রাস্তায় ছুটে বেড়াচ্ছে ভার্ভেট বানর
মিসৌরির সেন্ট লুইস শহরে এক বা একাধিক ভার্ভেট বানর বিচরণ করছে এমন খবর বাসিন্দাদের বিস্মিত ও কিছুটা আতঙ্কিত করেছে। শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আফ্রিকা অঞ্চল থেকে আসা এই ছোট বানরগুলো ৭ থেকে ১৭ পাউন্ড ওজনের এবং হালকা সবুজাভ লোম থাকায় ‘সবুজ বানর’ নামেও পরিচিত। এখনো নিশ্চিত করা যায়নি যে তারা কোথা থেকে এসেছে; কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, তারা হয়তো কোনো সংগ্রহকারী বা অবৈধ পোষা প্রাণীর মালিকের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে। প্রাণীবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভার্ভেট বানর বুদ্ধিমান ও দলবদ্ধ প্রাণী এবং ভয় বা চাপ অনুভব করলে আচরণ পরিবর্তন করতে পারে। শহর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অনুরোধ করেছে, বানরগুলোর কাছে না যেয়ে কেবল তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নিরাপদে উদ্ধার করতে পারবে।
বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মিত ছবি
এদিকে, উদ্ধার তৎপরতায় নতুন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভুয়া ছবি ও ভিডিও। অনেক ব্যবহারকারী এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বানরদের ছবি তৈরি করে শেয়ার করছেন বা অন্য স্থানের ছবি সেন্ট লুইসে তোলা বলে প্রচার করছেন, এতে বাসিন্দারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা ভুল সংকেত পেয়ে সময় নষ্ট করছেন। শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, অনেকে যে ছবি ছড়াচ্ছেন তা আসল নয়। মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে যে কোনো ছবি শেয়ার করার আগে উৎস যাচাই করতে এবং আনুষ্ঠানিক সূত্রের তথ্য অনুসরণ করতে।
এই ঘটনা বিরল প্রাণী পালন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার সূচনা করেছে। বেশ কয়েকজন স্থানীয় আইনপ্রণেতা বাড়িতে বানরসহ বন্য প্রাণী পালনের উপর কঠোর বিধিনিষেধের দাবি জানাচ্ছেন, কারণ এগুলো বিশেষ যত্ন দাবি করে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রাণী সুরক্ষা কর্মীরা জোর দিচ্ছেন, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বানরগুলোর নিরাপদ উদ্ধার এবং তাদের যথোপযুক্ত আশ্রয় দেওয়া। ঘটনাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তির যুগে ভুল তথ্য কত দ্রুত ছড়াতে পারে এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















