কোরবানির ঈদ সামনে হলেও রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে এখনো জমে ওঠেনি প্রত্যাশিত বেচাকেনা। তীব্র গরমের কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তাপদাহে পশু সুস্থ রাখা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ।
রাজধানীর তেজগাঁও, কমলাপুর, পোস্তগোলা ও ভাটারা এলাকার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক ও পিকআপভর্তি গরু আসছে। তবে গরমের কারণে হাটে মানুষের ভিড় তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এতে বিক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গরমে নাকাল পশু ও ব্যবসায়ীরা
হাটে দেখা গেছে, পশুগুলোকে গরম থেকে বাঁচাতে খামারিরা নানা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কেউ পাইপ দিয়ে পানি ঢালছেন, কেউ হাতপাখা ব্যবহার করছেন, আবার কেউ ছোট চার্জার ফ্যান বসিয়ে পশুকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছেন।
অস্থায়ী পানির পাম্পগুলোতেও ছিল ভিড়। পশুর গায়ে বারবার পানি ঢেলে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। দুপুরের দিকে তাপমাত্রা বাড়লে অনেক পশুকেই অস্থির হয়ে পড়তে দেখা যায়।
পাবনা থেকে আসা খামারি মিজানুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত গরমে গবাদিপশুর শ্বাসকষ্ট, শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব পশু প্রাকৃতিক ঘাসের বদলে বেশি খাদ্যনির্ভর, তাদের সমস্যা বেশি হচ্ছে।
তিনি বলেন, এখন সারাক্ষণ পানি দিতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্ক হলেই বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
দূরপাল্লার যাত্রায় দুর্বল হয়ে পড়ছে পশু
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী আবু বকর বলেন, এই গরমে মানুষ ও পশু—দুজনেরই কষ্ট হচ্ছে। পশুগুলো ঠিকভাবে দাঁড়াতেও পারছে না। তাই বারবার পানি খাওয়াতে হচ্ছে।
একই এলাকার আরেক খামারি সাইফুল ইসলাম জানান, দূরের জেলা থেকে ঢাকায় আনার পর অনেক পশুই দ্রুত দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। গরমের কারণে খাবারও কম খাচ্ছে তারা। ফলে সারাদিন পানি ও বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে।

দাম নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ
হাটে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম অনেক বেশি। প্রায় দুই থেকে আড়াই মণ মাংস হবে—এমন গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। মাঝারি আকারের গরুর দাম ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। বড় গরুর দাম ৩ লাখ টাকারও বেশি।
ভাটারা হাটে আসা ক্রেতা আকরাম হোসেন বলেন, গত বছর যে গরু ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা গিয়েছিল, এবার একই ধরনের গরুর দাম অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।
খামারিদের দাবি, পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ অনেক বেড়েছে। ভুসি, খৈল ও খড়ের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি গরুর উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ভারত থেকে পশু না আসাও বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

শেষ সময়ে বিক্রি বাড়ার আশা
শুরুর দিকে বেচাকেনা ধীরগতির হলেও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ দুই দিনে হাটে ক্রেতার চাপ বাড়বে এবং বিক্রিও জমে উঠবে।
এদিকে তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠে আনা উট দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অনেকে সেখানে ভিড় করে ছবি তুলছেন এবং মরুভূমির এই প্রাণী কাছ থেকে দেখছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ। বিপরীতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি পশু।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















