নোভাকে সাধারণত বলা হয় হঠাৎ জ্বলে ওঠা এক ঝলক—একবারে ঘটে যাওয়া এক বিস্ফোরণ, যা কিছুদিনের জন্য আকাশে নতুন নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল দেখায়। কিন্তু নতুন উচ্চ রেজোলিউশন পর্যবেক্ষণ বলছে, নোভার শুরুটা অনেক সময় এক ধাপে নয়। একাধিক দিক থেকে বেরোনো পদার্থ, ভিন্ন গতির বহিঃপ্রবাহ, আর তাদের সংঘর্ষে তৈরি শক-তরঙ্গ—সব মিলিয়ে বিস্ফোরণটি পর্যায়ক্রমে “খুলে” যেতে পারে।
বিস্ফোরণের প্রথম দিকটা এবার দেখা যাচ্ছে কাছ থেকে
গবেষকরা একধরনের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন যেখানে একাধিক টেলিস্কোপ থেকে আসা আলো একসঙ্গে মিলিয়ে খুব সূক্ষ্ম ছবি তৈরি করা হয়। নোভার প্রথম কয়েক দিন সাধারণত সবচেয়ে কঠিন পর্যায়—কারণ বহিষ্কৃত পদার্থ ছোট, দ্রুত বদলায়, আর স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণে অনেক সূক্ষ্ম গঠন চোখ এড়িয়ে যায়।
নোভার ক্ষেত্রে একটি সাদা বামন নক্ষত্র (white dwarf) কাছের সঙ্গী নক্ষত্র থেকে হাইড্রোজেনসমৃদ্ধ গ্যাস টেনে নেয়। জমে থাকা গ্যাস একসময় জ্বলে ওঠে এবং পৃষ্ঠে থার্মোনিউক্লিয়ার প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়, কিন্তু সেই সঙ্গে বাইরে ছিটকে যাওয়া পদার্থ কীভাবে ছড়ায়—এটা এতদিন মূলত পরোক্ষ তথ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা হতো।

দুটি নোভা, দুটি আলাদা “চিত্রনাট্য”
গবেষকরা ২০২১ সালের দুটি নোভা পর্যবেক্ষণ করেছেন—একটি খুব দ্রুত চূড়ায় পৌঁছে দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়, আরেকটি ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে দীর্ঘদিন আলো ধরে রাখে। দ্রুত নোভাটি একদিনেরও কম সময়ে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় পৌঁছে কয়েক দিনের মধ্যে কমে যায়। উচ্চ রেজোলিউশন ছবিতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণটি গোলাকার নয়। বরং আলাদা আলাদা দিকের বহিঃপ্রবাহ তৈরি হয়েছে, আর তাদের সঙ্গে প্রায় লম্বাভাবে এক ধরনের গঠন ছড়িয়ে পড়েছে—যা ইঙ্গিত দেয়, একাধিক ধাপে বেরোনো পদার্থ পরস্পরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করছে।
এই মিথস্ক্রিয়ার মূল দিক হলো শক। ভিন্ন গতির পদার্থ একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেলে শক-তরঙ্গ তৈরি হয়। সেই শক থেকেই অনেক সময় উচ্চ শক্তির বিকিরণ দেখা যেতে পারে। নতুন পর্যবেক্ষণ নোভার ক্ষেত্রে “একটি বিস্ফোরণ” নয়, বরং ভিন্ন গতির একাধিক বহিঃনিক্ষেপের ধারাবাহিকতা—এমন ধারণাকে শক্ত করে।

ধীর নোভাটি আরও অপ্রত্যাশিত ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে খুব বড় আকারে ছড়িয়ে পড়া আবরণ দেখা যায়নি, বরং কেন্দ্রীভূত একটি উজ্জ্বল অঞ্চল দেখা গেছে। এতে ধারণা তৈরি হয় যে বিস্ফোরণের শুরুতেই সব গ্যাস একবারে বাইরে বেরিয়ে যায়নি; বরং কিছু পদার্থ সিস্টেমের চারপাশে “কমন এনভেলপ” আকারে বেশি সময় ছিল, পরে ধাপে ধাপে বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ধাপগুলোর সময়ও শক তৈরি হয়ে শক্তিশালী বিকিরণ ঘটতে পারে।
গত কয়েক বছরে বহু নোভায় উচ্চ শক্তির বিকিরণ ধরা পড়েছে, কিন্তু সেগুলোর মূল চালিকা শক্তি কীভাবে তৈরি হয়—এ নিয়ে গবেষণা চলছিল। এই উচ্চ রেজোলিউশন ছবি দেখাচ্ছে, নোভা হলো শক-ভিত্তিক পদার্থবিদ্যা বোঝার একটি বাস্তব ল্যাব। একই সঙ্গে, আকাশে হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে ওঠা বিভিন্ন ট্রান্সিয়েন্ট ঘটনার ব্যাখ্যাও এতে নতুন দিক পেতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, নোভা মানে কেবল “একটা মুহূর্ত” নয়। অনেক সময় এটি একটি প্রক্রিয়া—দিকনির্দেশিত, বহু-ধাপের, এবং শক-চালিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















