আফগানিস্তানে নারীদের ও কিশোরীদের পুষ্টিহীনতার সংকট ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা ও সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে দেশটির লাখো নারী ও শিশু জীবনসংকটে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। জাতিসংঘের এই সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু মানবিক নয়, নৈতিক বিপর্যয়ের দিকেও ইঙ্গিত করছে।
পুষ্টিহীনতার গভীরতর চিত্র
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আফগানিস্তান পরিচালক জন আইলিফ জানিয়েছেন, আগামী বারো মাসে দেশটিতে প্রায় পঞ্চাশ লাখ নারী ও শিশু তীব্র পুষ্টিহীনতার শিকার হবে। এটি এমন এক ধরনের পুষ্টিহীনতা, যা সরাসরি জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করে। চল্লিশ মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার এই দেশে প্রায় চল্লিশ লাখ শিশুর বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিসংখ্যানকে তিনি ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন।

সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব
দুই হাজার একুশ ও দুই হাজার বাইশ সালে আফগানিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা তুলনামূলকভাবে উদার ছিল। কিন্তু এরপর ধারাবাহিকভাবে তহবিল কমানো হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জন্য দুই হাজার চব্বিশ সালে ঘোষিত ছয়শ মিলিয়ন ডলারের অনুদান পরের বছর অর্ধেকে নেমে আসে। এর ফলে বহু এলাকায় শিশুদের পুষ্টিচিকিৎসা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না।
নারী ও মায়েদের নিঃশব্দ ত্যাগ
চলতি বছরে সবচেয়ে উদ্বেগজনক যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীদের মধ্যে পুষ্টিহীনতার দ্রুত বৃদ্ধি। খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় অনেক নারী নিজের খাবার কমিয়ে সন্তানদের খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন। এতে তাঁদের নিজের স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

হতাশা থেকে সামাজিক বিপর্যয়
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি যেসব এলাকায় সহায়তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, সেখানে ভয়ংকর সামাজিক চিত্র দেখা যাচ্ছে। খাবারের জোগান নিশ্চিত করতে পরিবারগুলো কিশোরী মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিচ্ছে। অনেক শিশু পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নামতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে সংস্থাটির কাছে মরিয়া নারীদের অসংখ্য ফোন আসছে, যার মধ্যে আত্মহত্যার আকুতিও রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে সংস্থার কর্মকর্তারা অত্যন্ত আতঙ্কজনক বলে বর্ণনা করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অভিযোগ
জন আইলিফ বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যাদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের, তাদেরই আজ পরিত্যাগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা না থাকলে অপুষ্ট শিশুদের চিকিৎসা অসম্ভব হয়ে পড়ে, আর এর পরিণতি মৃত্যু। দূরবর্তী অঞ্চল থেকে মায়েরা সন্তানকে কাঁধে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে ক্লিনিকে এসে যখন শুনছেন যে চিকিৎসার জন্য আর অর্থ নেই, তখন সেই দৃশ্য যে কতটা হৃদয়বিদারক, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















