০৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
চা পানে দীর্ঘায়ু থেকে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে মিলতে পারে ৫ উপকার ইরান যুদ্ধের মূল্য এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সার্থক নয় এশীয় ব্যবসায়ীদের চাপে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে শিল্পভাড়া দ্বিগুণ ঋণের বোঝা থাকলে প্রেমেও ‘না’ বলছেন মিলেনিয়াল ও জেন-জি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে মার্কিন ঋণ, বাড়ছে অর্থনীতির আর্থিক ঝুঁকি কলকাতার হোটেল অগ্নিকাণ্ডে  নিহতদের মধ্যে সাতক্ষীরার দুজন রোহিঙ্গারা পরিবেশ ধ্বংস, মাদক চোরাচালানসহ নানা অপকর্মে জড়িত: সেনাপ্রধান ইবনে খালদুনের উত্তরাধিকার: ইতিহাসের আলোয় এক অসামান্য চিন্তাবিদ ও তাঁর সীমাবদ্ধতা সংযুক্ত আরব আমিরাতে জরুরি সতর্কবার্তা কীভাবে পৌঁছে যায় আপনার মুঠোফোনে শর্টস পরায় প্রশ্ন, সিংহগড়ে পরিবারকে হেনস্তার অভিযোগ; ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঋণের বোঝা থাকলে প্রেমেও ‘না’ বলছেন মিলেনিয়াল ও জেন-জি

অর্থনৈতিক চাপ বদলে দিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের প্রেম ও সম্পর্কের হিসাব। একসময় তৃতীয়বার দেখা করার আগে সঙ্গীর ঋণ বা আর্থিক অবস্থার খোঁজ নেওয়াকে নিছক রসিকতা মনে করা হলেও এখন বিষয়টি অনেকের কাছে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সম্ভাব্য সঙ্গীর ঋণ কিংবা অর্থ ব্যবস্থাপনার অভ্যাস তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি। মিলেনিয়াল প্রজন্মের ৫১ শতাংশ এবং জেন-জি প্রজন্মের ৪৯ শতাংশ এমন মত দিয়েছেন। বিপরীতে জেন-এক্স ও বেবি বুমারদের মধ্যে এই হার ৩৯ শতাংশ করে।

অর্থনৈতিক বাস্তবতাই বদলে দিচ্ছে প্রেমের সমীকরণ

তরুণ প্রজন্মকে সাধারণত অর্থের বিষয়ে তুলনামূলক উদার ও সহযোগিতামূলক বলে মনে করা হয়। কিন্তু শিক্ষা ঋণ, মূল্যস্ফীতি, বাড়ির উচ্চমূল্য এবং ঋণ পরিশোধের চাপ তাদের কাছে ব্যক্তিগত অর্থনীতিকে জীবনের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে দিয়েছে।

ফলে কারও সঙ্গে প্রেম বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে যাওয়ার আগে তার আর্থিক স্থিতিশীলতা কতটা, ঋণের পরিমাণ কেমন এবং খরচের অভ্যাস কী—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের কাছে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারা এখন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের অন্যতম বিষয়। কারণ বিয়ে বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে আর্থিক জীবন অনেকাংশে একীভূত হয়ে যায়। একজনের ঋণ, অতিরিক্ত খরচ কিংবা দুর্বল আর্থিক সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত অন্যজনের জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিয়ের আগে চুক্তিও আর ততটা অস্বাভাবিক নয়

সম্পর্কের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার আরেকটি দিক হলো বিয়ের আগে সম্পত্তি ও অর্থসম্পর্কিত চুক্তির জনপ্রিয়তা বাড়া।

জরিপে ৫৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা বিয়ের আগে এমন চুক্তি করার কথা বিবেচনা করবেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে বাবা-মা বা পরিবারের কাছের মানুষের বিচ্ছেদ, এই মানসিক পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তরুণদের একটি অংশ এখন এমন চুক্তিকে অবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে না দেখে নিজেদের আর্থিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট নিয়ম তৈরির উপায় হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যারা বিয়ের আগে অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং চুক্তির বিষয়টি নিয়ে বসেন, তাদের মধ্যে সম্পর্কের যোগাযোগও অনেক সময় তুলনামূলক সুস্থ হয়। যদিও এর সঙ্গে বিচ্ছেদের হার কমার সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণিত নয়।

মিয়ামিতে আর্থিক চাপ সবচেয়ে বেশি

জরিপে নিউইয়র্ক, বোস্টন, মিয়ামি, ফিলাডেলফিয়া, শার্লট এবং ওয়াশিংটন ডিসির মতো কয়েকটি বড় শহরের বাসিন্দাদের আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে মিয়ামির বাসিন্দাদের আর্থিক উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

মিয়ামির ৭৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবনে অন্তত কখনও কখনও নিজেদের আর্থিকভাবে সফল হিসেবে দেখানোর চাপ অনুভব করেন। একই শহরের ৬৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাদের অন্তত একটি আর্থিক গোপনীয়তা রয়েছে। জাতীয়ভাবে এই হার ৫৬ শতাংশ।

এ ছাড়া মিয়ামির ৫৮ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সঙ্গীর সঙ্গে অর্থ নিয়ে কথা বলতে তারা অন্তত কখনও ভয় বা বিব্রতবোধ করেন। জাতীয় পর্যায়ে এই হার ৪৮ শতাংশ।

অর্থনৈতিক চাপ সেখানে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে। মিয়ামির ৮২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, অর্থের কারণে তারা অন্তত একটি বড় জীবনঘনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। নিউইয়র্কে এই হার ৬৯ শতাংশ।

সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে পরিবারের অর্থ

তরুণদের আর্থিক বাস্তবতায় পরিবারের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জরিপে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা পরিবার বা ঘনিষ্ঠ কারও কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। আবার প্রায় ৭০ শতাংশ বলেছেন, তারাও অন্য কাউকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

অর্থাৎ অর্থের প্রবাহ শুধু বাবা-মা থেকে সন্তানদের দিকে যাচ্ছে না। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা একে অন্যকে সহায়তা করছেন। কারও বাড়ি কেনার অগ্রিম অর্থে সহায়তা করা থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পারিবারিক মুঠোফোন সংযোগ চালিয়ে দেওয়া—সহায়তার ধরনও নানা রকম।

একই সময়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এমন অবস্থায় রয়েছেন, যাদের একদিকে সন্তানদের দেখাশোনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বয়স্ক পরিবারের সদস্যদেরও আর্থিক সহায়তা দিতে হচ্ছে।

সঙ্গীর কাছেও লুকানো হচ্ছে অর্থের তথ্য

অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না করার প্রবণতাও বেশ বিস্তৃত। জাতীয়ভাবে ৩০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে কোনো কেনাকাটা কিংবা আর্থিক সিদ্ধান্ত গোপন করেছেন। ১১ শতাংশ বলেছেন, তারা কাছের মানুষদের কাছ থেকে একটি ব্যাংক হিসাব পর্যন্ত গোপন রাখেন।

যেসব বিষয় সবচেয়ে বেশি লুকানো হয়, তার মধ্যে রয়েছে ঋণ, জুয়া এবং দুর্বল ঋণ-যোগ্যতার ইতিহাস। অনেকের ক্ষেত্রে এর পেছনে প্রতারণার উদ্দেশ্যের চেয়ে বিচার বা সমালোচনার ভয় বেশি কাজ করে।

অর্থাৎ মানুষ জানেন, অর্থ নিয়ে সত্য কথা বলা জরুরি। কিন্তু সঙ্গী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন—সেই আশঙ্কায় অনেকে বিষয়টি গোপন রাখেন।

প্রেমে এখন আবেগের পাশাপাশি হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তরুণ প্রজন্মের সম্পর্কের সিদ্ধান্তে অর্থের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়াকে বিশেষজ্ঞরা মানুষের মূল্যবোধের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না। বরং বাড়ির উচ্চমূল্য, ঋণ, সঞ্চয়ের কঠিন বাস্তবতা এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার ক্রমবর্ধমান চাপই মানুষকে আরও হিসাবি করে তুলছে।

একজনের সঙ্গে সম্পর্ক মানে শুধু আবেগ ভাগ করে নেওয়া নয়; দীর্ঘমেয়াদে তার ঋণ, ব্যয়ের অভ্যাস এবং আর্থিক সিদ্ধান্তের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যাওয়া। তাই মিলেনিয়াল ও জেন-জি প্রজন্মের কাছে প্রেমের সম্পর্কেও এখন একটি প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—ভালোবাসার মানুষটি আর্থিকভাবে কতটা দায়িত্বশীল?

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চা পানে দীর্ঘায়ু থেকে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে মিলতে পারে ৫ উপকার

ঋণের বোঝা থাকলে প্রেমেও ‘না’ বলছেন মিলেনিয়াল ও জেন-জি

০৪:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

অর্থনৈতিক চাপ বদলে দিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের প্রেম ও সম্পর্কের হিসাব। একসময় তৃতীয়বার দেখা করার আগে সঙ্গীর ঋণ বা আর্থিক অবস্থার খোঁজ নেওয়াকে নিছক রসিকতা মনে করা হলেও এখন বিষয়টি অনেকের কাছে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সম্ভাব্য সঙ্গীর ঋণ কিংবা অর্থ ব্যবস্থাপনার অভ্যাস তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি। মিলেনিয়াল প্রজন্মের ৫১ শতাংশ এবং জেন-জি প্রজন্মের ৪৯ শতাংশ এমন মত দিয়েছেন। বিপরীতে জেন-এক্স ও বেবি বুমারদের মধ্যে এই হার ৩৯ শতাংশ করে।

অর্থনৈতিক বাস্তবতাই বদলে দিচ্ছে প্রেমের সমীকরণ

তরুণ প্রজন্মকে সাধারণত অর্থের বিষয়ে তুলনামূলক উদার ও সহযোগিতামূলক বলে মনে করা হয়। কিন্তু শিক্ষা ঋণ, মূল্যস্ফীতি, বাড়ির উচ্চমূল্য এবং ঋণ পরিশোধের চাপ তাদের কাছে ব্যক্তিগত অর্থনীতিকে জীবনের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে দিয়েছে।

ফলে কারও সঙ্গে প্রেম বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে যাওয়ার আগে তার আর্থিক স্থিতিশীলতা কতটা, ঋণের পরিমাণ কেমন এবং খরচের অভ্যাস কী—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের কাছে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারা এখন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের অন্যতম বিষয়। কারণ বিয়ে বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে আর্থিক জীবন অনেকাংশে একীভূত হয়ে যায়। একজনের ঋণ, অতিরিক্ত খরচ কিংবা দুর্বল আর্থিক সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত অন্যজনের জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিয়ের আগে চুক্তিও আর ততটা অস্বাভাবিক নয়

সম্পর্কের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার আরেকটি দিক হলো বিয়ের আগে সম্পত্তি ও অর্থসম্পর্কিত চুক্তির জনপ্রিয়তা বাড়া।

জরিপে ৫৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা বিয়ের আগে এমন চুক্তি করার কথা বিবেচনা করবেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে বাবা-মা বা পরিবারের কাছের মানুষের বিচ্ছেদ, এই মানসিক পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তরুণদের একটি অংশ এখন এমন চুক্তিকে অবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে না দেখে নিজেদের আর্থিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট নিয়ম তৈরির উপায় হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যারা বিয়ের আগে অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং চুক্তির বিষয়টি নিয়ে বসেন, তাদের মধ্যে সম্পর্কের যোগাযোগও অনেক সময় তুলনামূলক সুস্থ হয়। যদিও এর সঙ্গে বিচ্ছেদের হার কমার সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণিত নয়।

মিয়ামিতে আর্থিক চাপ সবচেয়ে বেশি

জরিপে নিউইয়র্ক, বোস্টন, মিয়ামি, ফিলাডেলফিয়া, শার্লট এবং ওয়াশিংটন ডিসির মতো কয়েকটি বড় শহরের বাসিন্দাদের আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে মিয়ামির বাসিন্দাদের আর্থিক উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

মিয়ামির ৭৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবনে অন্তত কখনও কখনও নিজেদের আর্থিকভাবে সফল হিসেবে দেখানোর চাপ অনুভব করেন। একই শহরের ৬৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাদের অন্তত একটি আর্থিক গোপনীয়তা রয়েছে। জাতীয়ভাবে এই হার ৫৬ শতাংশ।

এ ছাড়া মিয়ামির ৫৮ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সঙ্গীর সঙ্গে অর্থ নিয়ে কথা বলতে তারা অন্তত কখনও ভয় বা বিব্রতবোধ করেন। জাতীয় পর্যায়ে এই হার ৪৮ শতাংশ।

অর্থনৈতিক চাপ সেখানে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে। মিয়ামির ৮২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, অর্থের কারণে তারা অন্তত একটি বড় জীবনঘনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। নিউইয়র্কে এই হার ৬৯ শতাংশ।

সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে পরিবারের অর্থ

তরুণদের আর্থিক বাস্তবতায় পরিবারের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জরিপে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা পরিবার বা ঘনিষ্ঠ কারও কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। আবার প্রায় ৭০ শতাংশ বলেছেন, তারাও অন্য কাউকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

অর্থাৎ অর্থের প্রবাহ শুধু বাবা-মা থেকে সন্তানদের দিকে যাচ্ছে না। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা একে অন্যকে সহায়তা করছেন। কারও বাড়ি কেনার অগ্রিম অর্থে সহায়তা করা থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পারিবারিক মুঠোফোন সংযোগ চালিয়ে দেওয়া—সহায়তার ধরনও নানা রকম।

একই সময়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এমন অবস্থায় রয়েছেন, যাদের একদিকে সন্তানদের দেখাশোনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বয়স্ক পরিবারের সদস্যদেরও আর্থিক সহায়তা দিতে হচ্ছে।

সঙ্গীর কাছেও লুকানো হচ্ছে অর্থের তথ্য

অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না করার প্রবণতাও বেশ বিস্তৃত। জাতীয়ভাবে ৩০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে কোনো কেনাকাটা কিংবা আর্থিক সিদ্ধান্ত গোপন করেছেন। ১১ শতাংশ বলেছেন, তারা কাছের মানুষদের কাছ থেকে একটি ব্যাংক হিসাব পর্যন্ত গোপন রাখেন।

যেসব বিষয় সবচেয়ে বেশি লুকানো হয়, তার মধ্যে রয়েছে ঋণ, জুয়া এবং দুর্বল ঋণ-যোগ্যতার ইতিহাস। অনেকের ক্ষেত্রে এর পেছনে প্রতারণার উদ্দেশ্যের চেয়ে বিচার বা সমালোচনার ভয় বেশি কাজ করে।

অর্থাৎ মানুষ জানেন, অর্থ নিয়ে সত্য কথা বলা জরুরি। কিন্তু সঙ্গী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন—সেই আশঙ্কায় অনেকে বিষয়টি গোপন রাখেন।

প্রেমে এখন আবেগের পাশাপাশি হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তরুণ প্রজন্মের সম্পর্কের সিদ্ধান্তে অর্থের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়াকে বিশেষজ্ঞরা মানুষের মূল্যবোধের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না। বরং বাড়ির উচ্চমূল্য, ঋণ, সঞ্চয়ের কঠিন বাস্তবতা এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার ক্রমবর্ধমান চাপই মানুষকে আরও হিসাবি করে তুলছে।

একজনের সঙ্গে সম্পর্ক মানে শুধু আবেগ ভাগ করে নেওয়া নয়; দীর্ঘমেয়াদে তার ঋণ, ব্যয়ের অভ্যাস এবং আর্থিক সিদ্ধান্তের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যাওয়া। তাই মিলেনিয়াল ও জেন-জি প্রজন্মের কাছে প্রেমের সম্পর্কেও এখন একটি প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—ভালোবাসার মানুষটি আর্থিকভাবে কতটা দায়িত্বশীল?