সঙ্গীতজগতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের মঞ্চে আবারও ফিরে এসেছে চূড়ান্ত উত্তেজনা। এবারের গ্র্যামি বর্ষসেরা অ্যালবাম বিভাগে প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফল অনুমান করা কঠিন। তবু আলোচনার কেন্দ্রে একটি নামই ঘুরে ফিরে আসছে, লেডি গাগা। বহুবার মনোনয়ন পেলেও এই বিভাগে এখনো স্বপ্নপূরণ হয়নি তাঁর। প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান কি এবারই ঘটতে যাচ্ছে।
গাগার প্রত্যাবর্তন ও ‘মেহেম’ অ্যালবামের তাৎপর্য
‘মেহেম’ অ্যালবামটি গাগার সঙ্গীতজীবনের এক স্পষ্ট বাঁকবদলের ইঙ্গিত দেয়। নৃত্যনির্ভর পপের শিকড়ে ফিরে এসে তিনি এখানে তুলে ধরেছেন নিজের স্বর, নিজের গল্প এবং আত্মবিশ্বাসী শিল্পীসত্তা। এই অ্যালবামে কোনো মুখোশ নেই, কোনো চরিত্রের আড়াল নেই, আছে সরাসরি গাগা। সমালোচকদের মতে, এটি তাঁর সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সংহত ও সাহসী কাজ, যেখানে ব্যক্তিগত সংগ্রাম আর সৃজনশীল পুনর্জন্মের ছাপ স্পষ্ট।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপ কি গাগার পথ রুদ্ধ করবে
তবে লড়াই একপাক্ষিক নয়। পুয়ের্তো রিকোর সুপারস্টার ব্যাড বানি তাঁর নতুন অ্যালবামের মাধ্যমে ভাষা ও ভৌগোলিক সীমা ভেঙে মূলধারার ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। একই সঙ্গে টাইলার দ্য ক্রিয়েটর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পরিবার ও পরিণতির গল্পকে সৃজনশীল কাঠামোয় বেঁধে এমন এক অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন, যাকে অনেকেই বছরের সেরা কাজ হিসেবে দেখছেন।
নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি
এবারের দৌড়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বও চোখে পড়ার মতো। সাবরিনা কার্পেন্টারের অ্যালবাম তরুণ শ্রোতাদের আবেগ ও আত্মবিশ্বাসের ভাষা হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্কের শিল্পী লিওন থমাস আধুনিক উপস্থাপনায় পুরোনো আর অ্যান্ড বি ঘরানাকে নতুন করে প্রাণ দিয়েছেন, যা অভিজ্ঞ ভোটারদের মনেও দাগ কেটেছে।

শেষ মুহূর্তের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা কেন্ড্রিক লামার
সব হিসাব ও সমীকরণ এলোমেলো করে দিতে পারেন কেন্ড্রিক লামার। তাঁর সাম্প্রতিক অ্যালবাম সাংস্কৃতিক প্রভাব, সমালোচকদের প্রশংসা এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের দিক থেকে বছরজুড়ে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক সঙ্গীত দ্বন্দ্বে জয় এবং একের পর এক জনপ্রিয় গান তাঁকে সাধারণ শ্রোতার কাছেও প্রভাবশালী করে তুলেছে। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, এখানেই লুকিয়ে আছে গাগার সম্ভাব্য স্বপ্নভঙ্গের গল্প।
অভিজ্ঞতা, সহানুভূতি ও সময়ের হিসাব
এক দশকের বেশি সময় ধরে গ্র্যামির শীর্ষ মনোনয়নে থেকেও বর্ষসেরা অ্যালবামের স্বীকৃতি না পাওয়া গাগার জন্য এবারের প্রেক্ষাপট আলাদা। অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ পথচলা এবং শ্রোতাদের সহানুভূতি তাঁর পক্ষে কথা বলছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা কি এই প্রতীক্ষার ইতি টানবেন, নাকি শেষ মুহূর্তে অন্য কোনো নাম ইতিহাসের পাতায় উঠে আসবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















