বিশ্ব জ্বালানি বাজার এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর ঘিরে তেলের সরবরাহে যে ধাক্কা লেগেছে, তা ধীরে ধীরে একটি বড় বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। বাজারে আপাত স্থিতিশীলতা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট
সরবরাহ কমে যাওয়ার বড় ধাক্কা
সংঘাত শুরুর প্রায় পঞ্চাশ দিনের মাথায় বিশ্ব বাজার থেকে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উপসাগরীয় তেল হারিয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ২ শতাংশ। শুধু তেল নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। প্রতি মাসে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বিশ্ব বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ কমে যাচ্ছে ।

মজুত শেষ, সামনে অনিশ্চয়তা
যুদ্ধ শুরুর আগে সমুদ্রপথে থাকা অতিরিক্ত তেলের মজুত এতদিন বাজারকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই মজুত প্রায় শেষ। নতুন করে সরবরাহ না আসায় বাজারে তেলের প্রাপ্যতা দ্রুত কমছে। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এশিয়ায় সবচেয়ে বড় চাপ
এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চল এখন মজুত সংকটে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তাদের কৌশলগত মজুত ব্যবহার করছে, কিন্তু তা দীর্ঘদিন চলবে না। ফলে অনেক দেশেই জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
শোধনাগার উৎপাদন কমাচ্ছে
কাঁচা তেলের ঘাটতির কারণে শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। এশিয়ায় দৈনিক কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কমেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানির দামে, যা ইতোমধ্যে অনেক বেড়ে গেছে ।

ইউরোপে ভিন্ন চিত্র
ইউরোপে এখনো বড় ধরনের চাহিদা কমেনি। সরকারগুলো ভর্তুকি দিয়ে ভোক্তাদের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে বাজারের ভারসাম্য আরও বিঘ্নিত হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শোধনাগারগুলোর লাভ কমে গেছে এবং সামনে উৎপাদন কমানোর ঝুঁকি বাড়ছে।
সামনে বড় সংকটের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে না দিলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অতীতে হঠাৎ তেলের চাহিদা কমে যাওয়া বা সরবরাহে বড় ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এবারও তেমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সংকট কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















