দেশজুড়ে যখন তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধাক্কা। ভারতের আদানি গ্রুপের একটি বিদ্যুৎ ইউনিট ফের বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হঠাৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাপ বাড়ছে
তথ্য অনুযায়ী, আদানির দুটি ইউনিট থেকে একসময় প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। কিন্তু একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন হঠাৎ করেই প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে এবং লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি, মেরামতে সময় লাগবে
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিটটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ত্রুটির সংকেত পাওয়া যাওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এই ইউনিট সচল করতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

চাহিদা বাড়ছে, সরবরাহ পিছিয়ে
এদিকে তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা ইতোমধ্যে ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু উৎপাদন সেই হারে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা সরাসরি লোডশেডিং বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আমদানিনির্ভরতায় ঝুঁকি বাড়ছে
ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এই সরবরাহ চালু থাকলেও, ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি আবার সামনে চলে এসেছে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত ইউনিটটি চালু করা না গেলে গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এতে শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন—সবকিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















