বিশেষ অধিকার একটি শক্তিশালী বিপণন হাতিয়ার, যা অ্যানথ্রপিককে দেখলেই বোঝা যায়। দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন বলছে, ৭ এপ্রিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবটি যখন ঘোষণা দেয় তাদের সর্বশেষ মডেল মাইথোসের প্রিভিউ সংস্করণ কেবল সীমিত একটি কোম্পানি গোষ্ঠীর জন্য উপলব্ধ থাকবে, ঈর্ষা ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। প্রকল্প গ্লাসউইং নামের এই ক্লাবে প্রাথমিক আমন্ত্রিত একমাত্র ব্যাংক হলো জেপি মরগান চেজ। কয়েক দিন পরই এক এশীয় ঋণদাতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ মুখ্য নির্বাহীকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছে কীভাবে দ্রুত গ্লাসউইংয়ে প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়। অ্যানথ্রপিকের দাবি, মাইথোস সাইবার-নিরাপত্তার দুর্বলতা খুঁজে বের করতে বিশেষভাবে দক্ষ। তাই এটি ধাপে ধাপে ছাড়া হচ্ছে, যাতে দুরভিসন্ধিকারীরা এই হাতিয়ার পাওয়ার আগেই কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ঠিক করতে পারে। মডেলটির কথিত সক্ষমতা শুধু ব্যবসায়, সরকারকেও উদ্বিগ্ন করেছে। মাইথোস উন্মোচনের পর আমেরিকার ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট ও ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল এআইয়ের সাইবার-নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আমেরিকার বৃহত্তম ব্যাংকগুলোকে ডেকেছেন। প্রতিযোগী হিসেবে পিছিয়ে না থেকে ১৪ এপ্রিল ওপেনএআই ঘোষণা দিয়েছে, তারা যাচাইকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য নিজেদের জিপিটি ৫.৪ মডেলের উন্নত হ্যাকিং সক্ষমতার একটি কাস্টম সংস্করণ ছাড়বে।
তিন কারণে সীমিত মুক্তির পথ
প্রথমত, যা তালাবদ্ধ, তা চুরি করা কঠিন। ফেব্রুয়ারিতে অ্যানথ্রপিক তিনটি চীনা ল্যাবের শিল্প-মাত্রার ডিস্টিলেশন প্রচেষ্টার অভিযোগ এনেছে, ওপেনএআইও অতীতে একই অভিযোগ করেছে। ডিস্টিলেশন বলতে এক এআই মডেলের আউটপুট ব্যবহার করে কম সক্ষম একটি সিস্টেমকে উন্নত করা বোঝায়। প্রতিদ্বন্দ্বীর মডেল ডিস্টিল করা শিল্প গুপ্তচরবৃত্তির কাছাকাছি। দ্বিতীয়ত, ল্যাবগুলো কম্পিউটিং পাওয়ারের ঘাটতির মুখোমুখি, ফলে গুরুত্ব অনুযায়ী বরাদ্দ করতে হচ্ছে। ডেটা সেন্টারে বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও এআইয়ের চাহিদা বেড়েই চলেছে, প্রতিটি নতুন ফ্রন্টিয়ার মডেল আগের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ গ্রাস করছে। অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি ক্লড চ্যাটবটের ব্যবহারে সীমা আরোপ করেছে এবং এন্টারপ্রাইজ মূল্য ব্যবহার অনুযায়ী চার্জে বদলেছে। মাইথোসের ক্ষুধা বিশেষভাবে বড়। এর মূল্য পাবলিকে উপলব্ধ অপাস ৪.৬ মডেলের পাঁচ গুণ, যা ইঙ্গিত দেয় এটি অবকাঠামোর ওপর অনেক বড় বোঝা।

ক্ষমতা ফিরছে মডেল-নির্মাতাদের হাতে
তৃতীয়ত, সবচেয়ে অগ্রসর এআই সিস্টেমে প্রবেশাধিকার সীমিত করে ক্ষমতা ফেরে মডেল-নির্মাতাদের হাতে। কার্সর নামের এআই কোডিং টুল এন্টারপ্রাইজে জনপ্রিয়, কারণ এটি ভেন্ডর লক-ইন এড়ায়। আইটি দল খরচ ও পারফরম্যান্স অনুযায়ী মডেল বদল করতে পারে, কর্মীদের নতুন ইন্টারফেস শিখতে হয় না। কিন্তু যেসব মডেলে ডেভেলপাররা প্রবেশই করতে পারেন না, সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অ্যাপ বানানো কঠিন। এতে কিছু গ্রাহক মডেল-নির্মাতার নিজস্ব টুল বেছে নিতে পারেন, যেমন অ্যানথ্রপিকের ক্লড কোড বা ওপেনএআইয়ের কোডেক্স। সব মিলিয়ে নেতৃস্থানীয় এআই ল্যাবগুলো প্রযুক্তিতে কারা প্রবেশাধিকার পাবেন তার ওপর ক্রমেই বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে, এবং তা কেবল নিরাপত্তার কারণে নয়। বঞ্চিতদের কেউ খুশি হবেন না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















