চলতি বছরের হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবে উন্নত চিকিৎসাসেবা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য সহায়তা এবং দ্রুত সেবার কারণে আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার মৃত্যুর হার কমেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে অনুষ্ঠিত বিশেষ সমন্বয় সভায় হজের সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ২০১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
মক্কা ও মদিনায় মৃত্যু

হজ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। এর মধ্যে মক্কায় ১৮ জন এবং মদিনায় ৯ জন ইন্তেকাল করেছেন। সর্বশেষ গত ২২ মে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা ৬১ বছর বয়সী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মক্কায় মারা যান।
চিকিৎসাসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন
হজ মিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে। হাজিদের জন্য দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সিস্টেম ও আইটি সহায়তা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অসুস্থ হাজিরা দ্রুত চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং জটিলতা কমছে।
এ পর্যন্ত ৪৭ হাজার ৪৭টি চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২১ হাজার ৪৩৪টি ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব উদ্যোগ মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে হজে গিয়ে বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল ৪৮ জনের। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৫। আর ২০২৩ সালে এক লাখ ২২ হাজারের বেশি হাজির মধ্যে ১২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৯ সালেও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১৭ জন। সেই তুলনায় এবার পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সামনে রেখে বাংলাদেশ হজ মিশন এখন হাজিদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সার্বিক সেবার বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল টিম ও সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে যাতে হাজিরা নির্বিঘ্নে হজ পালন করতে পারেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















