যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি কর্মশালাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে ‘প্রাপ্তবয়স্ক আধিপত্য’ বা ‘অ্যাডাল্ট সুপ্রিমেসি’ ধারণা তুলে ধরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্ককে স্বভাবগতভাবে নিপীড়ক ও নিপীড়িতের সম্পর্ক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
কর্মশালার বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের পরিবর্তে এমন ধারণা শিক্ষকদের ভূমিকা ও কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক
গত এপ্রিলে একটি শিক্ষা-সংক্রান্ত সেমিনারের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ওই কর্মশালার শিরোনাম ছিল শিক্ষার্থীদের জ্ঞানসৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং প্রাপ্তবয়স্ক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা। উপস্থাপিত স্লাইডে বলা হয়, ক্ষমতার কাঠামোর কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই নিপীড়ক ও নিপীড়িতের সম্পর্ক তৈরি করে।
সেখানে আরও দাবি করা হয়, সমাজে শুধুমাত্র বয়সের ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্কদের বেশি পরিণত, বুদ্ধিমান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযুক্ত হিসেবে দেখা হয়, যা তরুণদের ক্ষমতাহীন করে তোলে।

অভিভাবকদের উদ্বেগ
এই ধারণা নিয়ে অনেক অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে পথ দেখানো। তারা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত মানোন্নয়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সমালোচকদের ভাষ্য, যখন অনেক শিক্ষার্থী এখনো মৌলিক শিক্ষা দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে, তখন এমন তাত্ত্বিক বিতর্ক স্কুলের মূল লক্ষ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে বিস্তার
শুধু একটি স্কুলেই নয়, ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘অ্যাডাল্টিজম’ বা প্রাপ্তবয়স্ক পক্ষপাত নিয়ে প্রশিক্ষণ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে বলা হচ্ছে, বয়সভিত্তিক ক্ষমতার কাঠামো তরুণদের মতামত ও অংশগ্রহণ সীমিত করে।

কিছু প্রশিক্ষণে আরও দাবি করা হয়েছে যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো তরুণ ও প্রবীণ উভয়কেই প্রান্তিক অবস্থায় ঠেলে দেয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্র থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
বিতর্কের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট স্কুল জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের শিক্ষা বিষয়ক শুনানিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অভিভাবকদের অধিকার এবং স্কুলের পাঠ্যবস্তু নিয়ে চলমান বিতর্কে এই বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে নিপীড়নের কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে আগামী দিনে আরও বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















