১২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
“কান ধরে ওঠ বস” “সর্বমিত্র” করাচ্ছে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের পথেই বাড়বে রোগঝুঁকি চীন-ভারত সীমান্ত সংষর্ষের সময় ভারতীয় নেতৃবৃদ্ধ সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগেছিলো- রাহুল গান্ধী ভারতের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করার পথে বাজেটের দিকনির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন: ভারতীয় পণ্যে মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ গোপন বিয়ে মেনে নেয়নি ছেলের পরিবার, গৌরীপুরে ট্রেনের নিচে তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু জাবি ছাত্রদল নেতা রনি আর নেই, দগ্ধ হয়ে ঢামেকে মৃত্যু সৌদি আরবে ১৭ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, আরও ৫১ হাজার প্রক্রিয়াধীন বর্ষার বন্যার সঙ্গে বসবাস: সুরমা–কুশিয়ারা প্রকল্প কি বদলাতে পারবে সিলেটের ভাগ্য? বাগেরহাটের প্রাণনদী: পশুরের গল্প

বাগেরহাটের প্রাণনদী: পশুরের গল্প

নদী আর জনপদের সহাবস্থান

দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার জীবনযাত্রা, ইতিহাস ও প্রকৃতি—সবকিছুর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পশুর নদী। এই নদী শুধু একটি জলধারা নয়; এটি মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতি ও স্মৃতির ধারক। বাগেরহাট শহরের পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত হয়ে পশুর নদী সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের দিকে ছুটে চলে, পথে পথে গড়ে তোলে নৌবন্দর, জনপদ আর জীবনের নানামুখী গল্প।

ইতিহাসের নীরব সাক্ষী

পশুর নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাগেরহাট একসময় ছিল বাণিজ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রাচীন নৌপথ হিসেবে এই নদী ব্যবহার হয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। মধ্যযুগে খাল-নদীর জাল বেয়ে এখানকার মসলা, লবণ, চাল ও কাঠ দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছাত। নদীর প্রবাহ যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে জনপদের রূপ—তবু ইতিহাসের ছাপ আজও রয়ে গেছে নদীর বাঁকে বাঁকে।

জীবিকার নদী

আজও পশুর নদী হাজারো মানুষের জীবিকার আশ্রয়। জেলে পরিবারগুলোর ভোর শুরু হয় জাল আর নৌকা নিয়ে। নদীর মাছ স্থানীয় বাজারে যেমন আসে, তেমনি দূরের শহরেও পৌঁছে যায়। নদীপথে চলাচলকারী নৌযান ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বাগেরহাটের অর্থনীতিকে সচল রাখে। নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে নৌকা বানানো, জাল বোনা আর মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ—সবই নদীনির্ভর জীবনযাপনের অংশ।

প্রকৃতি ও সুন্দরবনের সান্নিধ্য

পশুর নদী সুন্দরবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। নদীর লবণাক্ততা ও মিঠা পানির মিশ্রণে তৈরি হয়েছে অনন্য এক বাস্তুতন্ত্র। কেওড়া, গেওয়া আর সুন্দরীর বনঘেরা তীর, ডলফিনের লাফ, আর পাখির ডাক—সব মিলিয়ে নদী হয়ে ওঠে জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়। এই নদীপথ দিয়েই পর্যটকরা সুন্দরবনের গভীরে যাত্রা শুরু করেন, যেখানে প্রকৃতি নিজের মতো করে কথা বলে।

ভাঙন, দূষণ আর ভবিষ্যৎ

তবে এই নদীর জীবনযাত্রা নির্বিঘ্ন নয়। নদীভাঙন অনেক গ্রামের ঘরবাড়ি কেড়ে নিয়েছে, বদলে দিয়েছে মানুষের ঠিকানা। শিল্পবর্জ্য ও নৌযানের তেলদূষণ নদীর স্বচ্ছতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি ও মৎস্যজীবনে। তবু নদীকে বাঁচাতে স্থানীয় মানুষ ও বিভিন্ন উদ্যোগ নতুন আশার কথা শোনাচ্ছে।

নদীর সঙ্গে মানুষের গল্প

পশুর নদী বাগেরহাটের মানুষের কাছে কেবল পানি নয়—এটি স্মৃতি, সংগ্রাম আর সম্ভাবনার নাম। বর্ষার জোয়ারে নদী যেমন উচ্ছ্বসিত, শুষ্ক মৌসুমে তেমনি শান্ত। এই নদীর ধারেই মানুষ জন্ম নেয়, বড় হয়, জীবিকা খোঁজে। তাই পশুর নদীর ভবিষ্যৎ মানেই বাগেরহাটের ভবিষ্যৎ—যেখানে নদী আর মানুষ একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।

পশুর নদী | The Daily Star Bangla

 

পশুর নদীতে ফের কয়লাবোঝাই জাহাজডুবি

জনপ্রিয় সংবাদ

“কান ধরে ওঠ বস” “সর্বমিত্র” করাচ্ছে

বাগেরহাটের প্রাণনদী: পশুরের গল্প

১০:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নদী আর জনপদের সহাবস্থান

দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার জীবনযাত্রা, ইতিহাস ও প্রকৃতি—সবকিছুর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পশুর নদী। এই নদী শুধু একটি জলধারা নয়; এটি মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতি ও স্মৃতির ধারক। বাগেরহাট শহরের পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত হয়ে পশুর নদী সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের দিকে ছুটে চলে, পথে পথে গড়ে তোলে নৌবন্দর, জনপদ আর জীবনের নানামুখী গল্প।

ইতিহাসের নীরব সাক্ষী

পশুর নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাগেরহাট একসময় ছিল বাণিজ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রাচীন নৌপথ হিসেবে এই নদী ব্যবহার হয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। মধ্যযুগে খাল-নদীর জাল বেয়ে এখানকার মসলা, লবণ, চাল ও কাঠ দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছাত। নদীর প্রবাহ যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে জনপদের রূপ—তবু ইতিহাসের ছাপ আজও রয়ে গেছে নদীর বাঁকে বাঁকে।

জীবিকার নদী

আজও পশুর নদী হাজারো মানুষের জীবিকার আশ্রয়। জেলে পরিবারগুলোর ভোর শুরু হয় জাল আর নৌকা নিয়ে। নদীর মাছ স্থানীয় বাজারে যেমন আসে, তেমনি দূরের শহরেও পৌঁছে যায়। নদীপথে চলাচলকারী নৌযান ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বাগেরহাটের অর্থনীতিকে সচল রাখে। নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে নৌকা বানানো, জাল বোনা আর মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ—সবই নদীনির্ভর জীবনযাপনের অংশ।

প্রকৃতি ও সুন্দরবনের সান্নিধ্য

পশুর নদী সুন্দরবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। নদীর লবণাক্ততা ও মিঠা পানির মিশ্রণে তৈরি হয়েছে অনন্য এক বাস্তুতন্ত্র। কেওড়া, গেওয়া আর সুন্দরীর বনঘেরা তীর, ডলফিনের লাফ, আর পাখির ডাক—সব মিলিয়ে নদী হয়ে ওঠে জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়। এই নদীপথ দিয়েই পর্যটকরা সুন্দরবনের গভীরে যাত্রা শুরু করেন, যেখানে প্রকৃতি নিজের মতো করে কথা বলে।

ভাঙন, দূষণ আর ভবিষ্যৎ

তবে এই নদীর জীবনযাত্রা নির্বিঘ্ন নয়। নদীভাঙন অনেক গ্রামের ঘরবাড়ি কেড়ে নিয়েছে, বদলে দিয়েছে মানুষের ঠিকানা। শিল্পবর্জ্য ও নৌযানের তেলদূষণ নদীর স্বচ্ছতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি ও মৎস্যজীবনে। তবু নদীকে বাঁচাতে স্থানীয় মানুষ ও বিভিন্ন উদ্যোগ নতুন আশার কথা শোনাচ্ছে।

নদীর সঙ্গে মানুষের গল্প

পশুর নদী বাগেরহাটের মানুষের কাছে কেবল পানি নয়—এটি স্মৃতি, সংগ্রাম আর সম্ভাবনার নাম। বর্ষার জোয়ারে নদী যেমন উচ্ছ্বসিত, শুষ্ক মৌসুমে তেমনি শান্ত। এই নদীর ধারেই মানুষ জন্ম নেয়, বড় হয়, জীবিকা খোঁজে। তাই পশুর নদীর ভবিষ্যৎ মানেই বাগেরহাটের ভবিষ্যৎ—যেখানে নদী আর মানুষ একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।

পশুর নদী | The Daily Star Bangla

 

পশুর নদীতে ফের কয়লাবোঝাই জাহাজডুবি