০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থবাজারে বড় পরিবর্তন: লেনদেনভিত্তিক সুদের হার চালু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন কমেছে ২৫-৩০ শতাংশ, জরুরি সরকারি সহায়তা চায় বিজিএমইএ মার্চে শেয়ারবাজার ধস, ডিএসইএক্স সূচকে বড় পতন বাখের অজানা সুরের গভীরতা: নতুনভাবে ফিরে আসছে ‘ক্লাভিয়ার-উবুং থ্রি’ চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে দিনাজপুর মেডিক্যালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, জরুরি সেবায় ব্যাঘাত আশা ভোঁসলের কণ্ঠে তেলুগু গানের স্মৃতি, সীমিত কাজেও অমর ছাপ স্যামসাং গ্যালাক্সি বাডস ৪ প্রো: প্রিমিয়াম ইয়ারবাডে নতুন মানদণ্ড, কিন্তু সবার জন্য নয় ছয় মাসে এক ইনজেকশনেই নিয়ন্ত্রণে উচ্চ রক্তচাপ, নতুন গবেষণায় আশার আলো চাঁদ ঘিরে বিশাল রিং নির্মাণের স্বপ্ন: জাপানি কোম্পানির সাহসী মহাকাশ পরিকল্পনা ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে পেট্রোডলার ব্যবস্থা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৬৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪
  • 162

শ্রী নিখিলনাথ রায়

পরে তিনি গিরিয়া হইতে গওস খাঁ, তাঁহার পুত্রদ্বয়ের ও অন্যান্য সহচরের মৃতদেহ উত্তোলন করিয়া ভাগলপুরে লইয়া গিয়া আবার সমাহিত করেন এবং আয়ুঃপূর্ণ হইলে প্রিয় শিষ্য গওস খাঁর পার্শ্বে নিজেও সমাহিত হন। প্রভুর অগ্নে প্রতিপালিত হইয়া প্রভুর সিংহাসন রক্ষার জন্য অকাতরে প্রাণবিসর্জন দেওয়ায়, গওস খাঁ সাধারণের নিকট মহাপুরুষ বলিয়া কীর্ত্তিত হইয়া আসিতেছেন। আলিবর্দী খাঁ এক দিকে যেমন বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ব্বক প্রভুপুত্রের রক্তপাত করিয়া সিংহাসন লাভ করেন, অন্যদিকে সেইরূপ গওস খাঁ ও তাহার পুত্রদ্বয় আপনাদিগের শোণিত দান করিয়া প্রভুর সিংহাসন রক্ষা করিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন।

গওস খাঁর সেই অনুপম মহত্ত্ব বহু দিন হইতে গিরিয়ার চতুঃপার্শ্বে গ্রাম্য-কবিতায় গীত হইয়া আসিতেছে। সাধারণ লোকে ‘তাঁহাকে অতিমানুষ বলিয়া বিবেচনা করিয়া থাকে। এরূপ বিবেচনা সাধারণের মনে সহজেই উপস্থিত হইতে পারে। যিনি সপরিবারে ফকীরের নিকট দীক্ষিত হইয়া প্রভুর কল্যাণসাধনোদ্দেশে অনায়াসে প্রাণ বিসর্জন দিতে পারেন এবং যাঁহার পরিবারস্থ স্ত্রী-পুরুষ। প্রত্যেকেই বীরত্বের পূর্ণাবতার, তাঁহাকে অতিমানুষ বিবেচনা করা অধিকতর আশ্চর্য্যের বিষয় নহে।

গিরিয়ার যে স্থানে গওস খাঁর পবিত্র দেহ পতিত হয়, তথায় তাঁহার স্মৃতির জন্য একটি দরগা নির্মিত হইয়াছিল। গিরিয়ার নিকট মমীন- টোলা গ্রামের চাঁদপুর নামক মৌজায় উক্ত দরগা নির্মিত হয়। চাঁদ- গুর ভাগীরথীর পূর্ব্ব তীরে ছিল। মমীনটোলার কিয়দংশ গঙ্গায় ভাঙ্গিয়া যাওয়ায়, চাঁদপুর এক্ষণে পশ্চিম তীরে পড়িয়াছে। ত্রিশ বৎসরেরও অধিক হইল, গওস খাঁর সে দরগা এক্ষণে ভাগীরথী-গর্ভস্থ হইয়াছে। বর্তমান সময়ে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে নূতন চাঁদপুরে আর একটি সামান্ত দরগা নিৰ্ম্মিত হইয়াছে। গওস খাঁর দরগা মুসলমানগণ অত্যন্ত শ্রদ্ধাসহকারে পূজা করিয়া থাকেন।

১১৪০ খৃঃ অব্দের শেষ ভাগে গিরিয়ায় প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়। গওস খাঁর সহিত সরফরাজের অন্যান্য অনেক সেনাপতি যুদ্ধস্থলে প্রাণ- বিসর্জন করিয়াছিলেন। বিজয়সিংহ নামে সরফরাজের জনৈক রাজপুত সেনাপতি প্রথমে খামরার নিকট অবস্থিতি করিতেছিলেন; পরে অগ্রসর হইয়া অত্যন্ত বীরত্ব প্রদর্শনপূর্ব্বক ভূতলশায়ী হন। তাঁহার নবমবর্ষীয় পুত্র জালিম সিংহও এই যুদ্ধে অদ্ভুত বীরত্ব প্রকাশ করিয়াছিল। যে স্থলে সেই রাজপুত বালক অলৌকিক বীরত্ব দেখাইয়াছিল, তাহাকে অদ্যাপি জালিম সিংহের মাঠ কহিয়া থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের অর্থবাজারে বড় পরিবর্তন: লেনদেনভিত্তিক সুদের হার চালু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৬৪)

১১:০০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

পরে তিনি গিরিয়া হইতে গওস খাঁ, তাঁহার পুত্রদ্বয়ের ও অন্যান্য সহচরের মৃতদেহ উত্তোলন করিয়া ভাগলপুরে লইয়া গিয়া আবার সমাহিত করেন এবং আয়ুঃপূর্ণ হইলে প্রিয় শিষ্য গওস খাঁর পার্শ্বে নিজেও সমাহিত হন। প্রভুর অগ্নে প্রতিপালিত হইয়া প্রভুর সিংহাসন রক্ষার জন্য অকাতরে প্রাণবিসর্জন দেওয়ায়, গওস খাঁ সাধারণের নিকট মহাপুরুষ বলিয়া কীর্ত্তিত হইয়া আসিতেছেন। আলিবর্দী খাঁ এক দিকে যেমন বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ব্বক প্রভুপুত্রের রক্তপাত করিয়া সিংহাসন লাভ করেন, অন্যদিকে সেইরূপ গওস খাঁ ও তাহার পুত্রদ্বয় আপনাদিগের শোণিত দান করিয়া প্রভুর সিংহাসন রক্ষা করিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন।

গওস খাঁর সেই অনুপম মহত্ত্ব বহু দিন হইতে গিরিয়ার চতুঃপার্শ্বে গ্রাম্য-কবিতায় গীত হইয়া আসিতেছে। সাধারণ লোকে ‘তাঁহাকে অতিমানুষ বলিয়া বিবেচনা করিয়া থাকে। এরূপ বিবেচনা সাধারণের মনে সহজেই উপস্থিত হইতে পারে। যিনি সপরিবারে ফকীরের নিকট দীক্ষিত হইয়া প্রভুর কল্যাণসাধনোদ্দেশে অনায়াসে প্রাণ বিসর্জন দিতে পারেন এবং যাঁহার পরিবারস্থ স্ত্রী-পুরুষ। প্রত্যেকেই বীরত্বের পূর্ণাবতার, তাঁহাকে অতিমানুষ বিবেচনা করা অধিকতর আশ্চর্য্যের বিষয় নহে।

গিরিয়ার যে স্থানে গওস খাঁর পবিত্র দেহ পতিত হয়, তথায় তাঁহার স্মৃতির জন্য একটি দরগা নির্মিত হইয়াছিল। গিরিয়ার নিকট মমীন- টোলা গ্রামের চাঁদপুর নামক মৌজায় উক্ত দরগা নির্মিত হয়। চাঁদ- গুর ভাগীরথীর পূর্ব্ব তীরে ছিল। মমীনটোলার কিয়দংশ গঙ্গায় ভাঙ্গিয়া যাওয়ায়, চাঁদপুর এক্ষণে পশ্চিম তীরে পড়িয়াছে। ত্রিশ বৎসরেরও অধিক হইল, গওস খাঁর সে দরগা এক্ষণে ভাগীরথী-গর্ভস্থ হইয়াছে। বর্তমান সময়ে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে নূতন চাঁদপুরে আর একটি সামান্ত দরগা নিৰ্ম্মিত হইয়াছে। গওস খাঁর দরগা মুসলমানগণ অত্যন্ত শ্রদ্ধাসহকারে পূজা করিয়া থাকেন।

১১৪০ খৃঃ অব্দের শেষ ভাগে গিরিয়ায় প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়। গওস খাঁর সহিত সরফরাজের অন্যান্য অনেক সেনাপতি যুদ্ধস্থলে প্রাণ- বিসর্জন করিয়াছিলেন। বিজয়সিংহ নামে সরফরাজের জনৈক রাজপুত সেনাপতি প্রথমে খামরার নিকট অবস্থিতি করিতেছিলেন; পরে অগ্রসর হইয়া অত্যন্ত বীরত্ব প্রদর্শনপূর্ব্বক ভূতলশায়ী হন। তাঁহার নবমবর্ষীয় পুত্র জালিম সিংহও এই যুদ্ধে অদ্ভুত বীরত্ব প্রকাশ করিয়াছিল। যে স্থলে সেই রাজপুত বালক অলৌকিক বীরত্ব দেখাইয়াছিল, তাহাকে অদ্যাপি জালিম সিংহের মাঠ কহিয়া থাকে।