আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সফল করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক পক্ষের ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার তিনি বলেন, জয়–পরাজয় নির্বিশেষে সবাইকে নির্বাচনের সাফল্যের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিতের অঙ্গীকার
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত থাকলে তা সরকারকে জানাতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয় দ্রুত নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে এবং প্রয়োজন হলে সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।

জামায়াতের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক
রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার ও রফিকুল ইসলাম খান। বৈঠকে উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, আদিলুর রহমান খান ও মুহাম্মদ ফাউজুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী পরিবেশ ও সম্মিলিত দায়িত্ব
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন নির্ধারিত তারিখেই অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ বা এলোমেলো নির্বাচন হবে না। সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ব হলো একটি ন্যায্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ জন্য তিনি সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন।
জামায়াতের প্রচারণা পরিকল্পনা
বৈঠকে জামায়াত নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তারা পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও প্রচারণা চলবে। ওই তারিখ থেকে দুটি প্রচারণা একযোগে পরিচালিত হবে বলে তারা জানান। পাশাপাশি তারা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্বেগ ও বিষয় প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদার
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস জানান, অচিরেই অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হবে। জানুয়ারির শেষ নাগাদ এসব স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা সরবরাহ করা হবে এবং একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারের আইনি বিষয়
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণার বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং এতে কোনো আইনি বাধা পাওয়া যায়নি।

সংস্কার ও অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা করা। নির্বাচনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যুক্ত করে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সময়ে সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ হটলাইন সার্বক্ষণিক চালু থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















