নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি ক্ষমতা ব্যবহারের এক নতুন ধারণা সামনে এনেছেন। ডানপন্থী জনতা বাদের মাধ্যমে যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনিক ক্ষমতাকে আগ্রাসীভাবে ব্যবহার করছেন, তেমনি বামপন্থী জনতাবাদের ভিন্ন রূপ পরীক্ষার পথে হাঁটছেন মামদানি। তাঁর দাবি, শহরের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে সিটি হল আর দ্বিধায় ভুগবে না। এই অঙ্গীকার নিউইয়র্কের রাজনীতিতে যেমন আশা জাগাচ্ছে, তেমনি বিতর্ক বাড়াচ্ছে।
ক্ষমতা নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
জানুয়ারির প্রথম দিনে শপথ বক্তৃতায় মামদানি শুধু নতুন রাজনীতির কথা বলেননি, বরং ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে এক কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগে আর শিথিলতা থাকবে না। এই বক্তব্য অনেকের কাছে বামপন্থী জনতাবাদের স্পষ্ট ঘোষণা, যেখানে রাষ্ট্র নিজেই সক্রিয় ভূমিকা নেবে।

স্কুল নীতি বদল এবং বাস্তবতার ইঙ্গিত
নির্বাচনী প্রচারে যেই স্কুল ব্যবস্থা নিয়ে তিনি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলেছিলেন, ক্ষমতায় এসে সেখান থেকে সরে আসেন মামদানি। স্কুল পরিচালনায় সিটি হলের কর্তৃত্ব ধরে রাখার সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয়, আদর্শের চেয়ে কার্যকারিতাকেই তিনি প্রাধান্য দিতে চাইছেন। এতে শিক্ষক সংগঠন অসন্তুষ্ট হলেও প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর আপস স্পষ্ট হয়েছে।
সরকারি কর্মদক্ষতা নিয়ে কড়া বার্তা
শপথ বক্তৃতায় মামদানি বেসরকারি খাতের সাফল্যের উদাহরণ টেনে সরকারি কর্মীদের কাছেও একই মানের কাজ দাবি করেন। এই বক্তব্য ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিতে বিরল এবং সরাসরি পৌর কর্মচারী ইউনিয়নের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়। তবে বামপন্থী জনতাবাদের দৃষ্টিতে, এই ইউনিয়নগুলোই দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার অংশ।

বিতর্কিত নিয়োগ ও আবাসন রাজনীতি
ভাড়াটে সুরক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে সিয়া উইভারকে নিয়োগ মামদানির সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অতীত মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। সমালোচকদের মতে, আবাসন বাজারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে হাজার হাজার ফ্ল্যাট খালি পড়ে আছে। মামদানির সমর্থকরা বলছেন, শহরকে দীর্ঘমেয়াদে সবার জন্য বাসযোগ্য করতেই এই নীতি।
পূর্বসূরির উত্তরাধিকার ও সুবিধাজনক পরিস্থিতি
এরিক অ্যাডামসের বিশৃঙ্খল শাসনের পর মামদানি এমন এক সময় ক্ষমতায় এসেছেন, যখন অপরাধ কম, শিক্ষার মান উন্নতির পথে এবং আবাসন নির্মাণে নতুন পরিকল্পনা কার্যকর। এসব ইতিবাচক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই তিনি পরিবর্তনের কথা বলছেন এবং আগের প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও রেখে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মধুচন্দ্রিমা ও সামনে কঠিন বাস্তবতা
শুরুর মাসগুলোতে জনপ্রিয়তা ও প্রশংসা পেলেও মামদানির সামনে বাজেট সামলানো, রাজ্য সরকার ও সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে সমঝোতার কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একক সিদ্ধান্তের সুযোগ তাঁর নেই। প্রথম বড় সংকটই ঠিক করে দেবে, নিউইয়র্কে বামপন্থী জনতাবাদ কতটা দূর যেতে পারবে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















