ভারতের কলকাতায় ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার ভোরে নিউ মার্কেটের কাছে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় এ পর্যন্ত সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভয়াবহ আগুন
কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ওই হোটেলে বুধবার আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথমে পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল। পরে আরও দুজনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছায়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি একই পরিবারের সদস্য। আগুনে আহত ছয় বাংলাদেশি প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের দুই বাসিন্দা নিহত

নিহতদের মধ্যে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দুজন রয়েছেন। তারা হলেন তারালী ইউনিয়নের বড়েয়া গ্রামের প্রয়াত ইউনুস আলীর ছেলে আলীমুজ্জামান সাজু এবং তাঁতুলিয়া গ্রামের ভাবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকার।
বুধবার রাত ১০টার দিকে তাদের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে দুই পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা জানিয়েছেন, কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত দুজন কালীগঞ্জের বাসিন্দা—এমন তথ্য তিনি পেয়েছেন। তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য উচ্চপর্যায়ে উদ্যোগ চলছে বলেও জানান তিনি।
পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, চিংড়ির ঘের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সাজু পাঁচ-ছয় দিন আগে কোমরের ব্যথার চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। বুধবারই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। অন্যদিকে, রেবতী সরকার প্রায় তিন মাস আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন। পরে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য আবার কলকাতায় গেলে হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসার জন্য গিয়ে প্রাণ হারালেন সাংবাদিক ও পরিবারের সদস্যরা
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সাংবাদিক দেবাশিস দত্তও রয়েছেন। তিনি আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। আগুনে তার সঙ্গে স্ত্রী আফসানা সিমিন, তিন বছর বয়সী মেয়ে স্বর্ণা শিশ দত্ত এবং শ্বশুর ৬৪ বছর বয়সী আকরাম আলীও মারা যান।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে দেবাশিস দত্ত কলকাতায় গিয়েছিলেন। তার আট বছর বয়সী আরেক মেয়ে এবং বাবা-মা রয়েছেন।
এ ছাড়া সাভারের ৩৮ বছর বয়সী প্রসাধনী ব্যবসায়ী আহমেদ বাবুও অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন।
মরদেহ দেশে ফেরাতে সরকারের উদ্যোগ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সমন্বয় করছে।
পরিবারগুলো দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনো পরিবার মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যয় বহনে সক্ষম না হলে সরকার তা বহনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতালগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিক ও তাদের পরিবারের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কলকাতার উপহাইকমিশন ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















