বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের উত্তেজনা, বাণিজ্য সংঘাত আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা—সবকিছুর মাঝেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট খাত যেন এক ভিন্ন গল্প বলছে। বাজারে নানা আশঙ্কা থাকলেও বড় কোম্পানিগুলোর আয়-লাভের হিসাব দেখলে স্পষ্ট হয়, তারা এখনো দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
সংকটের মধ্যেও মুনাফার উত্থান
সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচকের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত আয় বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী এক বছরে এই আয় আরও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ধরনের প্রবৃদ্ধি সাধারণত বড় অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার সময় দেখা যায়। কিন্তু এবার কোনো বড় মন্দা ছাড়াই এমন শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি নজর কাড়ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় ভূমিকা
এই মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম বড় চালিকা শক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি। প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলো এই নতুন প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চিপ নির্মাতা ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে।
এই প্রবণতা শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অন্যান্য খাতেও এর প্রভাব পড়ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে কর্পোরেট আয় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
প্রযুক্তির বাইরে খাতগুলোও এগিয়ে
অনেকে মনে করতে পারেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কারণেই পুরো চিত্রটা উজ্জ্বল। কিন্তু বাস্তবে প্রযুক্তির বাইরে থাকা কোম্পানিগুলোর আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। অনুমান করা হচ্ছে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বাদ দিলেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আয় প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এমনকি আর্থিক খাত, কাঁচামাল ও খনিশিল্পেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে মুনাফা বৃদ্ধির হার ২০ শতাংশের বেশি, আবার খনিজ ও ধাতু খাতে তা প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
![]()
শক্ত ভিত ও ভোক্তা ব্যয়ের প্রভাব
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শক্তিশালী অবস্থানের মূল কারণ হলো কোম্পানিগুলোর আগে থেকেই ভালো প্রস্তুতি। তারা খরচ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করেছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে মূল্য বাড়িয়ে তা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পেরেছে।
যদিও ভোক্তাদের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে, তবুও তাদের ব্যয় করার সক্ষমতা এখনো বজায় আছে। এই ব্যয়ই অর্থনীতিকে সচল রাখছে।
ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে
তবে সবকিছু এত সহজ নয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে। পাশাপাশি নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে বাজারে আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে।
তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বিষয় পরিষ্কার—চ্যালেঞ্জের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট খাত এখনো শক্তিশালী এবং গতিশীল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















