০৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সোনারপুরে হামলা, গ্রেপ্তার ৫: ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু বিতর্ক সংকটের অপেক্ষা না সংস্কারের সাহস: ব্রিটেনের সামনে কঠিন প্রশ্ন দিনাজপুরে ঈদের আনন্দযাত্রা থামল সড়কে, প্রাণ গেল দুই কলেজপড়ুয়া বন্ধুর মেরিলিন মনরোর মৃত্যুর রহস্যে নতুন দাবি, চিকিৎসকের ভুলেই কি ঘটেছিল ট্র্যাজেডি? প্যারিসে উল্লাস থেকে সহিংসতা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের রাতে আটক চার শতাধিক জাপান-যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইনের নতুন উদ্যোগ, লুজনে গড়ে উঠছে এআই ও চিপ শিল্পের আঞ্চলিক কেন্দ্র আলুর পাহাড়ে বিপদে বেলজিয়াম, কোটি কোটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের কাঁচামাল ফেলতে বাধ্য কৃষক ভাষার নতুন সাম্রাজ্য: কেন ‘মগিং’ শুধু একটি শব্দ নয় ভারতের কফি বিপ্লব: বিশেষায়িত কফির উত্থানে বদলে যাচ্ছে চাষিদের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প কি মধ্যবর্তী নির্বাচন জিততে চান, নাকি রিপাবলিকান পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই তাঁর আসল লক্ষ্য?

মেরিলিন মনরোর মৃত্যুর রহস্যে নতুন দাবি, চিকিৎসকের ভুলেই কি ঘটেছিল ট্র্যাজেডি?

হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর মৃত্যু নিয়ে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঘুরে বেড়িয়েছে। কখনও বলা হয়েছে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল, কখনও আবার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করা হয়েছে। তবে নতুন এক গবেষণা ও জীবনীগ্রন্থে উঠে এসেছে ভিন্ন এক ব্যাখ্যা—মনরোর মৃত্যু হয়তো কোনো হত্যাকাণ্ড নয়, বরং চিকিৎসাগত অবহেলার ফল ছিল।

নতুন জীবনীগ্রন্থে লেখক অ্যান্ড্রু উইলসন দাবি করেছেন, মনরোর ব্যক্তিগত চিকিৎসক হাইম্যান এঙ্গেলবার্গ তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় নিজের ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন।

১৯৬২ সালের আগস্টে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসে মারা যান মনরো। সরকারি তদন্তে তাঁর মৃত্যুকে সম্ভাব্য আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তদন্তে বলা হয়েছিল, তিনি অতিরিক্ত মাত্রায় ক্লোরাল হাইড্রেট ও নেমবুটাল গ্রহণ করেছিলেন। এই দুটি ওষুধই অনিদ্রার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও একসঙ্গে গ্রহণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

চিকিৎসকের বক্তব্য ও নতুন তথ্য

মনরোর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে ডা. এঙ্গেলবার্গ দাবি করে আসছিলেন যে তিনি নেমবুটাল লিখে দিয়েছিলেন, কিন্তু ক্লোরাল হাইড্রেট দেননি। ১৯৮২ সালে পুলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি একই কথা বলেন।

কিন্তু নতুন গবেষণায় পাওয়া একটি চিকিৎসাপত্র সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ১৯৬২ সালের জুন মাসে মনরোর জন্য ক্লোরাল হাইড্রেটের একটি চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, যাতে এঙ্গেলবার্গের স্বাক্ষর ছিল। পরে নথিটি নিলামে বিক্রি হয় এবং গবেষণার সময় সেটি খুঁজে পান উইলসন।

লেখকের মতে, যদি চিকিৎসকের লুকানোর কিছু না থাকত, তাহলে তিনি এত দৃঢ়ভাবে ওষুধটির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অস্বীকার করতেন না। তাঁর ধারণা, ব্যক্তিগত জীবনের সংকট ও মানসিক চাপের কারণে চিকিৎসক যথাযথভাবে মনরোর চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি।

শেষ জীবনে বিপজ্জনক মাত্রার ওষুধ

উইলসনের গবেষণায় উঠে এসেছে, মৃত্যুর আগের দুই মাসে মনরোকে মোট ৮৩০ ইউনিট ওষুধ লিখে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তিনি গভীর মানসিক চাপে ছিলেন। একটি চলচ্চিত্র প্রকল্প থেকে বাদ পড়া, বিষণ্নতার পর্ব এবং ক্রমবর্ধমান ওষুধনির্ভরতা তাঁর অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।

লেখকের মতে, বর্তমান সময়ের আইনি মানদণ্ডে এমন পরিস্থিতি চিকিৎসাগত অবহেলা বা অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগের জন্ম দিতে পারত। তবে তিনি এটিকে পরিকল্পিত অপরাধ নয়, বরং ভয়াবহ ভুল সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে দেখেন।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দীর্ঘ ছায়া

মনরোর মৃত্যুর পর থেকেই নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রবার্ট এফ. কেনেডি, জন এফ. কেনেডি, মাফিয়া চক্র ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসে।

উইলসনের মতে, এসব তত্ত্বের বড় অংশই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল এবং পরে বই, নিবন্ধ ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হয়। ফলে মনরোর প্রকৃত জীবন ও সংগ্রামের গল্প অনেকাংশে আড়ালে চলে যায়।

সংগ্রাম থেকে কিংবদন্তি

১৯২৬ সালে নরমা জিন মর্টেনসন নামে জন্ম নেওয়া মনরোর শৈশব ছিল কঠিন ও অস্থির। পালক পরিবার, অনাথাশ্রম এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হওয়া এই তরুণী পরে মডেলিং ও অভিনয়ের মাধ্যমে হলিউডের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হন। ‘নায়াগারা’, ‘হাউ টু ম্যারি আ মিলিয়নিয়ার’, ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ এবং ‘সাম লাইক ইট হট’-এর মতো চলচ্চিত্র তাঁকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

উইলসনের ভাষায়, মনরোকে কেবল ট্র্যাজেডির প্রতীক হিসেবে নয়, বরং প্রতিকূলতা জয় করে অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী একজন বেঁচে থাকা মানুষ হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, মাত্র ৩৬ বছরের জীবনে মনরো যে অর্জন রেখে গেছেন, সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।

মেরিলিন মনরোর মৃত্যু রহস্য

নতুন জীবনীগ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, মেরিলিন মনরোর মৃত্যু হত্যাকাণ্ড নয়; চিকিৎসাগত অবহেলা ও অতিরিক্ত ওষুধই হতে পারে এই ট্র্যাজেডির মূল কারণ।

মেরিলিন মনরোর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মোড়। নতুন গবেষণা বলছে, ষড়যন্ত্র নয়, চিকিৎসাগত অবহেলাই হতে পারে হলিউড তারকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। বিস্তারিত পড়ুন।

#মেরিলিন_মনরো #হলিউড #মৃত্যুরহস্য #চিকিৎসাগত_অবহেলা #হলিউডইতিহাস #সেলিব্রিটিখবর #বিনোদন #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সোনারপুরে হামলা, গ্রেপ্তার ৫: ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু বিতর্ক

মেরিলিন মনরোর মৃত্যুর রহস্যে নতুন দাবি, চিকিৎসকের ভুলেই কি ঘটেছিল ট্র্যাজেডি?

০৪:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর মৃত্যু নিয়ে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঘুরে বেড়িয়েছে। কখনও বলা হয়েছে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল, কখনও আবার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করা হয়েছে। তবে নতুন এক গবেষণা ও জীবনীগ্রন্থে উঠে এসেছে ভিন্ন এক ব্যাখ্যা—মনরোর মৃত্যু হয়তো কোনো হত্যাকাণ্ড নয়, বরং চিকিৎসাগত অবহেলার ফল ছিল।

নতুন জীবনীগ্রন্থে লেখক অ্যান্ড্রু উইলসন দাবি করেছেন, মনরোর ব্যক্তিগত চিকিৎসক হাইম্যান এঙ্গেলবার্গ তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় নিজের ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন।

১৯৬২ সালের আগস্টে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসে মারা যান মনরো। সরকারি তদন্তে তাঁর মৃত্যুকে সম্ভাব্য আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তদন্তে বলা হয়েছিল, তিনি অতিরিক্ত মাত্রায় ক্লোরাল হাইড্রেট ও নেমবুটাল গ্রহণ করেছিলেন। এই দুটি ওষুধই অনিদ্রার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও একসঙ্গে গ্রহণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

চিকিৎসকের বক্তব্য ও নতুন তথ্য

মনরোর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে ডা. এঙ্গেলবার্গ দাবি করে আসছিলেন যে তিনি নেমবুটাল লিখে দিয়েছিলেন, কিন্তু ক্লোরাল হাইড্রেট দেননি। ১৯৮২ সালে পুলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি একই কথা বলেন।

কিন্তু নতুন গবেষণায় পাওয়া একটি চিকিৎসাপত্র সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ১৯৬২ সালের জুন মাসে মনরোর জন্য ক্লোরাল হাইড্রেটের একটি চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, যাতে এঙ্গেলবার্গের স্বাক্ষর ছিল। পরে নথিটি নিলামে বিক্রি হয় এবং গবেষণার সময় সেটি খুঁজে পান উইলসন।

লেখকের মতে, যদি চিকিৎসকের লুকানোর কিছু না থাকত, তাহলে তিনি এত দৃঢ়ভাবে ওষুধটির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অস্বীকার করতেন না। তাঁর ধারণা, ব্যক্তিগত জীবনের সংকট ও মানসিক চাপের কারণে চিকিৎসক যথাযথভাবে মনরোর চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি।

শেষ জীবনে বিপজ্জনক মাত্রার ওষুধ

উইলসনের গবেষণায় উঠে এসেছে, মৃত্যুর আগের দুই মাসে মনরোকে মোট ৮৩০ ইউনিট ওষুধ লিখে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তিনি গভীর মানসিক চাপে ছিলেন। একটি চলচ্চিত্র প্রকল্প থেকে বাদ পড়া, বিষণ্নতার পর্ব এবং ক্রমবর্ধমান ওষুধনির্ভরতা তাঁর অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।

লেখকের মতে, বর্তমান সময়ের আইনি মানদণ্ডে এমন পরিস্থিতি চিকিৎসাগত অবহেলা বা অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগের জন্ম দিতে পারত। তবে তিনি এটিকে পরিকল্পিত অপরাধ নয়, বরং ভয়াবহ ভুল সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে দেখেন।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দীর্ঘ ছায়া

মনরোর মৃত্যুর পর থেকেই নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রবার্ট এফ. কেনেডি, জন এফ. কেনেডি, মাফিয়া চক্র ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসে।

উইলসনের মতে, এসব তত্ত্বের বড় অংশই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল এবং পরে বই, নিবন্ধ ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হয়। ফলে মনরোর প্রকৃত জীবন ও সংগ্রামের গল্প অনেকাংশে আড়ালে চলে যায়।

সংগ্রাম থেকে কিংবদন্তি

১৯২৬ সালে নরমা জিন মর্টেনসন নামে জন্ম নেওয়া মনরোর শৈশব ছিল কঠিন ও অস্থির। পালক পরিবার, অনাথাশ্রম এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হওয়া এই তরুণী পরে মডেলিং ও অভিনয়ের মাধ্যমে হলিউডের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হন। ‘নায়াগারা’, ‘হাউ টু ম্যারি আ মিলিয়নিয়ার’, ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ এবং ‘সাম লাইক ইট হট’-এর মতো চলচ্চিত্র তাঁকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

উইলসনের ভাষায়, মনরোকে কেবল ট্র্যাজেডির প্রতীক হিসেবে নয়, বরং প্রতিকূলতা জয় করে অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী একজন বেঁচে থাকা মানুষ হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, মাত্র ৩৬ বছরের জীবনে মনরো যে অর্জন রেখে গেছেন, সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।

মেরিলিন মনরোর মৃত্যু রহস্য

নতুন জীবনীগ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, মেরিলিন মনরোর মৃত্যু হত্যাকাণ্ড নয়; চিকিৎসাগত অবহেলা ও অতিরিক্ত ওষুধই হতে পারে এই ট্র্যাজেডির মূল কারণ।

মেরিলিন মনরোর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মোড়। নতুন গবেষণা বলছে, ষড়যন্ত্র নয়, চিকিৎসাগত অবহেলাই হতে পারে হলিউড তারকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। বিস্তারিত পড়ুন।

#মেরিলিন_মনরো #হলিউড #মৃত্যুরহস্য #চিকিৎসাগত_অবহেলা #হলিউডইতিহাস #সেলিব্রিটিখবর #বিনোদন #সারাক্ষণ_রিপোর্ট