০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
“আমি এ বছরই দেশে ফিরব” – শেখ হাসিনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদায় উড়ছে সিঙ্গাপুরের কারখানা উৎপাদন, টানা নয় মাস প্রবৃদ্ধি নামমাত্র পরিচালক হয়ে বিপাকে সিঙ্গাপুরের নারী, চাকরি হারিয়ে এখনও ১৫ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক! নতুন শ্রবণ পরীক্ষা বুথে অপেক্ষার সময় অর্ধেক, দ্রুত সেবা পাচ্ছেন রোগীরা সিঙ্গাপুরে দুই মসজিদের সাবেক চেয়ারম্যানের কারাদণ্ড, ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতির প্রমাণ এয়ারএশিয়ার বড় সিদ্ধান্ত: ১ জুলাই থেকে বন্ধ সিঙ্গাপুর-জাকার্তা সরাসরি ফ্লাইট, বাড়বে যাত্রার সময় স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দিতে বহু কৌশল বিএনপির নেশার বিরুদ্ধে বড় অভিযান: ৬৮০ মিলিয়ন ডলারের মাদক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করল মিয়ানমার পেন্টাগনের নতুন নীতি: যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতার পথে নতুন উদ্যোগ, দক্ষিণ লেবাননে ‘হিজবুল্লাহমুক্ত অঞ্চল’ নিয়ে আলোচনা

ভালোবাসার জন্যই গান, এই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—ইয়াং মিকো

পৃথিবী এখন ক্লান্ত, বিভক্ত আর অস্থির। ঠিক এই সময়েই ভালোবাসা আর নিরাপদ আশ্রয়ের কথা বলছেন পুয়ের্তো রিকোর র‍্যাপার ইয়াং মিকো। তাঁর বিশ্বাস, মানুষকে আবার মানুষের কাছে ফেরাতে সংগীতের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।

ছোট বারের স্বপ্ন থেকে বিশাল মঞ্চ

বছর কয়েক আগে পুয়ের্তো রিকোর একটি ছোট বারে নিজের গান প্রথম শোনান ইয়াং মিকো। তখন তিনি একজন ট্যাটু শিল্পী, আর পাশে ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু মারিয়ানা লোপেজ ক্রেসপো। সেই সন্ধ্যাতেই দুজন ঠিক করেন, স্বপ্নটা বড় হবে এবং মারিয়ানা হবেন তাঁর ব্যবস্থাপক। বারের বাইরে বেরিয়ে তাঁরা যখন এল চোলি অ্যারেনার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই জন্ম নেয় এক দুঃসাহসী কল্পনা—একদিন কি এখানেই গান গাইবেন ইয়াং মিকো।

ডিসেম্বরে সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়। এল চোলিতে একক কনসার্ট করেন তিনি, এমন এক বছরের শেষে, যে বছরে বিশ্বভ্রমণ, বড় মঞ্চ আর দ্বিতীয় অ্যালবামের সাফল্য একসঙ্গে এসে দাঁড়ায় তাঁর জীবনে।

বিলি আইলিশের সফরে নতুন বন্ধন

বর্তমানে ইয়াং মিকো সফর করছেন বিলি আইলিশের সঙ্গে। ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি হলেও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে কোনো দূরত্ব নেই। ইয়াং মিকোর মতে, এই তরুণ শ্রোতারা গান বুঝতে সময় নিয়েছে, নেচেছে, আনন্দ করেছে, আর তাঁকে আপন করে নিয়েছে। দুই শিল্পীর ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের বোনের মতো সম্পর্ক, যা সামাজিক মাধ্যমে আরও গভীর হচ্ছে।

নিজের ভেতরে ফিরে যাওয়ার অ্যালবাম

ইয়াং মিকোর নতুন অ্যালবামের নাম ‘ডু নট ডিস্টার্ব’। এই নামের ভেতরেই লুকিয়ে আছে তাঁর মানসিক অবস্থার গল্প। দীর্ঘ সফর, কাজের চাপ আর প্রত্যাশার ভারে তিনি একসময় নিজেকেই হারিয়ে ফেলছিলেন। ছয় মাসের বেশি সময় পুয়ের্তো রিকোর বাইরে থাকা, পরিবার থেকে দূরে থাকা আর নিরবচ্ছিন্ন কাজ তাঁকে ক্লান্ত করে তোলে।

এই অ্যালবাম তৈরি করার সময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বাইরের সব শব্দ বন্ধ করবেন। মতামত, সমালোচনা আর চাপকে নীরব করে নিজেকেই বেছে নেবেন। তাঁর শরীর তখন তাঁকে সংকেত দিচ্ছিল, বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল, আর এই অ্যালবাম সেই থামার জায়গা হয়ে ওঠে।

হঠাৎ সহযোগিতা আর সৃষ্টির আনন্দ

এই অ্যালবামে রয়েছে লিল জনের সঙ্গে কাজ, যা শুরু হয়েছিল নিছক স্টুডিওর খেলাচ্ছলে। ভাবনাটা বাস্তবে রূপ নেয় অবিশ্বাস্য দ্রুততায়। ইয়াং মিকোর কাছে এই ধরনের অপ্রত্যাশিত সহযোগিতা সৃষ্টিশীলতারই অংশ। কোনো গান যদি মাথা থেকে না নামে, তাহলেই তিনি তাতে যুক্ত হতে রাজি।

ট্যাটুর স্মৃতি আর বিকল্প জীবন

সংগীতের আগে ইয়াং মিকোর পরিচয় ছিল ট্যাটু শিল্পী হিসেবে। জাপানি আর গ্রিক পুরাণভিত্তিক সূক্ষ্ম নকশা ছিল তাঁর প্রিয় কাজ। আজও ঘরে রাখা পুরোনো ট্যাটু যন্ত্র তাঁকে টানে। মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি সংগীত না হতো, তবে হয়তো পৃথিবী ঘুরে ঘুরে ট্যাটুই আঁকতেন।

নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মঞ্চ

মঞ্চে উঠলেই ইয়াং মিকোর কাছে সবকিছু নীরব হয়ে যায়। বিশেষ করে সমকামী ভক্তদের মুখে হাসি দেখলে তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যে সংগীত শুধু বিনোদন নয়, এটি আশ্রয়। এই পৃথিবীতে যখন নিরাপদ জায়গা কমে যাচ্ছে, তখন অন্তত তাঁর কনসার্টে মানুষ যেন ভালোবাসা আর গ্রহণযোগ্যতার স্বাদ পায়, সেটাই তাঁর লক্ষ্য।

ইয়াং মিকোর কণ্ঠে বারবার ফিরে আসে একটাই কথা—এই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভালোবাসা আর আশা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

“আমি এ বছরই দেশে ফিরব” – শেখ হাসিনা

ভালোবাসার জন্যই গান, এই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—ইয়াং মিকো

০১:৫২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

পৃথিবী এখন ক্লান্ত, বিভক্ত আর অস্থির। ঠিক এই সময়েই ভালোবাসা আর নিরাপদ আশ্রয়ের কথা বলছেন পুয়ের্তো রিকোর র‍্যাপার ইয়াং মিকো। তাঁর বিশ্বাস, মানুষকে আবার মানুষের কাছে ফেরাতে সংগীতের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।

ছোট বারের স্বপ্ন থেকে বিশাল মঞ্চ

বছর কয়েক আগে পুয়ের্তো রিকোর একটি ছোট বারে নিজের গান প্রথম শোনান ইয়াং মিকো। তখন তিনি একজন ট্যাটু শিল্পী, আর পাশে ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু মারিয়ানা লোপেজ ক্রেসপো। সেই সন্ধ্যাতেই দুজন ঠিক করেন, স্বপ্নটা বড় হবে এবং মারিয়ানা হবেন তাঁর ব্যবস্থাপক। বারের বাইরে বেরিয়ে তাঁরা যখন এল চোলি অ্যারেনার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই জন্ম নেয় এক দুঃসাহসী কল্পনা—একদিন কি এখানেই গান গাইবেন ইয়াং মিকো।

ডিসেম্বরে সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়। এল চোলিতে একক কনসার্ট করেন তিনি, এমন এক বছরের শেষে, যে বছরে বিশ্বভ্রমণ, বড় মঞ্চ আর দ্বিতীয় অ্যালবামের সাফল্য একসঙ্গে এসে দাঁড়ায় তাঁর জীবনে।

বিলি আইলিশের সফরে নতুন বন্ধন

বর্তমানে ইয়াং মিকো সফর করছেন বিলি আইলিশের সঙ্গে। ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি হলেও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে কোনো দূরত্ব নেই। ইয়াং মিকোর মতে, এই তরুণ শ্রোতারা গান বুঝতে সময় নিয়েছে, নেচেছে, আনন্দ করেছে, আর তাঁকে আপন করে নিয়েছে। দুই শিল্পীর ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের বোনের মতো সম্পর্ক, যা সামাজিক মাধ্যমে আরও গভীর হচ্ছে।

নিজের ভেতরে ফিরে যাওয়ার অ্যালবাম

ইয়াং মিকোর নতুন অ্যালবামের নাম ‘ডু নট ডিস্টার্ব’। এই নামের ভেতরেই লুকিয়ে আছে তাঁর মানসিক অবস্থার গল্প। দীর্ঘ সফর, কাজের চাপ আর প্রত্যাশার ভারে তিনি একসময় নিজেকেই হারিয়ে ফেলছিলেন। ছয় মাসের বেশি সময় পুয়ের্তো রিকোর বাইরে থাকা, পরিবার থেকে দূরে থাকা আর নিরবচ্ছিন্ন কাজ তাঁকে ক্লান্ত করে তোলে।

এই অ্যালবাম তৈরি করার সময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বাইরের সব শব্দ বন্ধ করবেন। মতামত, সমালোচনা আর চাপকে নীরব করে নিজেকেই বেছে নেবেন। তাঁর শরীর তখন তাঁকে সংকেত দিচ্ছিল, বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল, আর এই অ্যালবাম সেই থামার জায়গা হয়ে ওঠে।

হঠাৎ সহযোগিতা আর সৃষ্টির আনন্দ

এই অ্যালবামে রয়েছে লিল জনের সঙ্গে কাজ, যা শুরু হয়েছিল নিছক স্টুডিওর খেলাচ্ছলে। ভাবনাটা বাস্তবে রূপ নেয় অবিশ্বাস্য দ্রুততায়। ইয়াং মিকোর কাছে এই ধরনের অপ্রত্যাশিত সহযোগিতা সৃষ্টিশীলতারই অংশ। কোনো গান যদি মাথা থেকে না নামে, তাহলেই তিনি তাতে যুক্ত হতে রাজি।

ট্যাটুর স্মৃতি আর বিকল্প জীবন

সংগীতের আগে ইয়াং মিকোর পরিচয় ছিল ট্যাটু শিল্পী হিসেবে। জাপানি আর গ্রিক পুরাণভিত্তিক সূক্ষ্ম নকশা ছিল তাঁর প্রিয় কাজ। আজও ঘরে রাখা পুরোনো ট্যাটু যন্ত্র তাঁকে টানে। মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি সংগীত না হতো, তবে হয়তো পৃথিবী ঘুরে ঘুরে ট্যাটুই আঁকতেন।

নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মঞ্চ

মঞ্চে উঠলেই ইয়াং মিকোর কাছে সবকিছু নীরব হয়ে যায়। বিশেষ করে সমকামী ভক্তদের মুখে হাসি দেখলে তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যে সংগীত শুধু বিনোদন নয়, এটি আশ্রয়। এই পৃথিবীতে যখন নিরাপদ জায়গা কমে যাচ্ছে, তখন অন্তত তাঁর কনসার্টে মানুষ যেন ভালোবাসা আর গ্রহণযোগ্যতার স্বাদ পায়, সেটাই তাঁর লক্ষ্য।

ইয়াং মিকোর কণ্ঠে বারবার ফিরে আসে একটাই কথা—এই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভালোবাসা আর আশা।