জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে ভাবনায় বসেছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত ও আচরণকে কেন্দ্র করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় থাকা না থাকার প্রশ্নটি পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) আপিল শুনানির শেষ দিনে বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এনসিপিকে তাদের নির্বাচনী অবস্থান নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। তাঁর ভাষায়, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত কি না, সে বিষয়টি দল গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি
আসিফ মাহমুদ জানান, নির্বাচন নিয়ে দলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তিনি নিজেও এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, বিষয়টি দলের রাজনৈতিক কাউন্সিল এবং ১০ দলীয় জোটের ভেতরে আলোচনা হবে। এসব আলোচনা শেষে এনসিপি তাদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।

নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাহীনতার অভিযোগ
এনসিপির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন জনআস্থা হারিয়েছে। আসিফ মাহমুদের দাবি, রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের আস্থা অর্জনে কমিশন ব্যর্থ হয়েছে, যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বর্তমান প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে না।
একতরফা সিদ্ধান্তে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ
নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তকে একতরফা বলে উল্লেখ করেন এনসিপির মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে।

আপিল শুনানির দিনে উত্তেজনার অভিযোগ
আপিল শুনানির শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনের বাইরে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, একটি বড় রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন ইচ্ছাকৃতভাবে ভিড় তৈরি করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, বাইরে ভিড় আর ভেতরে কমিশনের সঙ্গে দলীয় নেতাদের বৈঠক—সবই সাজানো ঘটনা।
আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানাল এনসিপি
নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এনসিপি তাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন প্রস্তুতিতে নতুন উপকমিটি
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রীয় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির কাজ জোরদার করতে এনসিপি একটি রাজনৈতিক লিয়াজোঁ উপকমিটি গঠন করেছে। দশ সদস্যের এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে আকরাম হোসেনকে এবং সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফয়সাল মাহমুদ। দলের নির্বাচনী কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো ও প্রস্তুতি জোরদার করাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















