২০২৫ সালে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। টানা দুই বছর পতনের পর এই প্রথম দুই দেশের লেনদেন বেড়েছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা কাটার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
বাণিজ্যে বড় বৃদ্ধি, আগের স্তরে ফেরা
চীনের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীন–উত্তর কোরিয়া বাণিজ্যের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় দুইশ তেহাত্তর কোটি ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই বৃদ্ধি প্রায় ছাব্বিশ শতাংশ। মহামারির আগে ২০১৯ সালে যে স্তরে বাণিজ্য ছিল, দীর্ঘ বিরতির পর আবার সেই পর্যায়ে ফিরে এসেছে দুই দেশের লেনদেন।
২০২৪ সালে প্রায় পুরো বছরজুড়েই বাণিজ্যে নিম্নগতি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে প্রতিটি মাসেই আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়, যা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

রপ্তানি–আমদানিতে সমান গতি
২০২৫ সালে চীন থেকে উত্তর কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে প্রায় পঁচিশ শতাংশ। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া থেকে চীনে আমদানি বেড়েছে প্রায় সাতাশ শতাংশ। এর ফলে দুই দিকের বাণিজ্য ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সীমান্ত শহর দানদং এলাকায় বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়াগামী ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কাস্টমস এলাকায় জায়গা না হওয়ায় অনেক বড় ট্রাক সড়কের ওপর অপেক্ষা করছিল, যা বাণিজ্যিক তৎপরতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে
বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তর কোরিয়ার জন্য চিকিৎসা সামগ্রীর আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়কালে অপটিক্যাল মাইক্রোস্কোপের চালান বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্ত্রোপচার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার টেবিলসহ বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতির আমদানিও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এমনকি এক্স-রে মেশিনের মতো বিকিরণ নির্গতকারী যন্ত্রের আমদানিও আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হয়েছে।
২০২৫ সালে পিয়ংইয়ং সহ বিভিন্ন শহরে বড় হাসপাতাল নির্মাণ শেষ করেছে উত্তর কোরিয়া। এসব প্রকল্পের গুরুত্ব বোঝাতে দেশটির নেতা কিম জং উন একাধিকবার হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামের একটি বড় অংশ চীন থেকেই সংগ্রহ করেছে পিয়ংইয়ং।

রাশিয়া প্রসঙ্গ ও সম্পর্কের মোড় ঘোরা
মহামারির সময় ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দুই দেশের বাণিজ্য ব্যাপকভাবে কমে যায়। ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ২০২৪ সালে আবার পতন দেখা দেয়। সে সময় বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক এর পেছনে বড় কারণ।
তবে ২০২৫ সালে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। সেপ্টেম্বর মাসে দীর্ঘ ছয় বছরের বেশি সময় পর কিম জং উন চীন সফরে যান এবং বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবুও সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে
যদিও সামগ্রিকভাবে বাণিজ্য বেড়েছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। দুই দেশের মধ্যে নতুন ইয়ালু নদী সেতু এখনও চালু হয়নি, যদিও সেটি বহু আগেই নির্মাণ শেষ হয়েছে। একইভাবে পিয়ংইয়ং ও বেইজিংয়ের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচলও এখনো শুরু হয়নি। এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাণিজ্যের ইতিবাচক ধারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















