০৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
পাকিস্তানে তুষারধসে প্রাণ গেল বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজা ও ৯ সহযাত্রীর গোপালগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে নির্মিত তোরণে আগুন পাঞ্জাবের হারানো রাজকন্যাদের নীরব বিদ্রোহ: ইতিহাসের চাপা অধ্যায় ফিরিয়ে আনল কেনসিংটন প্রাসাদের প্রদর্শনী তরুণ ভোটারদের নতুন বার্তা: কর্মদক্ষতার রাজনীতিই ভবিষ্যৎ সেউতা সংকট: অভিবাসনের ঢেউ, রাজনৈতিক লাভ আর অদৃশ্য শক্তির প্রশ্ন আগামী দশকে জাপানি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হবে ভারত পথের বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়া: দক্ষিণ এশিয়ার আট নারীর বদলে দেওয়ার গল্প ভারতে তুলা উৎপাদন কমছে, আমদানি বাড়ছে—চাপে বস্ত্রশিল্প চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভারসাম্য, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে নতুন কৌশলে ভারত দুবাইয়ের আসল শক্তি করছাড় নয়, আস্থার প্রতিষ্ঠান

অর্থনীতি আইসিইউতে: বিনিয়োগহীন মুদ্রাস্ফীতি ও সংকটের দুষ্টচক্র

দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত, নির্বাচনী আবহে সবাই অপেক্ষায় একটি আস্থাশীল সরকারের। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অর্থনীতি এখনো সংকটের গভীরেই রয়ে গেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া চাপ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও কাটেনি। বরং উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ মন্দা, রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা মিলিয়ে অর্থনীতিকে অনেকেই ‘আইসিইউতে থাকা রোগী’র সঙ্গে তুলনা করছেন।

ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১২৪–১২৫ টাকায় পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক ছুঁয়ে যাওয়ার পর সুদের হার বাড়িয়ে ১৪–১৬ শতাংশে নেওয়া হলেও স্বস্তি আসেনি। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে বিনিয়োগহীন মূল্যস্ফীতি, যাকে অর্থনীতির ভাষায় বলা হয় স্থবিরতা বা স্ট্যাগফ্লেশন। এতে একদিকে দাম বাড়ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন কমছে।

অর্থনীতি আইসিইউ থেকে এখন কেবিনে: অর্থ উপদেষ্টা

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬.৫৮ শতাংশে। নতুন কারখানা হচ্ছে না, পুরোনো ব্যবসার সম্প্রসারণও থমকে আছে। গাজীপুর ও সাভার শিল্পাঞ্চলে শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে বেকার হয়েছেন লাখো মানুষ। বিদেশি বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিপরীতে সরকারি খাত ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিয়ে ব্যয় মেটাচ্ছে, যা বেসরকারি খাতকে আরও কোণঠাসা করছে। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’।

রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় উন্নয়ন ব্যয়েও ভাটা পড়েছে। এডিপি বাস্তবায়ন নেমে এসেছে দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের নিচে থাকায় বড় উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিনিয়োগের সক্ষমতা হারাচ্ছে সরকার। অর্থনীতিবিদরা একে বলছেন ‘রাজস্বের রক্তশূন্যতা’।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় কিছু ব্যাংক আমানত ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও নড়বড়ে হয়েছে।

সব মিলিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট, রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংকিং দুর্বলতা—এই চার ফাঁসেই আটকে আছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অবস্থা থেকে বের হতে হলে আমূল সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে তুষারধসে প্রাণ গেল বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজা ও ৯ সহযাত্রীর

অর্থনীতি আইসিইউতে: বিনিয়োগহীন মুদ্রাস্ফীতি ও সংকটের দুষ্টচক্র

০৩:০৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত, নির্বাচনী আবহে সবাই অপেক্ষায় একটি আস্থাশীল সরকারের। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অর্থনীতি এখনো সংকটের গভীরেই রয়ে গেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া চাপ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও কাটেনি। বরং উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ মন্দা, রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা মিলিয়ে অর্থনীতিকে অনেকেই ‘আইসিইউতে থাকা রোগী’র সঙ্গে তুলনা করছেন।

ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১২৪–১২৫ টাকায় পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক ছুঁয়ে যাওয়ার পর সুদের হার বাড়িয়ে ১৪–১৬ শতাংশে নেওয়া হলেও স্বস্তি আসেনি। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে বিনিয়োগহীন মূল্যস্ফীতি, যাকে অর্থনীতির ভাষায় বলা হয় স্থবিরতা বা স্ট্যাগফ্লেশন। এতে একদিকে দাম বাড়ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন কমছে।

অর্থনীতি আইসিইউ থেকে এখন কেবিনে: অর্থ উপদেষ্টা

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬.৫৮ শতাংশে। নতুন কারখানা হচ্ছে না, পুরোনো ব্যবসার সম্প্রসারণও থমকে আছে। গাজীপুর ও সাভার শিল্পাঞ্চলে শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে বেকার হয়েছেন লাখো মানুষ। বিদেশি বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিপরীতে সরকারি খাত ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিয়ে ব্যয় মেটাচ্ছে, যা বেসরকারি খাতকে আরও কোণঠাসা করছে। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’।

রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় উন্নয়ন ব্যয়েও ভাটা পড়েছে। এডিপি বাস্তবায়ন নেমে এসেছে দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের নিচে থাকায় বড় উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিনিয়োগের সক্ষমতা হারাচ্ছে সরকার। অর্থনীতিবিদরা একে বলছেন ‘রাজস্বের রক্তশূন্যতা’।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় কিছু ব্যাংক আমানত ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও নড়বড়ে হয়েছে।

সব মিলিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট, রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংকিং দুর্বলতা—এই চার ফাঁসেই আটকে আছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অবস্থা থেকে বের হতে হলে আমূল সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই।