১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
জিয়ানিসের নতুন গন্তব্য কি মায়ামি? বাকস ছাড়ার জোর গুঞ্জনে সরগরম এনবিএ বিশ্বকাপে ইরানের নাটকীয় শুরু, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উত্থান, বাড়ছে অবিশ্বাস ও বিভাজন তালেবান শাসনের পাঁচ বছর: আফগানদের প্রশ্ন, আর কত অপেক্ষা করবে বিশ্ব? হরমুজ সংকটের ধাক্কায় ঋণ ফাঁদে উন্নয়নশীল দেশ, বাড়ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি এনএফএলে হারিয়ে গেলেও সংগ্রাহকদের কাছে অমর ইউএসএফএল, পুরোনো ট্রেডিং কার্ডে বাড়ছে আগ্রহ ইরান টিকে থাকল, বদলে যাচ্ছে উপসাগরীয় শক্তির সমীকরণ শহরে ঢুকে পড়ছে ভালুক, বাড়ছে আতঙ্ক: মানুষের ভয় হারাচ্ছে বন্য প্রাণী হরমুজ প্রণালি খুলছে, কিন্তু তেলবাহী জাহাজে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা মেসির হ্যাটট্রিক, মেসির রেকর্ড, মেসির চোখে জল

বিজ্ঞান বাজেট কাটছাঁটে ট্রাম্পের প্রস্তাব, নীরবে রুখে দাঁড়ালেন রিপাবলিকানরা

মার্কিন রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। শুল্কনীতি, পররাষ্ট্রনীতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে প্রায়ই এক সুরে কথা বলতে দেখা গেছে কংগ্রেসের এই দলটিকে। কিন্তু বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও মহাকাশ গবেষণার অর্থায়নের প্রশ্নে এবার ভিন্ন ছবি ফুটে উঠছে। নীরবে হলেও হোয়াইট হাউসের প্রস্তাবিত বড় কাটছাঁটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাই।

বাজেট সংকটের ভেতরে বিতর্ক

চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলছে যুক্তরাষ্ট্রে। জানুয়ারির শেষের মধ্যে বাজেট পাস না হলে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মহাকাশ সংস্থার বিজ্ঞান খাতে প্রায় অর্ধেক অর্থ কমানোর প্রস্তাব দেন। জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা ও জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার ক্ষেত্রেও প্রস্তাব আসে বড় আকারের বাজেট হ্রাস ও পুনর্গঠনের। মোট প্রস্তাবিত কাটছাঁটের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

Pro-science Republicans are fending-off cuts to funding

কংগ্রেসে বাধার মুখে প্রস্তাব

এই প্রস্তাব কংগ্রেসে তেমন সমর্থন পায়নি। জানুয়ারির শুরুতেই প্রতিনিধি পরিষদ বিপুল ভোটে এই কাটছাঁট প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রধান সংস্থাগুলোর জন্য আগের বছরের কাছাকাছি অর্থ বরাদ্দ রেখে নতুন অর্থায়ন বিল পাস হয়। কোথাও সামান্য কাটছাঁট থাকলেও কোথাও আবার বরাদ্দ বেড়েছে। সিনেটেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থার কাঠামো ভাঙা বা তীব্র বাজেট হ্রাসের প্রস্তাব দুই কক্ষের নেতৃত্বই নাকচ করে দিয়েছে, যেখানে দ্বিদলীয় সমর্থন স্পষ্ট।

পেছনের গল্প ও রাজনৈতিক হিসাব

এই প্রতিরোধের সূচনা হয়েছিল আগের গ্রীষ্মে। টেক্সাসের এক প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর নিজ রাজ্যের স্বার্থ জড়িত থাকায় মহাকাশ কর্মসূচির অর্থ বাঁচাতে এগিয়ে আসেন এবং অতিরিক্ত অর্থও যোগ করেন। পরে আলাবামার আরেক সিনেটর স্বাস্থ্য গবেষণার জন্য আটকে রাখা বিপুল অর্থ ছাড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

Democrats Have Given Up on Private Health Care Markets — and for Good Reason

জনসমর্থন ও বাস্তবতা

বিজ্ঞান গবেষণার পক্ষে জনসমর্থন শক্তিশালী। ক্যানসার, স্মৃতিভ্রংশ সহ জটিল রোগে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—সবার পরিবারই আক্রান্ত হয়। গবেষণায় বিনিয়োগ মানে শুধু ভবিষ্যতের চিকিৎসা নয়, বর্তমানেও কর্মসংস্থান ও স্থিতিশীল অর্থপ্রবাহ। বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে এই অর্থ ছড়িয়ে পড়ে লাল ও নীল—সব রাজ্যেই। বিজ্ঞানভিত্তিক বহু সংগঠন বিভিন্ন রাজ্যে প্রচার চালিয়ে দেখিয়েছে, অনুদান বাতিল হলে স্থানীয় অর্থনীতি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রোগী সংগঠনের চাপ

রোগী অধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তারা ফোনকল, ইমেইল ও সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ বাড়ায়।নির্বাচনী ভাবে দুর্বল আসনগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয় বড় আকারের প্রচার অভিযান। এই চাপ রাজনীতিকদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য করেছে।

What's in Store for Science in Republicans' Reconciliation Bill - AIP.ORG

নীরব প্রতিরোধের রাজনীতি

অতীতে বিজ্ঞান বাজেটে রিপাবলিকানরা প্রায়ই ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছেন। এবারও তারা প্রকাশ্য বক্তৃতার বদলে বাজেট ক্ষমতাকেই হাতিয়ার করেছেন। বড় কোনো ঘোষণায় না গিয়ে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ নীতিতে বিজ্ঞান অর্থায়ন এমন একটি ক্ষেত্র হতে পারে, যেখানে কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের বিশ্বাস ও বাস্তব স্বার্থ ট্রাম্পের আকস্মিক পরিবর্তনের প্রবণতা কে ছাপিয়ে যাবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়ানিসের নতুন গন্তব্য কি মায়ামি? বাকস ছাড়ার জোর গুঞ্জনে সরগরম এনবিএ

বিজ্ঞান বাজেট কাটছাঁটে ট্রাম্পের প্রস্তাব, নীরবে রুখে দাঁড়ালেন রিপাবলিকানরা

০৬:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। শুল্কনীতি, পররাষ্ট্রনীতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে প্রায়ই এক সুরে কথা বলতে দেখা গেছে কংগ্রেসের এই দলটিকে। কিন্তু বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও মহাকাশ গবেষণার অর্থায়নের প্রশ্নে এবার ভিন্ন ছবি ফুটে উঠছে। নীরবে হলেও হোয়াইট হাউসের প্রস্তাবিত বড় কাটছাঁটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাই।

বাজেট সংকটের ভেতরে বিতর্ক

চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলছে যুক্তরাষ্ট্রে। জানুয়ারির শেষের মধ্যে বাজেট পাস না হলে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মহাকাশ সংস্থার বিজ্ঞান খাতে প্রায় অর্ধেক অর্থ কমানোর প্রস্তাব দেন। জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা ও জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার ক্ষেত্রেও প্রস্তাব আসে বড় আকারের বাজেট হ্রাস ও পুনর্গঠনের। মোট প্রস্তাবিত কাটছাঁটের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

Pro-science Republicans are fending-off cuts to funding

কংগ্রেসে বাধার মুখে প্রস্তাব

এই প্রস্তাব কংগ্রেসে তেমন সমর্থন পায়নি। জানুয়ারির শুরুতেই প্রতিনিধি পরিষদ বিপুল ভোটে এই কাটছাঁট প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রধান সংস্থাগুলোর জন্য আগের বছরের কাছাকাছি অর্থ বরাদ্দ রেখে নতুন অর্থায়ন বিল পাস হয়। কোথাও সামান্য কাটছাঁট থাকলেও কোথাও আবার বরাদ্দ বেড়েছে। সিনেটেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থার কাঠামো ভাঙা বা তীব্র বাজেট হ্রাসের প্রস্তাব দুই কক্ষের নেতৃত্বই নাকচ করে দিয়েছে, যেখানে দ্বিদলীয় সমর্থন স্পষ্ট।

পেছনের গল্প ও রাজনৈতিক হিসাব

এই প্রতিরোধের সূচনা হয়েছিল আগের গ্রীষ্মে। টেক্সাসের এক প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর নিজ রাজ্যের স্বার্থ জড়িত থাকায় মহাকাশ কর্মসূচির অর্থ বাঁচাতে এগিয়ে আসেন এবং অতিরিক্ত অর্থও যোগ করেন। পরে আলাবামার আরেক সিনেটর স্বাস্থ্য গবেষণার জন্য আটকে রাখা বিপুল অর্থ ছাড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

Democrats Have Given Up on Private Health Care Markets — and for Good Reason

জনসমর্থন ও বাস্তবতা

বিজ্ঞান গবেষণার পক্ষে জনসমর্থন শক্তিশালী। ক্যানসার, স্মৃতিভ্রংশ সহ জটিল রোগে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—সবার পরিবারই আক্রান্ত হয়। গবেষণায় বিনিয়োগ মানে শুধু ভবিষ্যতের চিকিৎসা নয়, বর্তমানেও কর্মসংস্থান ও স্থিতিশীল অর্থপ্রবাহ। বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে এই অর্থ ছড়িয়ে পড়ে লাল ও নীল—সব রাজ্যেই। বিজ্ঞানভিত্তিক বহু সংগঠন বিভিন্ন রাজ্যে প্রচার চালিয়ে দেখিয়েছে, অনুদান বাতিল হলে স্থানীয় অর্থনীতি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রোগী সংগঠনের চাপ

রোগী অধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তারা ফোনকল, ইমেইল ও সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ বাড়ায়।নির্বাচনী ভাবে দুর্বল আসনগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয় বড় আকারের প্রচার অভিযান। এই চাপ রাজনীতিকদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য করেছে।

What's in Store for Science in Republicans' Reconciliation Bill - AIP.ORG

নীরব প্রতিরোধের রাজনীতি

অতীতে বিজ্ঞান বাজেটে রিপাবলিকানরা প্রায়ই ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছেন। এবারও তারা প্রকাশ্য বক্তৃতার বদলে বাজেট ক্ষমতাকেই হাতিয়ার করেছেন। বড় কোনো ঘোষণায় না গিয়ে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ নীতিতে বিজ্ঞান অর্থায়ন এমন একটি ক্ষেত্র হতে পারে, যেখানে কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের বিশ্বাস ও বাস্তব স্বার্থ ট্রাম্পের আকস্মিক পরিবর্তনের প্রবণতা কে ছাপিয়ে যাবে।