চীনের একটি নতুন গবেষণায় দেশটির নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সামরিক নীতিনির্ধারণে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক-শিল্প কাঠামোকে সতর্কতামূলক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সাংহাই জিয়াও থং বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা সোমবার প্রকাশিত ওই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘লোহার ত্রিভুজ’ ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর, বেসরকারি প্রতিরক্ষা ঠিকাদার এবং কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক দেশটির জাতীয় নিরাপত্তানীতি নির্ধারণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
মুনাফা ও সামরিক ব্যয়ের যোগসূত্র
গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ঠিকাদার, সামরিক বাহিনী এবং রাজনীতিকদের মধ্যে এমন একটি পারস্পরিকভাবে শক্তিশালী জোট তৈরি হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়িক মুনাফা, সামরিক বাজেট বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক প্রভাব একে অপরকে উৎসাহিত করে।
গবেষকদের আশঙ্কা, প্রতিরক্ষা শিল্পের স্বার্থ যদি জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনের সঙ্গে মিশে যায়, তাহলে সামরিক নীতি ক্রমেই বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিবর্তে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কতামূলক উদাহরণ
চীনা গবেষণাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে বেইজিংকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একই ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। গবেষকদের দৃষ্টিতে, প্রতিরক্ষা খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক ব্যয় ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর তাদের প্রভাবও বাড়তে পারে।
গবেষণাটির মূল বার্তা হলো, চীনকে প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণ ও সামরিক নীতিনির্ধারণের মধ্যে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, যাতে বাণিজ্যিক স্বার্থ জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকারকে ছাপিয়ে না যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















