ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনা প্রশমিত করতে নতুন পথে হাঁটছে চীন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্রাসেলসকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কৌশল নিয়েছে বেইজিং। বছরের শুরুতেই এই ‘মোহন অভিযান’ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
প্রাগে প্রতীকী সৌহার্দ্যের বার্তা
এই সপ্তাহে চীনের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী হুয়া চুনইং প্রাগ সফরে গিয়ে চেক প্রজাতন্ত্রের এক শীর্ষ আইনপ্রণেতার হাতে একটি সজ্জিত চীনামাটির থালা তুলে দেন। এই উপহারকে প্রাগ ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপজুড়ে এই দৃশ্য আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকের কাছে এটি ছিল এমন এক প্রতীক, যা দেখাচ্ছে—আটলান্টিকের ওপারের পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার পর ইউরোপের সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া রাজধানীগুলোকেও লক্ষ্য করে এগোচ্ছে চীনের কূটনীতি।

ইউরোপজুড়ে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ
২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইউরোপীয় সরকারগুলোর সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ শুরু করেছে চীন। কিছু দেশকে বাজারে প্রবেশাধিকার, কিছু ক্ষেত্রে ভিসা সুবিধা এবং নানা প্রতীকী সৌজন্যের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। অথচ একই সময়ে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ফ্রান্সে উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা থেকে শুরু করে আয়ারল্যান্ড ও স্পেনের জন্য গরু ও শূকরের মাংসের বাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে চীন দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে ইউরোপীয় কমিশনের আসন্ন কঠোর বাণিজ্য নীতির প্রস্তুতি, যা চীনের জন্য আরেকটি সংঘাতপূর্ণ বছর ডেকে আনতে পারে।
ইইউর ভেতরে বিভাজন তৈরির অভিযোগ
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চীনা কূটনীতিকরা সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে এই যোগাযোগের মাধ্যমে ব্রাসেলসে নেওয়া নীতিগুলোর সমালোচনা করছেন এবং ২৭ দেশের জোটের মধ্যে মতভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই মোহন অভিযান এখন পুরো দমে চলছে। তাঁর ভাষায়, ব্রাসেলসে চীনের অবস্থান শক্ত না হলেও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে তারা বেশি সুবিধা আদায় করতে পারবে—এ কথা বেইজিং ভালোভাবেই জানে।
ব্রাসেলসের শর্তসাপেক্ষ আগ্রহ
২০২৬ সালের শুরুতে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ব্রাসেলসেও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে কিছুটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই উন্নতি নির্ভর করবে চীনের বাণিজ্য নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্কের গতিপথের ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















