১২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
অতীত ভুলে নয়, মতপার্থক্য মিটিয়ে সামনে এগোতে হবে: দীনেশ ত্রিবেদী ইরান যুদ্ধেই কি মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপদে পড়ছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল? স্কুলে হামলা চালিয়ে সহপাঠীকে হত্যা, আত্মহত্যার আগে সরাসরি সম্প্রচার করল শিক্ষার্থী ডলার বন্ড তুলতে দৌড়াচ্ছে ভারতের চার বেসরকারি ব্যাংক বন্ডের সুদহার কয়েক দশকের সর্বোচ্চ, কমল স্বর্ণের দাম চেয়ারম্যানের বিদায়ের পরই টাটা সন্সের বার্ষিক সভা স্থগিত মার্কিন সামরিক গবেষণার হাত ধরে চীনের রোবট কুকুরের উত্থান পশ্চিম তীরে অবরুদ্ধ বাড়িতে মার্কিন পতাকা তুলেও রক্ষা পেলেন না ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মুখোমুখি, আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ ট্রাম্পের হারানো ইনকা নগরীর খোঁজে ‘আসল ইন্ডিয়ানা জোন্স’, ৫৩ বছর পর মিলল সত্যের সন্ধান

ঢাকায় ৬৯০ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের পরিকল্পনা থমকে, এখন নজর বৈদ্যুতিক বাসে

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৬৯০টি নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালুর অনুমোদন দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও একটি বাসও সড়কে নামেনি। এর মধ্যে সরকার এখন পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বাসসেবায় শৃঙ্খলা ও মান দুই-ই বাড়বে।

যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত

ঢাকার লাখো মানুষ প্রতিদিন কর্মস্থল ও গন্তব্যে যেতে বাসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অধিকাংশ রুটে এখনো মানসম্মত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের দেখা মেলে না। পুরোনো, জরাজীর্ণ ও অস্বস্তিকর বাসেই যাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করছেন।

রাজধানীর জনসংখ্যা ও যাতায়াতের চাহিদার তুলনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে আধুনিক ও আরামদায়ক বাসসেবার চাহিদা দিন দিন বাড়লেও সেই চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

৬৯০ বাসের অনুমোদন, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় আসছে বড় সংস্কার

গত বছর ১০টি রুটে ৬৯০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছয় মাসের মধ্যে বাস নামানোর শর্তও দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রতিষ্ঠানই বাস পরিচালনা শুরু করতে পারেনি।

পরিবহন মালিকদের দাবি, বিদেশ থেকে বাস আমদানি, অর্থায়ন এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করতে তারা নানা জটিলতার মুখে পড়েছেন। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে।

বৈদ্যুতিক বাসে সরকারের নতুন জোর

সরকার এখন জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

নতুন বাসগুলোতে স্বয়ংক্রিয় দরজা, ই-টিকিট ব্যবস্থা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা থাকবে। যাত্রী ওঠানামা ও ভাড়া আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাউন্টারভিত্তিক পরিচালনা ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।

শৃঙ্খলাপূর্ণ বাসব্যবস্থার পরিকল্পনা

ঢাকায় চলবে ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানের সব বাসের রং হবে এক, বাসে স্পষ্টভাবে রুট নম্বর ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ থাকবে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হবে। বড় প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বাসব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে হলে শুধু নতুন বাস আনলেই হবে না, রুট ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন আনতে হবে।

পুরোনো বাসে ভরা রাজধানী

বর্তমানে ঢাকায় নিবন্ধিত বাস ও মিনিবাসের একটি বড় অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। ২০ বছরের বেশি পুরোনো হাজার হাজার বাস এখনো সড়কে চলাচল করছে। এসব যানবাহনের অনেকগুলোর দরজা, জানালা, আলো ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

যদিও মেট্রোরেলসহ নতুন পরিবহন ব্যবস্থা চালু হয়েছে, তবুও রাজধানীর গণপরিবহনের মূল ভরসা এখনো বাস। ভবিষ্যতেও নগরবাসীর বড় অংশ বাসনির্ভর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকার প্রবেশমুখে ৫ বাস টার্মিনাল, স্বস্তি ফিরবে ন...

রুট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বড় বাধা

পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকার বাসব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হলো রুট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম। অনুমোদিত রুটের বাইরে বাস পরিচালনা, রুট পারমিট ছাড়া চলাচল এবং ব্যক্তি মালিকানাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে আছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অধীনে আধুনিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় বাস পরিচালনা করা গেলে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে।

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করার যে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে বহুদিনের ভোগান্তি থেকে নগরবাসী কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অতীত ভুলে নয়, মতপার্থক্য মিটিয়ে সামনে এগোতে হবে: দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় ৬৯০ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের পরিকল্পনা থমকে, এখন নজর বৈদ্যুতিক বাসে

১০:৪৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৬৯০টি নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালুর অনুমোদন দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও একটি বাসও সড়কে নামেনি। এর মধ্যে সরকার এখন পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বাসসেবায় শৃঙ্খলা ও মান দুই-ই বাড়বে।

যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত

ঢাকার লাখো মানুষ প্রতিদিন কর্মস্থল ও গন্তব্যে যেতে বাসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অধিকাংশ রুটে এখনো মানসম্মত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের দেখা মেলে না। পুরোনো, জরাজীর্ণ ও অস্বস্তিকর বাসেই যাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করছেন।

রাজধানীর জনসংখ্যা ও যাতায়াতের চাহিদার তুলনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে আধুনিক ও আরামদায়ক বাসসেবার চাহিদা দিন দিন বাড়লেও সেই চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

৬৯০ বাসের অনুমোদন, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় আসছে বড় সংস্কার

গত বছর ১০টি রুটে ৬৯০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছয় মাসের মধ্যে বাস নামানোর শর্তও দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রতিষ্ঠানই বাস পরিচালনা শুরু করতে পারেনি।

পরিবহন মালিকদের দাবি, বিদেশ থেকে বাস আমদানি, অর্থায়ন এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করতে তারা নানা জটিলতার মুখে পড়েছেন। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে।

বৈদ্যুতিক বাসে সরকারের নতুন জোর

সরকার এখন জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

নতুন বাসগুলোতে স্বয়ংক্রিয় দরজা, ই-টিকিট ব্যবস্থা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা থাকবে। যাত্রী ওঠানামা ও ভাড়া আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাউন্টারভিত্তিক পরিচালনা ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।

শৃঙ্খলাপূর্ণ বাসব্যবস্থার পরিকল্পনা

ঢাকায় চলবে ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানের সব বাসের রং হবে এক, বাসে স্পষ্টভাবে রুট নম্বর ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ থাকবে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হবে। বড় প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বাসব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে হলে শুধু নতুন বাস আনলেই হবে না, রুট ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন আনতে হবে।

পুরোনো বাসে ভরা রাজধানী

বর্তমানে ঢাকায় নিবন্ধিত বাস ও মিনিবাসের একটি বড় অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। ২০ বছরের বেশি পুরোনো হাজার হাজার বাস এখনো সড়কে চলাচল করছে। এসব যানবাহনের অনেকগুলোর দরজা, জানালা, আলো ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

যদিও মেট্রোরেলসহ নতুন পরিবহন ব্যবস্থা চালু হয়েছে, তবুও রাজধানীর গণপরিবহনের মূল ভরসা এখনো বাস। ভবিষ্যতেও নগরবাসীর বড় অংশ বাসনির্ভর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকার প্রবেশমুখে ৫ বাস টার্মিনাল, স্বস্তি ফিরবে ন...

রুট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বড় বাধা

পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকার বাসব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হলো রুট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম। অনুমোদিত রুটের বাইরে বাস পরিচালনা, রুট পারমিট ছাড়া চলাচল এবং ব্যক্তি মালিকানাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে আছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অধীনে আধুনিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় বাস পরিচালনা করা গেলে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে।

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করার যে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে বহুদিনের ভোগান্তি থেকে নগরবাসী কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন।