০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
বক্স অফিসে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এগিয়ে, ‘বোন টেম্পল’ পিছিয়ে ভূমিকম্পের পরও টিকে থাকার লড়াই ওয়াজিমার ল্যাকার শিল্প ২০২৬ সালে ঘরই হবে নিরাপদ আশ্রয়, ব্যক্তিত্বের ছাপে সাজাবে বাড়ি ড্রাগনের যুদ্ধ ছেড়ে মানুষের ভেতরের লড়াই, ওয়েস্টেরসের নীরব যুগে নতুন যাত্রা সংযুক্তিতে শক্তি, পরিবারে ভবিষ্যৎ টম ভারলেনের অজানা ভাণ্ডার খুলে গেল মৃত্যুর তিন বছর পর জনসমক্ষে নিউইয়র্ক রকের রহস্যময় কিংবদন্তি শিল্পের নদী বয়ে যাবে মরুভূমিতে, দুবাইয়ে দশ কিলোমিটার বিস্তৃত অভিজ্ঞতামূলক শিল্পযাত্রা শুরু নাটকীয় লড়াইয়ে দুবাই ইনভিটেশনাল জিতলেন এলভিরা, আবেগে ভাসা এক স্বপ্নপূরণ রোকিডের স্ক্রিনহীন স্মার্টগ্লাস হাতে মুক্ত এআই যুগের ইঙ্গিত এ আর রহমানের বার্তা: ভারতই আমার প্রেরণা, শিক্ষক ও ঘর

২০২৬ সালে ঘরই হবে নিরাপদ আশ্রয়, ব্যক্তিত্বের ছাপে সাজাবে বাড়ি

বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা আর অস্থিরতার সময়ে মানুষ ঘরের ভেতরেই খুঁজছে স্বস্তি ও নিরাপত্তা। আসন্ন দুই হাজার ছাব্বিশ সালে বাড়ির নকশা ও সাজসজ্জায় সেই মনোভাবই সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। ঘর আর কেবল থাকার জায়গা নয়, হয়ে উঠছে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ আর বাইরের কোলাহল থেকে পালানোর একান্ত আশ্রয়।

ব্যক্তিগত রুচির দিকে ঝোঁক
আন্তর্জাতিক নকশা বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন নিজের অদ্ভুত পছন্দ, অভ্যাস আর জীবনের গল্প ঘরের ভেতর তুলে ধরতে চাইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত বদলে যাওয়া ট্রেন্ডের চাপ থাকলেও দুই হাজার ছাব্বিশ সালে মূল জোর থাকবে ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্যে। অনেকেই ঘরকে এমনভাবে সাজাতে চাইছেন যেন তা শহরের ভিড় থেকে দূরে কোনো কাঠের কুটিরের অনুভূতি দেয়।

এই প্রবণতার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো সাজসজ্জা থেকে শুরু করে বড় পরিবর্তনে। বাড়ির ভেতরে আলাদা স্নানঘর, যোগ ব্যায়ামের কক্ষ কিংবা ব্যক্তিগত বিশ্রামকক্ষের চাহিদা বাড়ছে। শোবার ঘর ভেঙে বড় বাথরুম বানানোর মতো সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন অনেকে, যাতে ঘর সত্যিই বিশ্রামের জায়গা হয়ে ওঠে।

বাথরুম ও আসবাবেই নতুন পরীক্ষা
বাথরুম এখন আর নিছক ব্যবহারিক জায়গা নয়, বরং নজরকাড়া অংশ। রঙিন ও ভিন্নধর্মী ভ্যানিটি, নানা উপকরণের মিশেলে তৈরি আসবাব ঘরের কেন্দ্রে চলে আসছে। একই সঙ্গে অনলাইনে দেখা প্রচলিত নকশার বদলে মানুষ খুঁজছে ব্যতিক্রমী আসবাব ও সাজসজ্জা। নরম কাপড়ে তৈরি অদ্ভুত কুশন কিংবা হাতে বানানো টেক্সটাইল ঘরে শিল্পের ছোঁয়া আনছে।

Comforting Chaos: The 2026 Interior Trend That's Turning Messy into  Magical| Home Planner Blog

স্থানীয় নিলাম বা পুরোনো আসবাবের দোকান থেকেও মানুষ এখন বেশি আগ্রহ নিয়ে জিনিস সংগ্রহ করছে। অর্থনৈতিক চাপ আর আমদানি ব্যয়ের প্রভাবের মধ্যেই অনেকেই কাছাকাছি উৎস থেকেই সৃজনশীল সমাধান খুঁজছেন।

আরাম বাড়ায় উষ্ণ রঙ
ঘরের অনুভূতি বদলাতে রঙের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। দুই হাজার ছাব্বিশ সালে মাটি ছোঁয়া উষ্ণ রঙ, গাঢ় বাদামি আর লালচে মাটির টোন জনপ্রিয় হতে যাচ্ছে। এসব রঙ ঘরকে যেন আলতো করে জড়িয়ে ধরে, এমন অনুভূতি তৈরি করে।

একসময় দেয়াল আর কার্নিশে সাদা রঙের আধিপত্য থাকলেও এখন তা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। তার জায়গায় আসছে খয়েরি বা উষ্ণ খাকি রঙ। উজ্জ্বল রঙের ছোট ছোট ব্যবহার, যেমন আসবাবের কাপড় বা আলোয়, ঘরে প্রাণ এনে দেবে। তবু মসৃণ ম্যাট রঙের ব্যবহার আগের মতোই থাকবে, কারণ এতে ঘর আরও নরম ও আমন্ত্রণমূলক লাগে।

হাতে তৈরি জিনিসের প্রত্যাবর্তন
ডিজিটাল ক্লান্তির যুগে হাতে তৈরি জিনিসের কদর আবার বাড়ছে। নিখুঁত নয়, এমন সামান্য ত্রুটিই এখন সৌন্দর্যের অংশ। হাতে আঁকা নকশা, কারিগরের তৈরি কাঠের আসবাব, হাতে রঙ করা মৃৎশিল্প মানুষের মন কাড়ছে।

এই সব জিনিসে কারিগরের শ্রমের ছাপ স্পষ্ট থাকে। কোথাও আঙুলের দাগ, কোথাও কাঠ কাটার সামান্য ভিন্নতা—এসবই এখন আলাদা মূল্য পাচ্ছে। মানুষ বুঝতে পারছে, এই অসম্পূর্ণতার মধ্যেই রয়েছে উষ্ণতা আর মানবিকতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বক্স অফিসে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এগিয়ে, ‘বোন টেম্পল’ পিছিয়ে

২০২৬ সালে ঘরই হবে নিরাপদ আশ্রয়, ব্যক্তিত্বের ছাপে সাজাবে বাড়ি

০৩:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা আর অস্থিরতার সময়ে মানুষ ঘরের ভেতরেই খুঁজছে স্বস্তি ও নিরাপত্তা। আসন্ন দুই হাজার ছাব্বিশ সালে বাড়ির নকশা ও সাজসজ্জায় সেই মনোভাবই সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। ঘর আর কেবল থাকার জায়গা নয়, হয়ে উঠছে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ আর বাইরের কোলাহল থেকে পালানোর একান্ত আশ্রয়।

ব্যক্তিগত রুচির দিকে ঝোঁক
আন্তর্জাতিক নকশা বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন নিজের অদ্ভুত পছন্দ, অভ্যাস আর জীবনের গল্প ঘরের ভেতর তুলে ধরতে চাইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত বদলে যাওয়া ট্রেন্ডের চাপ থাকলেও দুই হাজার ছাব্বিশ সালে মূল জোর থাকবে ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্যে। অনেকেই ঘরকে এমনভাবে সাজাতে চাইছেন যেন তা শহরের ভিড় থেকে দূরে কোনো কাঠের কুটিরের অনুভূতি দেয়।

এই প্রবণতার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে ছোটখাটো সাজসজ্জা থেকে শুরু করে বড় পরিবর্তনে। বাড়ির ভেতরে আলাদা স্নানঘর, যোগ ব্যায়ামের কক্ষ কিংবা ব্যক্তিগত বিশ্রামকক্ষের চাহিদা বাড়ছে। শোবার ঘর ভেঙে বড় বাথরুম বানানোর মতো সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন অনেকে, যাতে ঘর সত্যিই বিশ্রামের জায়গা হয়ে ওঠে।

বাথরুম ও আসবাবেই নতুন পরীক্ষা
বাথরুম এখন আর নিছক ব্যবহারিক জায়গা নয়, বরং নজরকাড়া অংশ। রঙিন ও ভিন্নধর্মী ভ্যানিটি, নানা উপকরণের মিশেলে তৈরি আসবাব ঘরের কেন্দ্রে চলে আসছে। একই সঙ্গে অনলাইনে দেখা প্রচলিত নকশার বদলে মানুষ খুঁজছে ব্যতিক্রমী আসবাব ও সাজসজ্জা। নরম কাপড়ে তৈরি অদ্ভুত কুশন কিংবা হাতে বানানো টেক্সটাইল ঘরে শিল্পের ছোঁয়া আনছে।

Comforting Chaos: The 2026 Interior Trend That's Turning Messy into  Magical| Home Planner Blog

স্থানীয় নিলাম বা পুরোনো আসবাবের দোকান থেকেও মানুষ এখন বেশি আগ্রহ নিয়ে জিনিস সংগ্রহ করছে। অর্থনৈতিক চাপ আর আমদানি ব্যয়ের প্রভাবের মধ্যেই অনেকেই কাছাকাছি উৎস থেকেই সৃজনশীল সমাধান খুঁজছেন।

আরাম বাড়ায় উষ্ণ রঙ
ঘরের অনুভূতি বদলাতে রঙের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। দুই হাজার ছাব্বিশ সালে মাটি ছোঁয়া উষ্ণ রঙ, গাঢ় বাদামি আর লালচে মাটির টোন জনপ্রিয় হতে যাচ্ছে। এসব রঙ ঘরকে যেন আলতো করে জড়িয়ে ধরে, এমন অনুভূতি তৈরি করে।

একসময় দেয়াল আর কার্নিশে সাদা রঙের আধিপত্য থাকলেও এখন তা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। তার জায়গায় আসছে খয়েরি বা উষ্ণ খাকি রঙ। উজ্জ্বল রঙের ছোট ছোট ব্যবহার, যেমন আসবাবের কাপড় বা আলোয়, ঘরে প্রাণ এনে দেবে। তবু মসৃণ ম্যাট রঙের ব্যবহার আগের মতোই থাকবে, কারণ এতে ঘর আরও নরম ও আমন্ত্রণমূলক লাগে।

হাতে তৈরি জিনিসের প্রত্যাবর্তন
ডিজিটাল ক্লান্তির যুগে হাতে তৈরি জিনিসের কদর আবার বাড়ছে। নিখুঁত নয়, এমন সামান্য ত্রুটিই এখন সৌন্দর্যের অংশ। হাতে আঁকা নকশা, কারিগরের তৈরি কাঠের আসবাব, হাতে রঙ করা মৃৎশিল্প মানুষের মন কাড়ছে।

এই সব জিনিসে কারিগরের শ্রমের ছাপ স্পষ্ট থাকে। কোথাও আঙুলের দাগ, কোথাও কাঠ কাটার সামান্য ভিন্নতা—এসবই এখন আলাদা মূল্য পাচ্ছে। মানুষ বুঝতে পারছে, এই অসম্পূর্ণতার মধ্যেই রয়েছে উষ্ণতা আর মানবিকতা।