শ্রীলঙ্কার উপকূলে মার্কিন সাবমেরিন হামলায় নিহত ৮৪ জন ইরানি নাবিকের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শ্রীলঙ্কার একটি আদালতের নির্দেশের পর গল শহরের হাসপাতালের মর্গে রাখা মরদেহগুলো বিশেষ বিমানে ইরানে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে সংঘটিত এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধাবস্থার মধ্যে সমুদ্রে ঘটে যাওয়া এই হামলা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভ্রমণ ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাবমেরিন হামলায় ডুবে যায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ
গত ৪ মার্চ ভারতের একটি নৌ মহড়া শেষ করে ফেরার পথে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে টর্পেডো হামলার শিকার হয়। অভিযোগ উঠেছে, একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডো এই হামলা চালায়।
এই হামলায় যুদ্ধজাহাজের বহু নাবিক নিহত হন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহত ও জীবিত নাবিকদের উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, হামলা থেকে অন্তত ৩২ জন নাবিক বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।
আদালতের নির্দেশে মরদেহ হস্তান্তর
শ্রীলঙ্কার একটি আদালত এই সপ্তাহে নিহত নাবিকদের মরদেহ ইরানের দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। গল শহরের জাতীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা মরদেহগুলো সেখান থেকে বিমানবন্দরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মরদেহগুলো দক্ষিণাঞ্চলের মাতালা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ইরানে পাঠানো হবে। কলম্বোতে ইরানি দূতাবাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, মরদেহগুলো হাসপাতালে থেকে বিমানবন্দরে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
নিরাপত্তা বহরে মরদেহ পরিবহন
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, পুলিশের একটি গাড়ি সামনে থেকে নিরাপত্তা দিয়ে ট্রাকের বহরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই ট্রাকগুলোতেই নিহত নাবিকদের মরদেহ বহন করা হচ্ছিল।
তবে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানিয়েছে, মরদেহ পরিবহন বা দেশে ফেরানোর কাজে তাদের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।
ইরানি আরেক জাহাজের নাবিকদের আশ্রয়
এদিকে একই অঞ্চলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিপদে পড়া ইরানের আরেকটি জাহাজ আইআরআইএস বুশেহরের ২০৮ জন নাবিককে শ্রীলঙ্কায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য ৩০ দিনের প্রবেশ ভিসাও অনুমোদন করেছে দেশটি।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে কলম্বোতে থাকা ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনাও চলছে।

কূটনৈতিক ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ
এই ঘটনার মধ্যে শ্রীলঙ্কা একটি জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। দেশটির তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়, আবার ইরানও শ্রীলঙ্কার চায়ের অন্যতম বড় ক্রেতা।
এ কারণে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কাকে সতর্ক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















