লাহোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তুলনামূলক অনভিজ্ঞ দল নিয়েও অসাধারণ লড়াই করে সফরকারীরা সিরিজের ব্যবধান ১-১ করেছে। ফলে বৃহস্পতিবার লাহোরেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে।
এলিসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং
অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক ছিলেন পেসার নাথান এলিস। তিনি ৩৩ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে নিজের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ কখনোই স্বস্তিতে ফিরতে পারেনি।
ম্যাথিউ শর্টও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ৩ উইকেট তুলে নেন। ম্যাচের শুরুতেই এলিস পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন। ইনিংসের তৃতীয় বলেই মাজ সাদাকাতকে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার বাবর আজমকেও দ্রুত সাজঘরে পাঠান।
শাদাবের একার লড়াই
২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ৪৪ ওভারে ১৯০ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৭১ রান করেন শাদাব খান। ১০৪ বলে খেলা তার ইনিংসে ছিল তিনটি ছক্কা ও একটি চার। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকায় তার লড়াই শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের পথে নিতে পারেনি।
গাজি ঘোরি ৩৭ রান করেন। আরাফাত মিনহাস করেন ৩৩ রান। শাদাব ও মিনহাস মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এলিস মিনহাসকে আউট করলে সেই প্রতিরোধ ভেঙে যায়।
ইংলিস ও গ্রিনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩১ রান সংগ্রহ করে। শুরুতে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও জশ ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি গড়ে দেন।
ইংলিস ৭৪ বলে ৫১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার। অন্যদিকে ক্যামেরন গ্রিন খেলেন ৯২ বলে ৫৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের স্কোর এগিয়ে নেন।
পরবর্তীতে ম্যাথিউ রেনশোর ৪৩ রান এবং অলিভার পিকের দ্রুত ৩১ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের অপেক্ষা
প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান জয় পেয়েছিল পাঁচ উইকেটে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দারুণ প্রত্যাবর্তনে সিরিজ এখন সমতায়। ফলে লাহোরে বৃহস্পতিবারের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে সিরিজের ভাগ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















