আরব আমিরাতের উম্ম আল কোয়াইন ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলছে এক অনন্য ইকো পর্যটন গন্তব্য হিসেবে। নীলাভ স্বচ্ছ সমুদ্র সৈকত, শান্ত ম্যানগ্রোভ বন আর পরিবেশবান্ধব আধুনিক উন্নয়নের মেলবন্ধনে এই আমিরাত এখন প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। ব্যস্ত শহরের কোলাহল ছেড়ে শান্তি, স্বস্তি ও প্রকৃত অভিজ্ঞতার খোঁজে যাঁরা আসেন, তাঁদের জন্য উম্ম আল কোয়াইন উপকূল ও ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ এলাকা হয়ে উঠছে আদর্শ আশ্রয়।
পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে আধুনিক পর্যটন
উম্ম আল কোয়াইন পর্যটন ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে টেকসই উন্নয়ন। প্রকৃতি সংরক্ষণ আর উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রেখে আধুনিক পর্যটন মডেল গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে এখানে। পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে ইকো পর্যটন শক্ত ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়েছে আমিরাতটি। এর ফলে দেশের ভেতর ও বাইরের পর্যটকদের কাছে উম্ম আল কোয়াইন আবেদন ক্রমেই বাড়ছে।

কাসা মিকোকো, ম্যানগ্রোভের বুকে বিলাস
ম্যানগ্রোভ বনের ভিতর গড়ে ওঠা কাসা মিকোকো শ্যালে ইতিমধ্যেই উম্ম আল কোয়াইন পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দুই হাজার বাইশ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই পরিবার, সৈকত প্রেমী ও সামুদ্রিক ক্রীড়া প্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আফ্রিকান ও জানজিবার ধাঁচের নকশায় নির্মিত এই স্থাপনায় রয়েছে পানির ধারে ক্যাফে, প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা কাঠের পথ আর ম্যানগ্রোভের ভেতর দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা। কায়াক ভ্রমণ, বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ, বাতাসচালিত জলক্রীড়া যেমন ঘুড়ি সার্ফিং ও প্যাডল বোর্ডিং এখানে পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। প্রাকৃতিক উপকরণ আর জৈব নকশায় তৈরি এই প্রকল্পকে টেকসই অবসর পর্যটনের এক মানদণ্ড হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
লাক্স গ্ল্যাম্পে দায়িত্বশীল বিলাস
ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ এলাকার কেন্দ্রস্থলে গড়ে ওঠা লাক্স ক্ল্যাম্প উম্ম আল কোয়াইন আরেকটি উল্লেখযোগ্য ইকো পর্যটন উদ্যোগ। গত বছর চালু হওয়া এই প্রকল্পে রয়েছে উন্নতমানের তাঁবুভিত্তিক আবাসন, যেখানে আরাম ও নীরবতার সঙ্গে কঠোর পরিবেশগত মান বজায় রাখা হয়েছে। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার ও পানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে বিলাসী আতিথেয়তার উদাহরণ তৈরি করছে লাক্সেগ্ল্যাম্প। সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই বিনিয়োগকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া টেকসই নীল অর্থনীতি কৌশলের সঙ্গেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।

বিশ্বের নজরে উম্ম আল কুয়াইন
জাতীয় পর্যটন উদ্যোগের অংশ হিসেবে শীতকালীন বিশেষ প্রচারণায়ও উম্ম আল কুয়াইনের প্রাকৃতিক ও পর্যটন গন্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে। কাসা মিকোকো ও লাক্সেগ্ল্যাম্পের মতো প্রকল্প উম্ম আল কুয়াইনকে দায়িত্বশীল ইকো পর্যটন, পরিবেশ শিক্ষা ও উচ্চমূল্যের আতিথেয়তার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথ আরও মজবুত করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















