সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জরুরি সিদ্ধান্তে বন্ধ কার্যক্রম
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেওয়ায় ২২ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ থাকবে। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২৩ এপ্রিল ভর্তি কার্যক্রম চালু রাখা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২৬ এপ্রিল থেকে আবার নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে।
চিকিৎসা সেবা সচল রাখার অগ্রাধিকার

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, একই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটি মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল, নার্সিং কলেজ এবং স্কুল পরিচালিত হয়। বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য হাসপাতালের কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পুরো এলাকা
এনায়েতপুরসহ আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানান। তাঁত শিল্পনির্ভর এই অঞ্চলে উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শিক্ষার্থীদের হলও বন্ধ
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শুধু ক্লাস নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

ছুটি বাড়ার শঙ্কা
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে এই ছুটি আরও বাড়তে পারে। ফলে শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের এমন পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















