ভারতে মাত্র আট দিনের মধ্যে তৃতীয় দফায় বাড়ানো হলো পেট্রল ও ডিজেলের দাম। শনিবার দেশজুড়ে বিভিন্ন জ্বালানির দামে গড়ে প্রায় ৯০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সময়ে উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সিএনজির দামও আবার বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
নতুন দামের ফলে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি পৌঁছেছে ৯৯ টাকা ৫১ পয়সায়। ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯২ টাকা ৪৯ পয়সা। অন্যদিকে দিল্লিতে সিএনজির দাম এখন কেজিপ্রতি ৮১ টাকা ৯ পয়সা।
ক্রমাগত বাড়ছে জ্বালানির চাপ
গত ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে এখন পর্যন্ত পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রায় ৪ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে উত্তর ভারতের কয়েকটি শহরে সিএনজির দাম বেড়েছে প্রায় ৪ টাকা প্রতি কেজি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে চলেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের জ্বালানি বাজারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উর্ধ্বগতি
মে মাসে এখন পর্যন্ত ভারতের অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৮ ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও বেড়েছে। ফলে তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির খুচরা দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
কলকাতায় সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি
শনিবার চারটি বড় শহরের মধ্যে কলকাতায় জ্বালানির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সেখানে পেট্রলের দাম বেড়ে হয়েছে লিটারপ্রতি ১১০ টাকা ৬৪ পয়সা। ডিজেলের দাম পৌঁছেছে ৯৭ টাকা ২ পয়সায়।
মুম্বাইয়ে পেট্রলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৮ টাকা ৪৯ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৫ টাকা ২ পয়সা। চেন্নাইয়ে পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৫ টাকা ৩১ পয়সা, আর ডিজেলের দাম হয়েছে ৯৬ টাকা ৯৮ পয়সা।
সিএনজিতেও নতুন চাপ
সিএনজির দামও উত্তর ভারতের বিভিন্ন শহরে বাড়ানো হয়েছে। উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ ও নয়ডায় সিএনজির দাম এখন কেজিপ্রতি ৮৯ টাকা ৭০ পয়সা। মীরাটে এর দাম হয়েছে ৮৯ টাকা ৫৮ পয়সা।
উত্তর ভারতের বৃহত্তম সিটি গ্যাস পরিবেশক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাসের আমদানি ব্যয় এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম সামান্য বাড়াতে হয়েছে।
জ্বালানির এই টানা মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে সামনের দিনে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















