আমেরিকার সংস্কৃতিতে আলাদা করে জায়গা করে নেওয়া একক পরিবারের বাড়ি বহুদিন ধরেই স্বপ্নের প্রতীক। পরিচ্ছন্ন বাগান, সাদা বেড়া আর শান্ত পাড়া—এই চিত্র যেমন আবেগ জাগায়, তেমনি করপোরেট বাড়িওয়ালাদের নাম শুনলেই অনেকের মধ্যে জন্ম নেয় বিরক্তি ও সন্দেহ। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে এই আবেগকেই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে প্রশাসন।
নির্বাচনী বছরে রাজনৈতিক ঘোষণা
চলতি জানুয়ারির শুরুতে প্রেসিডেন্ট একক পরিবারের বাড়ি কেনায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষিদ্ধ করার উদ্যোগের কথা ঘোষণা দেন। লক্ষ্য, আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি আইনে পরিণত করা। বাড়ির দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষকে প্রশমিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এক জরিপে দেখা যায়, বাড়ির দাম বেশি হওয়ার পেছনে বিনিয়োগকারীদের মুনাফার লোভকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন প্রায় অর্ধেক মানুষ।

বাস্তব চিত্রে করপোরেট মালিকানা কতটা
তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে বিক্রি হওয়া একক পরিবারের বাড়ির প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ বিনিয়োগকারীদের হাতে গেছে। কিন্তু এই বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই ছোট মালিক। অল্প কয়েকটি বাড়ির মালিক এমন বিনিয়োগকারীরাই বাজারে সবচেয়ে সক্রিয়। বড় করপোরেট সংস্থাগুলোর দখলে যাওয়া বাড়ির হার মোটের ওপর খুবই সামান্য। সারা দেশে একক পরিবারের মোট বাড়ির এক শতাংশেরও কম করপোরেট মালিকানায় রয়েছে। অধিকাংশ জেলায় এই হার আরও নগণ্য।
বাজারে করপোরেট ভূমিকার অন্য দিক
যেসব শহরে এই সংস্থাগুলো সক্রিয়, সেখানে তারা বাড়ির জোগান বাড়াতে অর্থায়ন করছে। আর্থিক সংকটের পর থেকে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় করপোরেট বিনিয়োগকারীরা এই বাজারে প্রবেশ করেছে। তারা নির্মাণ খরচ কমানোর নতুন প্রযুক্তিও গ্রহণ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাড়ির দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

ভাড়াটিয়াদের বাস্তবতা
একটি বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, তাদের মালিকানাধীন বাড়িতে থাকা অধিকাংশ বাসিন্দাই নিজেরা বাড়ি কেনার মতো ঋণের যোগ্য নন। এই বিনিয়োগ তুলনামূলক কম ঝুঁকির এবং মুদ্রাস্ফীতিকে টপকানোর মতো রিটার্ন দেয়। তবে এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
নিষেধাজ্ঞা কি সমাধান
বিশ্লেষকদের মতে, করপোরেট বাড়িওয়ালাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো সহজ হলেও এতে আসল সমস্যার সমাধান হবে না। আবাসন বাজারের বর্তমান সংকট মূলত আগের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সরবরাহ ঘাটতির ফল। করপোরেট মালিকানা নিষিদ্ধ করলেও বাড়ির দাম কমবে না, বরং বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















