ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক তিক্ততা ডেকে এনেছে। দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ এপ্রিল সিঙ্গাপুর পার্লামেন্টে বিরোধী দলের এক ব্যাকবেঞ্চার প্রশ্ন তুলেছিলেন, মালয়েশিয়ার মতো সিঙ্গাপুরও কি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিজেদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করবে। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন জবাবে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজের মতো প্রণালী দিয়ে জাহাজের অবাধ পারাপারের নীতি সিঙ্গাপুরের জন্য মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সিঙ্গাপুর নিজেও মালাক্কা প্রণালীর অবস্থান থেকে বিপুল সুবিধা নেয়। টোল নিয়ে বা নিরাপদ পারাপারের জন্য আলোচনায় বসলে এই আইনি নীতি দুর্বল হয়ে পড়বে।
আনোয়ারকন্যার তীব্র জবাব
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দলের শীর্ষ কর্মকর্তা ও তার মেয়ে নুরুল ইজজাহ আনোয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, মালয়েশিয়াকে কেউ যুক্ততার সারবত্তা নিয়ে শেখাতে আসতে পারবে না। তার ভাষ্যে, সিঙ্গাপুরের বক্তব্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরের বড় শক্তির কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত করেছে, যা প্রকাশ ও দুঃখজনক। তিনি ইরানকে যুদ্ধাপরাধের শিকার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং হরমুজ বন্ধ করাকে শান্তির জন্য তৎপরতা বলে ব্যাখ্যা দেন।
ষাট বছরের পুরনো তিক্ততা ও সামনের নির্বাচন
১৯৬৫ সালে সংক্ষিপ্ত মিলনের পর বিচ্ছেদ থেকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এমন বাকযুদ্ধ নিয়মিত ঘটনা। দুই হাজারের দশকের মাঝামাঝি মালাক্কা প্রণালীর জলদস্যুতা মোকাবিলায় সিঙ্গাপুর আমেরিকার মতো বড় শক্তির সহায়তা চেয়েছিল, মালয়েশিয়া অসম্মত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর সিঙ্গাপুর নিজের সেনাবাহিনী গড়তে ইসরায়েলি প্রশিক্ষকদের সহায়তা নিয়েছিল, যা এতটাই সংবেদনশীল ছিল যে প্রশিক্ষকদের মেক্সিকান বলে পরিচয় দেওয়া হতো। মালয়েশিয়া প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের সমালোচনা করে, সাবেক ইসলামপন্থী কর্মী আনোয়ার ইব্রাহিম তীব্র ভাষায়। ইরানি বন্দরে আমেরিকার অবরোধ আরোপের পর মালয়েশিয়ানরা নিজেদের অবস্থান সঠিক বলে প্রমাণিত মনে করছেন। এই উত্তেজনার পেছনে আরেকটি কারণ সম্ভাব্য আগাম নির্বাচন। মালয়েশিয়ার ঘূর্ণায়মান রাজত্ব এখন সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সুসম্পর্কপন্থী জোহর সুলতানের হাতে, ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হলে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে তিনি বড় ভূমিকা রাখবেন। সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া তাই নুরুল ইজজাহর জন্য ভালো রাজনীতি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















