পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ট্রাম্প তার ঘোষিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দেড় ঘণ্টা আগে ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ স্থগিত করতে রাজি হয়েছি।” শর্ত হলো — ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে।
কীভাবে হলো এই চুক্তি
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। ইরান ১০ দফা প্রস্তাব পাঠায়, যেটিকে ট্রাম্প “আলোচনার ভিত্তি” হিসেবে গ্রহণ করেন। আগামী শনিবার ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সঙ্গে থাকবেন স্টিভ উইটকফ এবং জেরাড কুশনার।

যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি লেবাননে হামলা
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইসরায়েল লেবাননে তার এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলা চালায়। ইসরায়েল বলছে, লেবানন এই চুক্তির আওতায় পড়ে না। কিন্তু পাকিস্তানের দাবি ছিল চুক্তিটি লেবাননসহ সব জায়গায় প্রযোজ্য। এই বিরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজে তেলবাহী জাহাজ চলাচল আবার স্থগিত করে দেয়। ফলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তিটি টালমাটাল হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে ৬৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। যুদ্ধবিরতির খবরে বুধবার তেলের দাম ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমে আসে। বাংলাদেশ তার জ্বালানির ৯৫ শতাংশ আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ সংকটে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক চাপ পড়েছে। দুই সপ্তাহের এই বিরতি যদি স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি আসবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















