দুবাইয়ের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। দুই হাজার পঁচিশ সালে দুবাই চেম্বার অব কমার্সের সদস্যদের রপ্তানি ও পুনরপ্তানির মোট মূল্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সাফল্যকে বৈশ্বিক আস্থার শক্ত প্রমাণ হিসেবে দেখছে দুবাইয়ের নেতৃত্ব।
রপ্তানি ও পুনরপ্তানিতে রেকর্ড অগ্রগতি
দুবাই চেম্বার্সের আওতাধীন তিনটি চেম্বারের একটি দুবাই চেম্বার অব কমার্স জানিয়েছে, দুই হাজার পঁচিশ সালে সদস্যদের রপ্তানি ও পুনরপ্তানির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে তিনশ ছাপ্পান্ন দশমিক পাঁচ বিলিয়ন দিরহাম। আগের বছরের তুলনায় যা পনেরো দশমিক এক শতাংশ বেশি। দুই হাজার চব্বিশ সালে এই অঙ্ক ছিল তিনশ নয় দশমিক ছয় বিলিয়ন দিরহাম।

নেতৃত্বের বক্তব্যে আস্থার প্রতিফলন
দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম বলেন, দুবাই চেম্বার্সের এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি তাদের যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এটি দুবাইয়ের অর্থনৈতিক পরিবেশের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার গভীরতা এবং ব্যবসায়ী সমাজের শক্তি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের নেতৃত্বে দুবাই ধারাবাহিকভাবে নতুন অর্থনৈতিক মানদণ্ড স্থাপন করছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, শক্তিশালী বিধিব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরিই এই অগ্রগতির মূল ভিত্তি। এই সাফল্য দুবাই অর্থনৈতিক কর্মসূচি ডি তেত্রিশ বাস্তবায়নে গতি এনে দিয়েছে।
ব্যবসা সম্প্রসারণে ধারাবাহিক গতি
দুই হাজার চব্বিশ সালে প্রথমবারের মতো সদস্যদের রপ্তানি ও পুনরপ্তানির সম্মিলিত মূল্য তিনশ বিলিয়ন দিরহাম ছাড়িয়েছিল। তার পরের বছরেও এই ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকা প্রমাণ করে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তন সত্ত্বেও দুবাইয়ের ব্যবসায়ীরা নতুন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পেরেছেন।

সদস্য সংখ্যা ও সেবায় বিস্তার
দুই হাজার পঁচিশ সালে একাত্তর হাজার আটশ ত্রিশটি নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ায় চেম্বারের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ বিরানব্বই হাজার চারশ ছিয়াশি। আগের বছরের তুলনায় এই বৃদ্ধি তেরো দশমিক দুই শতাংশ।
এই সময়ে আট লাখ বাহান্ন হাজার একশ চুরাশি উৎস সনদ ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ছয় হাজার এটিএ কারনেট ইস্যু ও গ্রহণ করা হয়, যার মোট মূল্য পাঁচ দশমিক ছয় বিলিয়ন দিরহাম ছাড়িয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা
দুবাই চেম্বার অব কমার্স দুই হাজার পঁচিশ সালে একশ ত্রিশটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে। আগের বছরের তুলনায় যা চৌদ্দ শতাংশ বেশি।
আইন ও অংশীদারিত্বে সক্রিয় ভূমিকা

ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়ে চেম্বার চুয়ান্নটি আইন ও খসড়া আইন পর্যালোচনা করেছে। বেসরকারি খাতের প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য অংশ গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী কাউন্সিলের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক এবং নতুন দেশভিত্তিক ব্যবসায়ী কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।
বিরোধ নিষ্পত্তি ও আইনি সচেতনতা
দুই হাজার পঁচিশ সালে চেম্বারে দুই শত একটির বেশি মধ্যস্থতার আবেদন আসে। এর বড় অংশই নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের জন্য আইনগত সচেতনতা কর্মশালা আয়োজন করে বিধি মেনে চলার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পারিবারিক ব্যবসার ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি
দুবাই চেম্বার্সের অধীন পারিবারিক ব্যবসা কেন্দ্র বিশেষ পরামর্শ সেবা চালু করেছে। এর লক্ষ্য পারিবারিক ব্যবসাগুলোকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের জন্য আরও প্রস্তুত করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















