০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্যারিসের ছোট ঘরে নতুন জীবন: ভাঙা সংসার থেকে নিজের পথে ক্লোইর সাহসী যাত্রা সবচেয়ে কার্যকর মেনোপজ ফিটনেস কৌশল চাঁদের আড়াল থেকে পৃথিবীর বিদায়: ইতিহাসে প্রথমবার দেখা গেল অনন্য সূর্যগ্রহণ ফ্যাশন ও প্রযুক্তির নতুন জোট: স্মার্ট চশমা থেকে ফিফথ অ্যাভিনিউ—নতুন যুগের শুরু বেগুনি রঙের জাদুতে বিশ্বজয়: খাবারের দুনিয়ায় উবের উত্থানের গল্প সময়ের নতুন ভাষা: আধুনিক ঘড়িতে ফিরে এলো ইতিহাসের স্পন্দন স্মৃতির শহর হারিয়ে যাচ্ছে: বোম্বে নিয়ে ডিএজি প্রদর্শনীতে উঠে এল বিস্মৃত ইতিহাস তারকার ঝলক ছাপিয়ে গয়নার জাদু: রেড কার্পেটে নতুন ট্রেন্ডের গল্প ডিলান–লেননের লিমুজিন আলাপ: সঙ্গীতের বন্ধুত্ব, দ্বন্দ্ব আর এক অস্বস্তিকর সত্য প্রোটিন আতঙ্ক নাকি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন?

স্যুটের মৃত্যু নেই, বদলাচ্ছে তার ভাষা স্যাভিল রো থেকে নিজের পথে নিনা পেনলিংটন

লন্ডনের ঐতিহাসিক স্যাভিল রো বহু শতাব্দী ধরে নিখুঁত স্যুটের প্রতীক। চার্লস ডিকেন্স থেকে উইনস্টন চার্চিল, এলটন জন—এই সড়কই গড়ে দিয়েছে বিশ্বজুড়ে টেইলরিংয়ের মানদণ্ড। সেই ধারারই এক সমসাময়িক মুখ নিনা পেনলিংটন। ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিস ছেড়ে যিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন কাপড়, কাটিং আর সুঁই-সুতোর জগৎ। তাঁর বিশ্বাস, স্যুট কখনোই মৃত নয়, বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে প্রকাশ করছে।

স্যাভিল রো থেকে শুরু
নিনা পেনলিংটনের বেড়ে ওঠা ওয়েলসের উপকূলীয় শহরে। তিন বছর বয়সেই মায়ের হাত ধরে সেলাই শেখা। বিশ্ববিদ্যালয় শেষে কয়েক বছর সরকারি চাকরি করলেও সেই জীবন তাঁকে টানেনি। অস্বস্তি আর একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে তিনি ভর্তি হন লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশনের হ্যান্ড টেইলরিং কোর্সে। সেখানেই আবিষ্কার করেন, সেলাইয়ের চেয়েও তাঁকে বেশি টানে প্যাটার্ন কাটিং। এই আগ্রহই তাঁকে পৌঁছে দেয় স্যাভিল রোর নামকরা টেইলরদের শিষ্যত্বে, যেখানে সুযোগ পাওয়াটাই ছিল বিরল।

Unpicking the Seams of Savile Row - Tempus Magazine

গুরু ও অনুপ্রেরণা
স্যাভিল রোর একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পেলেও নিনার কাজে সবচেয়ে গভীর ছাপ ফেলেছেন ডেভিড টব। তাঁর কাটিংয়ের নিখুঁততা আর দৃষ্টিভঙ্গি নিনার কাছে আজও আদর্শ। নিউইয়র্কে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা আর স্যাভিল রোর কঠোর শৃঙ্খলা মিলিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে নিনার নিজস্ব স্টাইল।

নিজের ব্র্যান্ড গড়ার সংগ্রাম
২০২৪ সালে লন্ডন ছেড়ে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমের ছোট শহরে নিজের নামে টেইলরিং ব্র্যান্ড শুরু করেন নিনা। চকচকে মোড়ক বা বিলাসী উপস্থাপনার বদলে সম্পর্ক আর বিশ্বাসকেই পুঁজি করেছেন তিনি। গ্রাহকদের সমর্থন আর পুরনো পরিচিতদের পাশে পাওয়াই তাঁকে ব্যবসার কঠিন শুরুর সময় টিকিয়ে রেখেছে। তাঁর মতে, অতিরিক্ত আড়ম্বর অনেক সময় সৃজনশীলতাকে দুর্বল করে দেয়।

বিটলস থেকে ওয়েস্টার্ন অনুপ্রেরণা
নিনার জনপ্রিয় নকশার একটি হলো বিটলস অনুপ্রাণিত ‘গেট ব্যাক’ স্যুট। ষাটের দশকের ক্লাসিক কাট, সহজ রং আর স্বাভাবিক পরিধানযোগ্যতাই এর শক্তি। অন্যদিকে তাঁর ওয়েস্টার্ন স্যুট এসেছে বহু বছরের সংগ্রহ করা শার্ট আর ভারী কাপড়ের ভাবনা থেকে। সঠিক কাপড় খুঁজে পাওয়ার পরই এই নকশা পূর্ণতা পায়, যেখানে রুক্ষতা আর সৌন্দর্য একসঙ্গে ধরা দেয়।

Nina Penlington on why suits aren't dead | Reuters

নিজের জন্য পোশাক
নারী দৃষ্টি কিংবা পুরুষ দৃষ্টির ধারণাকে নিনা ব্যবসার বাস্তবতায় স্বীকার করলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি বিশ্বাস করেন, পোশাক পরা উচিত নিজের জন্য। তাঁর মতে, স্যুট শক্তি আর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। নতুন গ্রাহকদের তিনি পরামর্শ দেন, নতুন কিছু কেনার আগে নিজের আলমারির দিকেই তাকাতে, যেন একটি স্যুটই হয়ে ওঠে বহু ব্যবহারের সঙ্গী।

স্যুটের ভবিষ্যৎ
প্রতি কয়েক বছর পরপরই শোনা যায়, স্যাভিল রো শেষ, স্যুটের যুগ শেষ। নিনার মতে, বাস্তবতা ঠিক উল্টো। টেইলররা এখন আগের চেয়ে দ্রুত বদলাচ্ছেন, ক্যাজুয়াল পরিধানের উপযোগী নকশাও আনছেন। এটি ফ্যাশনের দৌড় নয়, বরং কারিগরি দক্ষতা আর টেকসই পোশাকের দিকে ফেরার পথ। তাঁর বিশ্বাস, মানসম্মত পোশাক পছন্দ করা মানুষ শেষ পর্যন্ত টেইলরিংয়ের কাছেই ফিরবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারিসের ছোট ঘরে নতুন জীবন: ভাঙা সংসার থেকে নিজের পথে ক্লোইর সাহসী যাত্রা

স্যুটের মৃত্যু নেই, বদলাচ্ছে তার ভাষা স্যাভিল রো থেকে নিজের পথে নিনা পেনলিংটন

০১:০৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

লন্ডনের ঐতিহাসিক স্যাভিল রো বহু শতাব্দী ধরে নিখুঁত স্যুটের প্রতীক। চার্লস ডিকেন্স থেকে উইনস্টন চার্চিল, এলটন জন—এই সড়কই গড়ে দিয়েছে বিশ্বজুড়ে টেইলরিংয়ের মানদণ্ড। সেই ধারারই এক সমসাময়িক মুখ নিনা পেনলিংটন। ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিস ছেড়ে যিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন কাপড়, কাটিং আর সুঁই-সুতোর জগৎ। তাঁর বিশ্বাস, স্যুট কখনোই মৃত নয়, বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে প্রকাশ করছে।

স্যাভিল রো থেকে শুরু
নিনা পেনলিংটনের বেড়ে ওঠা ওয়েলসের উপকূলীয় শহরে। তিন বছর বয়সেই মায়ের হাত ধরে সেলাই শেখা। বিশ্ববিদ্যালয় শেষে কয়েক বছর সরকারি চাকরি করলেও সেই জীবন তাঁকে টানেনি। অস্বস্তি আর একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে তিনি ভর্তি হন লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশনের হ্যান্ড টেইলরিং কোর্সে। সেখানেই আবিষ্কার করেন, সেলাইয়ের চেয়েও তাঁকে বেশি টানে প্যাটার্ন কাটিং। এই আগ্রহই তাঁকে পৌঁছে দেয় স্যাভিল রোর নামকরা টেইলরদের শিষ্যত্বে, যেখানে সুযোগ পাওয়াটাই ছিল বিরল।

Unpicking the Seams of Savile Row - Tempus Magazine

গুরু ও অনুপ্রেরণা
স্যাভিল রোর একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পেলেও নিনার কাজে সবচেয়ে গভীর ছাপ ফেলেছেন ডেভিড টব। তাঁর কাটিংয়ের নিখুঁততা আর দৃষ্টিভঙ্গি নিনার কাছে আজও আদর্শ। নিউইয়র্কে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা আর স্যাভিল রোর কঠোর শৃঙ্খলা মিলিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে নিনার নিজস্ব স্টাইল।

নিজের ব্র্যান্ড গড়ার সংগ্রাম
২০২৪ সালে লন্ডন ছেড়ে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমের ছোট শহরে নিজের নামে টেইলরিং ব্র্যান্ড শুরু করেন নিনা। চকচকে মোড়ক বা বিলাসী উপস্থাপনার বদলে সম্পর্ক আর বিশ্বাসকেই পুঁজি করেছেন তিনি। গ্রাহকদের সমর্থন আর পুরনো পরিচিতদের পাশে পাওয়াই তাঁকে ব্যবসার কঠিন শুরুর সময় টিকিয়ে রেখেছে। তাঁর মতে, অতিরিক্ত আড়ম্বর অনেক সময় সৃজনশীলতাকে দুর্বল করে দেয়।

বিটলস থেকে ওয়েস্টার্ন অনুপ্রেরণা
নিনার জনপ্রিয় নকশার একটি হলো বিটলস অনুপ্রাণিত ‘গেট ব্যাক’ স্যুট। ষাটের দশকের ক্লাসিক কাট, সহজ রং আর স্বাভাবিক পরিধানযোগ্যতাই এর শক্তি। অন্যদিকে তাঁর ওয়েস্টার্ন স্যুট এসেছে বহু বছরের সংগ্রহ করা শার্ট আর ভারী কাপড়ের ভাবনা থেকে। সঠিক কাপড় খুঁজে পাওয়ার পরই এই নকশা পূর্ণতা পায়, যেখানে রুক্ষতা আর সৌন্দর্য একসঙ্গে ধরা দেয়।

Nina Penlington on why suits aren't dead | Reuters

নিজের জন্য পোশাক
নারী দৃষ্টি কিংবা পুরুষ দৃষ্টির ধারণাকে নিনা ব্যবসার বাস্তবতায় স্বীকার করলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি বিশ্বাস করেন, পোশাক পরা উচিত নিজের জন্য। তাঁর মতে, স্যুট শক্তি আর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। নতুন গ্রাহকদের তিনি পরামর্শ দেন, নতুন কিছু কেনার আগে নিজের আলমারির দিকেই তাকাতে, যেন একটি স্যুটই হয়ে ওঠে বহু ব্যবহারের সঙ্গী।

স্যুটের ভবিষ্যৎ
প্রতি কয়েক বছর পরপরই শোনা যায়, স্যাভিল রো শেষ, স্যুটের যুগ শেষ। নিনার মতে, বাস্তবতা ঠিক উল্টো। টেইলররা এখন আগের চেয়ে দ্রুত বদলাচ্ছেন, ক্যাজুয়াল পরিধানের উপযোগী নকশাও আনছেন। এটি ফ্যাশনের দৌড় নয়, বরং কারিগরি দক্ষতা আর টেকসই পোশাকের দিকে ফেরার পথ। তাঁর বিশ্বাস, মানসম্মত পোশাক পছন্দ করা মানুষ শেষ পর্যন্ত টেইলরিংয়ের কাছেই ফিরবে।