দুবাইয়ের বিস্তৃত মরুভূমি এবার রূপ নিতে যাচ্ছে এক বিশাল শিল্পভূমিতে। বালুর ওপর দিয়ে নদীর মতো বয়ে যাওয়া দশ কিলোমিটার দীর্ঘ এক অনন্য শিল্পযাত্রা দর্শনার্থীদের নিয়ে যাবে একটি কেন্দ্রীয় বৃত্তাকার স্থাপনার দিকে, যার নাম ক্লিও হাউস। এই প্রকল্পে শিল্প আর স্থাপত্য এক হয়ে মরুভূমিকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে।
একটি গন্তব্য নয়, সম্পূর্ণ এক যাত্রা
এই প্রকল্পকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং এটি পরিকল্পিত হয়েছে দীর্ঘ এক পথচলার অভিজ্ঞতা হিসেবে। মরুভূমির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা বিশাল শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে হেঁটে এগোবেন দর্শনার্থীরা। প্রতিটি পথ নদীর স্রোতের মতো সামনে এগোবে এবং ধীরে ধীরে সবাইকে নিয়ে যাবে অভিজ্ঞতার কেন্দ্রবিন্দুর দিকে।
স্থাপত্য নয় শুরু, বরং শেষ
প্রকল্পের স্থপতি মাত্তেও আন্তোনেল্লি বলছেন, এখানে স্থাপত্য শুরু নয়, বরং শেষের জায়গা। মরুভূমির প্রান্ত থেকে যাত্রা শুরু করে বিভিন্ন শিল্পপথ অতিক্রম করে মানুষ পৌঁছাবে একটি বৃত্তের নিচে, যেখানে মিলিত হবে সব পথ। সেই বৃত্তাকার ভবনই প্রকল্পের মূল কেন্দ্র।

মরুভূমি থেকেই ভাবনার জন্ম
আন্তোনেল্লির ভাষায়, মরুভূমিতে দাঁড়ালে মাটি আর আকাশের সম্পর্ক খুব গভীরভাবে অনুভূত হয়, আর সূর্য যেন এই দুইকে যুক্ত করে রাখে। এই অনুভূতিই তাকে ভাবিয়েছে মরুভূমির প্রাচীন স্থাপত্য, যেমন তাঁবু আর সাধারণ টাওয়ারের কথা। সেখান থেকেই এসেছে আধুনিক ব্যাখ্যায় এই প্রকল্পের ধারণা।
বৃত্তের তাৎপর্য
প্রকল্পের হৃদয়ে রয়েছে একটি বৃত্ত। আন্তোনেল্লির মতে, বৃত্তের কোনো প্রান্ত নেই, কোনো শ্রেণিবিন্যাস নেই। এটি অবিরাম এবং প্রতীকীভাবে বোঝায় সবাই সমান। জীবনের পথে পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু গন্তব্য এক।
ক্লিও হাউসের অভিজ্ঞতা
দশ কিলোমিটার যাত্রার শেষে দর্শনার্থীরা পৌঁছাবেন ক্লিও হাউসে। এর ওপরের স্তর থেকে চারদিকে পুরো তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘুরে দেখা যাবে মরুভূমির বিস্তৃতি এবং পেছনে ফেলে আসা শিল্পপথগুলো। সেখানে হাঁটার জন্য থাকবে প্রশস্ত পথ, যেখানে দাঁড়িয়ে মরুভূমির বিশালতায় নিজেকে মুক্ত মনে হবে।
নীরবতা আর বিশ্রামের জায়গা
ক্লিও হাউসের ভেতরে থাকবে গ্রন্থাগার, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ। এখানে মানুষ বসে পড়তে, কথা বলতে বা বিশ্রাম নিতে পারবে। আন্তোনেল্লির মতে, মরুভূমির মতো শক্তিশালী প্রকৃতির মুখোমুখি হলে মানুষের ভেতরে শান্তির অনুভূতি থাকা জরুরি।
শিল্পীর চ্যালেঞ্জ নিজেকেই
এই বিশাল শিল্পকর্মটি তৈরি করছেন শিল্পী আগরন হোতি, যিনি বড় পরিসরে কাজ করার জন্য পরিচিত। তবে তার নিজের কাছেও এই প্রকল্প আলাদা। হোতির ভাষায়, ছোট ক্যানভাস সব সময়ই তাকে সীমাবদ্ধ মনে হয়েছে। তিনি সীমা চান না, বরং নিজেকেই বারবার চ্যালেঞ্জ করতে চান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















