্য করে দেওয়া কৌশলগত বার্তা।
পুরনো মতবাদ, নতুন বাস্তবতা
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়াকে ট্রাম্প প্রশাসন দেখছে উনিশ শতকের মনরো নীতির আধুনিক রূপ হিসেবে। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেবে না। এই নীতির আওতায় অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ—সবখানেই বিদেশি প্রভাব ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে।
চীনের বাড়তে থাকা ছায়া
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লাতিন আমেরিকায় চীনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দ্রুত বেড়েছে। অঞ্চলটির বহু দেশে এখন চীনা গাড়ি, স্মার্টফোন ও প্রযুক্তি পণ্য দৈনন্দিন জীবনের অংশ। গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, কয়েকটি দেশে অর্থনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে দিয়েছে বেইজিং। ভেনেজুয়েলা ছিল চীনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে।

ওয়াশিংটনের কঠোর ভাষা, প্রশ্ন বাস্তবায়নে
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, পশ্চিম গোলার্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির কার্যক্রম মেনে নেওয়া হবে না। তবে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় ও রাজনৈতিকভাবে বৈচিত্র্যময় অঞ্চলে এই অবস্থান কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। অনেক দেশই মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের বিনিয়োগের বিকল্প কোনো বাস্তব প্রস্তাব দিতে পারেনি।
লাতিন আমেরিকার প্রতিক্রিয়া
ব্রাজিল, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা ও পেরুর মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নিচ্ছে না। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। কলম্বিয়ার মতো কিছু দেশে অবশ্য চীনা প্রকল্প নিয়ে চাপ বাড়ছে, তবে সেখানকার কর্মকর্তারাও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের অধিকারের কথা জোর দিয়ে বলছেন।

বেইজিংয়ের সতর্ক বার্তা
মাদুরো অপসারণের ঘটনায় চীন বিস্ময় প্রকাশ করেছে এবং ভেনেজুয়েলায় নিজেদের বৈধ স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাপ দেওয়া হলে তা আগ্রাসী আচরণ হিসেবে দেখা হবে। চীনা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিনিয়োগকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তবে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
নতুন সংঘাতের শঙ্কা
লাতিন আমেরিকার বন্দর, খনিজ অঞ্চল, বিদ্যুৎ প্রকল্প ও জ্বালানি খাতে চীনের উপস্থিতি এখন গভীর। এসব ক্ষেত্র থেকে চীনকে সরাতে গেলে শুধু আঞ্চলিক অস্থিরতা নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলাই হবে এই কৌশলের প্রথম বড় পরীক্ষা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















