দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত, নির্বাচনী আবহে সবাই অপেক্ষায় একটি আস্থাশীল সরকারের। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অর্থনীতি এখনো সংকটের গভীরেই রয়ে গেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া চাপ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও কাটেনি। বরং উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ মন্দা, রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা মিলিয়ে অর্থনীতিকে অনেকেই ‘আইসিইউতে থাকা রোগী’র সঙ্গে তুলনা করছেন।
ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১২৪–১২৫ টাকায় পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক ছুঁয়ে যাওয়ার পর সুদের হার বাড়িয়ে ১৪–১৬ শতাংশে নেওয়া হলেও স্বস্তি আসেনি। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে বিনিয়োগহীন মূল্যস্ফীতি, যাকে অর্থনীতির ভাষায় বলা হয় স্থবিরতা বা স্ট্যাগফ্লেশন। এতে একদিকে দাম বাড়ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন কমছে।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬.৫৮ শতাংশে। নতুন কারখানা হচ্ছে না, পুরোনো ব্যবসার সম্প্রসারণও থমকে আছে। গাজীপুর ও সাভার শিল্পাঞ্চলে শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে বেকার হয়েছেন লাখো মানুষ। বিদেশি বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিপরীতে সরকারি খাত ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিয়ে ব্যয় মেটাচ্ছে, যা বেসরকারি খাতকে আরও কোণঠাসা করছে। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’।
রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় উন্নয়ন ব্যয়েও ভাটা পড়েছে। এডিপি বাস্তবায়ন নেমে এসেছে দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের নিচে থাকায় বড় উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিনিয়োগের সক্ষমতা হারাচ্ছে সরকার। অর্থনীতিবিদরা একে বলছেন ‘রাজস্বের রক্তশূন্যতা’।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় কিছু ব্যাংক আমানত ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও নড়বড়ে হয়েছে।
সব মিলিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট, রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংকিং দুর্বলতা—এই চার ফাঁসেই আটকে আছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অবস্থা থেকে বের হতে হলে আমূল সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















