শীত ও তথ্যপ্রযুক্তির চাহিদায় নির্গমন বৃদ্ধি
একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন প্রায় ২.৪% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে প্রথম বেড়ে যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির তুলনায় এই বৃদ্ধির হার বেশি এবং এটি দেশের জলবায়ু লক্ষ্যের পথে বড় বাধা। শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ায় তাপের চাহিদা বাড়ে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খনির জন্য ডেটা সেন্টার দ্রুত প্রসারিত হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়ে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো বেশি কয়লা‑চালিত প্লান্ট চালু করতে বাধ্য হয়, ফলে বিদ্যুৎ খাতের নির্গমন প্রায় ৪% বেড়েছে।
স্বাধীন গবেষণা সংস্থা রোডিয়াম গ্রুপের হিসাবে ২০২৫ সালে ভবনগুলোতে সরাসরি জ্বালানির ব্যবহার প্রায় ৬.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাপক ঠান্ডার কারণে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তেল ও গ্যাস পুড়িয়ে গরম করার দরকার হয়েছে। একই সঙ্গে বিটকয়েন খনির ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডেটা সেন্টারের বৃদ্ধি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা তৈরি করেছে। অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবসরে যাওয়ার পথে এবং গ্যাসের জোগান সীমিত থাকায় গ্রিড অপারেটররা পুরনো কয়লা প্লান্টের দিকে ফিরে গেছে, এতে কয়লার ওপর নির্ভরতা সাময়িকভাবে আবার বেড়েছে।
![]()
লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি
এই বৃদ্ধির মধ্যেও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য ছিল। ২০২৫ সালে পারমাণবিক, বায়ু, সৌর ও জলবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪২% বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও, অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার এই ইতিবাচক প্রবণতা ম্লান করে দিয়েছে। নতুন প্রশাসনের নীতিগত শিথিলতার প্রভাব এখনো পরিসংখ্যানে পড়েনি, তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে পরিবেশগত নিয়ম শিথিল এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রণোদনা কমালে আগামী বছরগুলোতে অগ্রগতি ধীর হতে পারে।
রিপোর্টের সঙ্গে যুক্ত জ্বালানি বিশ্লেষক বেন কিং বলেছেন, সাম্প্রতিক নির্গমন হ্রাস কতটা নাজুক ছিল এটি সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিদ জনাথন ওভারপেক মনে করেন, উষ্ণতর হলেও অস্থির আবহাওয়া তাপের চাহিদা বাড়াতে পারে এবং অনেকে দক্ষতা বাড়ানোর পরিবর্তন স্থগিত রাখবে। উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ, তাপ ব্যবস্থার বিদ্যুতায়ন ও কয়লার ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

গবেষণাটি আবহাওয়া, প্রযুক্তি ও নীতির পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টার আরও বিস্তৃত হওয়ায় এগুলো বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় দ্রুত বাড়তে থাকা গ্রাহকে পরিণত হবে। শক্তি সাশ্রয়ী মানদণ্ড ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিলে এই খাতকে টেকসই রাখা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের মত। একই সঙ্গে, কয়লা বিদ্যুৎ থেকে সরে এসে গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে জ্বালানি সংস্থাগুলো বিকল্প খুঁজছে।
ভবিষ্যতে আবহাওয়া ও নীতির ওপর নির্ভর করে নির্গমন ওঠানামা করতে পারে, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব এড়াতে সামগ্রিক প্রবণতা নিম্নমুখী করতে হবে। ২০২৫ সালের বৃদ্ধি স্মরণ করিয়ে দেয় যে কার্বন হ্রাস নিয়ে আত্মতুষ্টি চলে না এবং পরিষ্কার শক্তিতে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















