২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন এক সিদ্ধান্তে সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্টেডিয়ামের ভেতরে পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের মাঠের ভেতরে বিক্রি হওয়া বোতলজাত পানির ওপরই নির্ভর করতে হবে।
এর আগে স্টেডিয়ামে নির্দিষ্ট আকারের খালি ও স্বচ্ছ পুনঃব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি ছিল। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আচরণবিধিতে পরিবর্তন এনে সেই সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সিদ্ধান্ত
নতুন নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামে নেওয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষের দাবি, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, কয়েকটি ভেন্যুতে আগে থেকেই বাইরের বোতল নিষিদ্ধ ছিল। তাই সব স্টেডিয়ামে একই ধরনের নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। তাদের আশ্বাস, দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও তাপমাত্রা মোকাবিলার ব্যবস্থা রাখা হবে।
গরম আবহাওয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন বিশেষজ্ঞরা বিশ্বকাপ চলাকালে অতিরিক্ত গরমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের অনেক ম্যাচ খোলা আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত হবে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, বিশ্বকাপের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ম্যাচ এমন পরিবেশে হতে পারে যেখানে তাপজনিত চাপ মানুষের শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি ও সূর্যের তাপের সমন্বয়ে এই ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়।

দর্শকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেডিয়াম এলাকায় শীতলীকরণ কেন্দ্র, পানি গ্রহণের স্থান, কৃত্রিম কুয়াশা ছিটানোর ব্যবস্থা এবং বিশ্রামকেন্দ্র রাখা হবে। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতলজাত পানি বিক্রি করা হবে এবং এর মূল্য সংশ্লিষ্ট ভেন্যুগুলোতে অন্যান্য বড় আয়োজনের সময় যে দামে বিক্রি হয়, সেই পর্যায়েই রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে সমর্থকদের একটি অংশ মনে করছেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ব্যক্তিগত পানির বোতল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত ভোগান্তির কারণ হতে পারে। বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কও ততই বাড়ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















