০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
সোয়াতে যৌথ অভিযানে চার জঙ্গি নিহত, এলিট ফোর্সের এক কনস্টেবল নিহত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মৃত্যুর পরও স্বস্তি: কয়লা ব্লক মামলায় সম্পূর্ণ অব্যাহতি পেলেন ড. মনমোহন সিং রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক অভিযোগে লোকসভায় তুমুল হট্টগোল, অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ’ দেওয়ার দাবি বাধ্যতামূলক ভোট: গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে, নাকি আরও দুর্বল? হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রশ্নে আবার আলোচনায় আইসিটি: ন্যায়বিচারের মানদণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের কুমামোতো ভূমিকম্পে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা, বন্ধ কারখানা-যোগাযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খলে সংকট গত ১৫ বছরে জাপানের বড় বড় ভূমিকম্প মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন সিআইডির নতুন প্রধান, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ ট্রাম্প কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হবেন? ইরানকে সহায়তার অভিযোগে নতুন বিতর্ক জীবন বদলে দিল ১০ দিনের মাথাব্যথা, ধরা পড়ল মরণব্যাধি মস্তিষ্কের ক্যানসার

চাঁদা না দেওয়ায় ফলের দোকান ভাঙচুর, সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ফল বিক্রেতার দোকান ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযোগ
ভুক্তভোগী ফল বিক্রেতা মো. আজিজুল হক (৬০) জানান, তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ পুল সংলগ্ন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ফলের ব্যবসা করছেন। গত ২৪ এপ্রিল তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিন (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে বাজারে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হতো এবং দোকান উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হতো।

চাঁদা না দেওয়ায় হামলা
অভিযোগ অনুযায়ী, আজিজুল হক অসুস্থ থাকায় এক মাস চাঁদা দিতে পারেননি। পরে শুক্রবার দোকান বসাতে গেলে সালাউদ্দিনসহ কয়েকজন এসে তাকে গালিগালাজ করেন এবং মারধর করেন। এ সময় দোকানের প্রায় ৮০ হাজার টাকার ফল নষ্ট করা হয় এবং দোকান ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে তার ছেলেকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রভাব ও অতীত কার্যকলাপ
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। অতীতে তিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর আতঙ্ক
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আজিজুল হক জানান, হামলাকারীরা তাকে ও তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

পুলিশের বক্তব্য
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর অভিযুক্ত সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।

চাঁদাবাজির মতো ঘটনায় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক

জনপ্রিয় সংবাদ

সোয়াতে যৌথ অভিযানে চার জঙ্গি নিহত, এলিট ফোর্সের এক কনস্টেবল নিহত

চাঁদা না দেওয়ায় ফলের দোকান ভাঙচুর, সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

০৬:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ফল বিক্রেতার দোকান ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযোগ
ভুক্তভোগী ফল বিক্রেতা মো. আজিজুল হক (৬০) জানান, তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ পুল সংলগ্ন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ফলের ব্যবসা করছেন। গত ২৪ এপ্রিল তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিন (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে বাজারে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হতো এবং দোকান উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হতো।

চাঁদা না দেওয়ায় হামলা
অভিযোগ অনুযায়ী, আজিজুল হক অসুস্থ থাকায় এক মাস চাঁদা দিতে পারেননি। পরে শুক্রবার দোকান বসাতে গেলে সালাউদ্দিনসহ কয়েকজন এসে তাকে গালিগালাজ করেন এবং মারধর করেন। এ সময় দোকানের প্রায় ৮০ হাজার টাকার ফল নষ্ট করা হয় এবং দোকান ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে তার ছেলেকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রভাব ও অতীত কার্যকলাপ
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। অতীতে তিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর আতঙ্ক
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আজিজুল হক জানান, হামলাকারীরা তাকে ও তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

পুলিশের বক্তব্য
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর অভিযুক্ত সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।

চাঁদাবাজির মতো ঘটনায় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক