২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান ফুটবল দল। এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর ভিসা হাতে না পেলেও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী স্পেনের পথে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল হওয়ায় বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ইরান।
বিশ্বকাপ যাত্রায় অনিশ্চয়তা
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, দলটি সপ্তাহান্তে স্পেনের উদ্দেশে রওনা হবে। সেখান থেকে সরাসরি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিজুয়ানায় যাবে তারা। তবে যাত্রার আগে খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পাওয়ার অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি।
২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। অথচ গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে খেললেও এখন পর্যন্ত দেশটির ভিসা পায়নি ইরান দল। একই সঙ্গে মেক্সিকোর ভিসাও তখনো প্রক্রিয়াধীন ছিল।

যুদ্ধ বদলে দিয়েছে সব পরিকল্পনা
ফেডারেশন প্রধানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিকে বড়ভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের কারণে দলের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনাগুলো ভেঙে পড়েছে।
বিশ্বকাপের আগে শক্তিশালী কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল ইরানের। এর মধ্যে স্পেনের বিপক্ষে একটি ম্যাচও ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেই ম্যাচ বাতিল হয়ে যায়।
ঘাঁটি বদলাতে বাধ্য ইরান
প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসন শহরে বিশ্বকাপ ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল ইরানের। তবে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনার কারণে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। পরে মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর তিজুয়ানাকে দলের নতুন ঘাঁটি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

বর্তমানে তুরস্কে অবস্থান করে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। সম্প্রতি এক প্রীতি ম্যাচে গাম্বিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে দলটি। সামনে মালির বিপক্ষেও আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকটও বড় বাধা
যুদ্ধের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ইরানের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়া এবং আর্থিক সংকটের কারণে ব্যয় পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
তবু সব বাধা অতিক্রম করে বিশ্বকাপে ভালো করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিসরের বিপক্ষে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















