মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় দ্বীপ পুলাউ কেয়ারির একটি ছোট গ্রামে বসবাস করা জেলে পরিবারগুলোর জীবন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগেও সাগর থেকে পর্যাপ্ত মাছ ও শামুক তুলে সংসার চালাতে পারতেন তারা। কিন্তু এখন ধরা মাছ কমে যাওয়ায় আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই নতুন একটি বিশাল বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতা
দুপুরের দিকে ছোট একটি নৌকা নিয়ে মাছ ধরার ঘাটে ভিড়েন লিঙ্গান বিন মান। ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে সরু কাঠের তক্তার দিকে নৌকাটি ধীরে ধীরে এগিয়ে নেন তিনি। নৌকায় তার স্ত্রী ও ছোট সন্তানও ছিল।
তিন ঘণ্টা সমুদ্রে কাটানোর পর তাদের ধরা পড়েছে মাত্র দুই কেজি ঝিনুক। ৫২ বছর বয়সী এই জেলে জানান, এই ঝিনুক বিক্রি করে তিনি প্রায় সাত ডলার পেতে পারেন।

তার মতে, এই সামান্য আয় এখন তাদের জন্য স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
ধীরে ধীরে কমছে মাছের পরিমাণ
পুলাউ কেয়ারির কামপুং সুংগাই কুরাউ গ্রামের জেলেরা বলছেন, গত পাঁচ বছরে তাদের মাছ ধরা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে অনেক পরিবার এখন ন্যূনতম আয়েও টিকে থাকার লড়াই করছে।
এই গ্রামের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ মাহ মেরি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে আসছেন। কিন্তু মাছ কমে যাওয়ায় তাদের জীবনধারা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
বন্দর সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখন যে বিশাল বন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা তাদের ঐতিহ্যগত মাছ ধরার এলাকাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্দরটি এমন সমুদ্র এলাকায় বিস্তৃত হবে, যা বহু প্রজন্ম ধরে এই জেলেদের মাছ ধরার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
গ্রামবাসীরা মনে করছেন, যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তাদের জীবিকার ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হবে।

মাছ ধরাই একমাত্র পেশা
৫৩ বছর বয়সী কামাল বিন আগিল ঘাটে বসে বলেন, তাদের কাছে মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজের দক্ষতা নেই।
তার ভাষায়, আমরা জেলে মানুষ। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কিছু আমরা জানি না।
স্থানীয়দের মতে, সমুদ্রই তাদের আয়, সংস্কৃতি এবং জীবনের ভিত্তি। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















