০৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
চা পানে দীর্ঘায়ু থেকে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে মিলতে পারে ৫ উপকার ইরান যুদ্ধের মূল্য এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সার্থক নয় এশীয় ব্যবসায়ীদের চাপে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে শিল্পভাড়া দ্বিগুণ ঋণের বোঝা থাকলে প্রেমেও ‘না’ বলছেন মিলেনিয়াল ও জেন-জি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে মার্কিন ঋণ, বাড়ছে অর্থনীতির আর্থিক ঝুঁকি কলকাতার হোটেল অগ্নিকাণ্ডে  নিহতদের মধ্যে সাতক্ষীরার দুজন রোহিঙ্গারা পরিবেশ ধ্বংস, মাদক চোরাচালানসহ নানা অপকর্মে জড়িত: সেনাপ্রধান ইবনে খালদুনের উত্তরাধিকার: ইতিহাসের আলোয় এক অসামান্য চিন্তাবিদ ও তাঁর সীমাবদ্ধতা সংযুক্ত আরব আমিরাতে জরুরি সতর্কবার্তা কীভাবে পৌঁছে যায় আপনার মুঠোফোনে শর্টস পরায় প্রশ্ন, সিংহগড়ে পরিবারকে হেনস্তার অভিযোগ; ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মেটার সামনে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ঝুঁকি, বদলে যেতে পারে পুরো প্রযুক্তি দুনিয়া

বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সামনে এখন এমন এক আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যার অঙ্ক শুনলে বিস্মিত হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের করা মামলায় সর্বোচ্চ সম্ভাব্য আর্থিক জরিমানার পরিমাণ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অঙ্ক মেটার সামগ্রিক বাজারমূল্যের কাছাকাছি।

ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য অভিযোগ করেছে, মেটা তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। একই সঙ্গে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি করা হয়েছে, যা শিশু ও কিশোরদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের মহাধিবক্তাদের একটি বৃহত্তর আইনি উদ্যোগের অংশ। ২০২৩ সালে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অঙ্ক কেন

মেটা জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনি দাবির ভিত্তিতে সম্ভাব্য জরিমানা তাত্ত্বিকভাবে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এত বড় অঙ্কের কারণ হলো, মামলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সম্ভাব্যভাবে কয়েক কোটি পর্যন্ত বিবেচনায় আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অঙ্গরাজ্যের মহাধিবক্তারা এমন কিছু আইনি দাবি তুলতে পারেন, যা ব্যক্তিগত বাদীরা সাধারণত করতে পারেন না। শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন আইনের আওতায় তারা বড় ধরনের প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।

সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশেষজ্ঞ এরিক গোল্ডম্যানের মতে, এত বড় অঙ্ক বাস্তবে মেটার শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকা সম্পদের বড় অংশ জনসাধারণের কাছে হস্তান্তরের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, চরম পরিস্থিতিতে বিষয়টি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যেন মেটাকে প্রতিষ্ঠানের চাবি তুলে দিয়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে।

তবে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি জরিমানা বাস্তবে আদায় হবে—এমনটা মনে করছেন না আইন বিশেষজ্ঞরা।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারকের হাতে

ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে চলা মামলাটি আট সদস্যের একটি জুরি শুনছে। তবে এই জুরির সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক নয়। চূড়ান্তভাবে মেটা দায়ী কি না এবং কী ধরনের প্রতিকার বা জরিমানা হবে, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন ফেডারেল জেলা বিচারক ইয়ভন গনজালেজ রজার্স।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক জেমস গ্রিমেলম্যান মনে করেন, এই মামলার প্রথম ধাপেই মেটাকে দেউলিয়া করে দেওয়ার মতো কোনো জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তার মতে, জুরি যদি অত্যন্ত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের সুপারিশও করে, বিচারক সেটি পরিবর্তন করতে পারেন। পরবর্তী সময়ে আপিল আদালতও সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় অবশ্য মেটা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেখানে একটি জুরি মেটাকে অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইনের ৭৫ হাজার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে। এর ফলে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেওয়ানি জরিমানা নির্ধারিত হয়।

পরে একজন বিচারক মেটার প্ল্যাটফর্মকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপদ্রব হিসেবে চিহ্নিত করে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি মোকাবিলায় আরও ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন। সব মিলিয়ে ওই মামলায় মেটার আর্থিক দায় দাঁড়ায় ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। মেটা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

মেটার দাবি, অভিযোগ ভিত্তিহীন

মেটা অবশ্য অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে পারেনি যে সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্য ব্যবহারের কারণে তাদের বাসিন্দারা প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মেটার দাবি, বয়স যাচাইয়ের মতো পুরো প্রযুক্তি খাতের সাধারণ সমস্যার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, কিশোরদের সুরক্ষায় তারা শক্তিশালী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী।

মেটার মোট আয়ের এক শতাংশেরও কম সরাসরি ইনস্টাগ্রামে কিশোর ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আসে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার মূল প্রশ্ন এটি নয়। বরং আদালতকে নির্ধারণ করতে হবে মেটার কর্মকাণ্ডের কারণে সমাজে কতটা ক্ষতি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশাই এখন কাঠগড়ায়

মামলাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অঙ্গরাজ্যগুলো শুধু ব্যবহারকারীদের প্রকাশিত বিষয়বস্তু নিয়ে মেটাকে দায়ী করছে না। তারা মেটার নিজেদের নকশা ও সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছে—কীভাবে বিষয়বস্তু ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়, কোন বিষয় বেশি গুরুত্ব পায় এবং কীভাবে মানুষকে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে সাধারণভাবে ব্যবহারকারীদের প্রকাশিত বিষয়বস্তুর জন্য ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করার ক্ষেত্রে সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু অঙ্গরাজ্যগুলোর যুক্তি, তারা ব্যবহারকারীদের প্রকাশিত বিষয়বস্তুর জন্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেনি; বরং মেটা নিজে কীভাবে সেই বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে, সেটিই তাদের অভিযোগের কেন্দ্র।

আইন বিশেষজ্ঞ গোল্ডম্যান অবশ্য মনে করেন, বিষয়বস্তু এবং সেটি উপস্থাপনের পদ্ধতিকে পুরোপুরি আলাদা করা কঠিন। তাঁর মতে, কোনো প্রকাশনা কোন খবরকে বড় শিরোনাম দেয়, কোন খবরকে বেশি গুরুত্ব দেয় বা ছবিসহ প্রকাশ করে—এগুলো যেমন সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়বস্তু উপস্থাপনের সিদ্ধান্তও এক ধরনের মতপ্রকাশের অংশ হতে পারে।

এই যুক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।

মেটার বাইরেও বড় প্রভাব

ওকল্যান্ডের মামলার ফল শুধু মেটার আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়। এর সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরো প্রযুক্তিগত কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

টিকটক, ইউটিউব ও স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধেও তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতির অভিযোগে একই ধরনের মামলা চলছে। মেটার বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যগুলোর জয় হলে অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশা ও কার্যপ্রণালি চ্যালেঞ্জ করার জন্য সেটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

এর প্রভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরেও যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভিডিও গেম ও সামাজিক গেমিংয়ের মতো প্রযুক্তির বিরুদ্ধেও একই ধরনের আইনি তত্ত্ব ব্যবহার করে মামলা হচ্ছে।

তাই ওকল্যান্ডের আদালতে আসলে শুধু মেটার ভাগ্যই নির্ধারিত হচ্ছে না। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে তাদের পণ্য তৈরি করবে, ব্যবহারকারীদের ধরে রাখবে এবং তরুণদের সুরক্ষার দায়িত্ব নেবে—ভবিষ্যতে সেই প্রশ্নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তর তৈরি হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চা পানে দীর্ঘায়ু থেকে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে মিলতে পারে ৫ উপকার

মেটার সামনে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ঝুঁকি, বদলে যেতে পারে পুরো প্রযুক্তি দুনিয়া

০৩:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সামনে এখন এমন এক আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যার অঙ্ক শুনলে বিস্মিত হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের করা মামলায় সর্বোচ্চ সম্ভাব্য আর্থিক জরিমানার পরিমাণ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অঙ্ক মেটার সামগ্রিক বাজারমূল্যের কাছাকাছি।

ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য অভিযোগ করেছে, মেটা তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। একই সঙ্গে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি করা হয়েছে, যা শিশু ও কিশোরদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের মহাধিবক্তাদের একটি বৃহত্তর আইনি উদ্যোগের অংশ। ২০২৩ সালে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অঙ্ক কেন

মেটা জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনি দাবির ভিত্তিতে সম্ভাব্য জরিমানা তাত্ত্বিকভাবে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এত বড় অঙ্কের কারণ হলো, মামলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সম্ভাব্যভাবে কয়েক কোটি পর্যন্ত বিবেচনায় আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অঙ্গরাজ্যের মহাধিবক্তারা এমন কিছু আইনি দাবি তুলতে পারেন, যা ব্যক্তিগত বাদীরা সাধারণত করতে পারেন না। শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন আইনের আওতায় তারা বড় ধরনের প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।

সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশেষজ্ঞ এরিক গোল্ডম্যানের মতে, এত বড় অঙ্ক বাস্তবে মেটার শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকা সম্পদের বড় অংশ জনসাধারণের কাছে হস্তান্তরের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, চরম পরিস্থিতিতে বিষয়টি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যেন মেটাকে প্রতিষ্ঠানের চাবি তুলে দিয়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে।

তবে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি জরিমানা বাস্তবে আদায় হবে—এমনটা মনে করছেন না আইন বিশেষজ্ঞরা।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারকের হাতে

ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে চলা মামলাটি আট সদস্যের একটি জুরি শুনছে। তবে এই জুরির সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক নয়। চূড়ান্তভাবে মেটা দায়ী কি না এবং কী ধরনের প্রতিকার বা জরিমানা হবে, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন ফেডারেল জেলা বিচারক ইয়ভন গনজালেজ রজার্স।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক জেমস গ্রিমেলম্যান মনে করেন, এই মামলার প্রথম ধাপেই মেটাকে দেউলিয়া করে দেওয়ার মতো কোনো জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তার মতে, জুরি যদি অত্যন্ত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের সুপারিশও করে, বিচারক সেটি পরিবর্তন করতে পারেন। পরবর্তী সময়ে আপিল আদালতও সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় অবশ্য মেটা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেখানে একটি জুরি মেটাকে অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইনের ৭৫ হাজার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে। এর ফলে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেওয়ানি জরিমানা নির্ধারিত হয়।

পরে একজন বিচারক মেটার প্ল্যাটফর্মকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপদ্রব হিসেবে চিহ্নিত করে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি মোকাবিলায় আরও ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন। সব মিলিয়ে ওই মামলায় মেটার আর্থিক দায় দাঁড়ায় ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। মেটা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

মেটার দাবি, অভিযোগ ভিত্তিহীন

মেটা অবশ্য অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে পারেনি যে সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্য ব্যবহারের কারণে তাদের বাসিন্দারা প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মেটার দাবি, বয়স যাচাইয়ের মতো পুরো প্রযুক্তি খাতের সাধারণ সমস্যার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, কিশোরদের সুরক্ষায় তারা শক্তিশালী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী।

মেটার মোট আয়ের এক শতাংশেরও কম সরাসরি ইনস্টাগ্রামে কিশোর ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আসে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার মূল প্রশ্ন এটি নয়। বরং আদালতকে নির্ধারণ করতে হবে মেটার কর্মকাণ্ডের কারণে সমাজে কতটা ক্ষতি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশাই এখন কাঠগড়ায়

মামলাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অঙ্গরাজ্যগুলো শুধু ব্যবহারকারীদের প্রকাশিত বিষয়বস্তু নিয়ে মেটাকে দায়ী করছে না। তারা মেটার নিজেদের নকশা ও সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছে—কীভাবে বিষয়বস্তু ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়, কোন বিষয় বেশি গুরুত্ব পায় এবং কীভাবে মানুষকে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে সাধারণভাবে ব্যবহারকারীদের প্রকাশিত বিষয়বস্তুর জন্য ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করার ক্ষেত্রে সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু অঙ্গরাজ্যগুলোর যুক্তি, তারা ব্যবহারকারীদের প্রকাশিত বিষয়বস্তুর জন্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেনি; বরং মেটা নিজে কীভাবে সেই বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে, সেটিই তাদের অভিযোগের কেন্দ্র।

আইন বিশেষজ্ঞ গোল্ডম্যান অবশ্য মনে করেন, বিষয়বস্তু এবং সেটি উপস্থাপনের পদ্ধতিকে পুরোপুরি আলাদা করা কঠিন। তাঁর মতে, কোনো প্রকাশনা কোন খবরকে বড় শিরোনাম দেয়, কোন খবরকে বেশি গুরুত্ব দেয় বা ছবিসহ প্রকাশ করে—এগুলো যেমন সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়বস্তু উপস্থাপনের সিদ্ধান্তও এক ধরনের মতপ্রকাশের অংশ হতে পারে।

এই যুক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।

মেটার বাইরেও বড় প্রভাব

ওকল্যান্ডের মামলার ফল শুধু মেটার আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়। এর সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরো প্রযুক্তিগত কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

টিকটক, ইউটিউব ও স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধেও তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতির অভিযোগে একই ধরনের মামলা চলছে। মেটার বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যগুলোর জয় হলে অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশা ও কার্যপ্রণালি চ্যালেঞ্জ করার জন্য সেটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

এর প্রভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরেও যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভিডিও গেম ও সামাজিক গেমিংয়ের মতো প্রযুক্তির বিরুদ্ধেও একই ধরনের আইনি তত্ত্ব ব্যবহার করে মামলা হচ্ছে।

তাই ওকল্যান্ডের আদালতে আসলে শুধু মেটার ভাগ্যই নির্ধারিত হচ্ছে না। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে তাদের পণ্য তৈরি করবে, ব্যবহারকারীদের ধরে রাখবে এবং তরুণদের সুরক্ষার দায়িত্ব নেবে—ভবিষ্যতে সেই প্রশ্নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তর তৈরি হতে পারে।