ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় আহত ছয় পাকিস্তানি নাবিক নিরাপদে পাকিস্তানে ফিরেছেন। একই ঘটনায় নিহত দুই পাকিস্তানি নাবিকের মরদেহও দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসহাক দার জানান, তানজানিয়ার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলায় আহত ছয় পাকিস্তানি নাবিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় নিহত দুই পাকিস্তানি নাবিকের মরদেহও দেশে পৌঁছেছে।
লোহিত সাগরে তানজানিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে হামলা
গত ১১ আগস্ট তানজানিয়ার পতাকাবাহী ‘তিহামাহ’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়। হামলায় জাহাজটির কয়েকজন নাবিক নিহত ও আহত হন। ওই সময় ইসহাক দার জানিয়েছিলেন, তিন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন আহত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
ইয়েমেনের কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রথম আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। উদ্ধারকারী দল নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় জাহাজটিতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানি নাবিকদের দেশে ফেরাতে সহযোগিতা
ইসহাক দার জানান, ইয়েমেনে পাকিস্তানের কোনো কূটনৈতিক মিশন না থাকায় জেদ্দায় পাকিস্তানের কনস্যুলেট জেনারেল এবং রিয়াদে দেশটির দূতাবাস নাবিকদের দেশে ফেরানো ও নিহতদের মরদেহ প্রত্যাবাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এফআইএর প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন। পাশাপাশি জেদ্দায় আহত নাবিকদের চিকিৎসা সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে সহযোগিতার জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
নাবিকদের নিরাপত্তার ওপর জোর
হুথি হামলার নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করে ইসহাক দার বলেন, সমুদ্রপথে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা সব সময় নিশ্চিত করতে হবে। আহত নাবিক এবং নিহতদের পরিবারের পাশে থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
১১ আগস্ট লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগর এলাকায় তিনটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। হুথি-সংশ্লিষ্ট একটি গণমাধ্যম পরে দাবি করে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও একটি জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যেটিতে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে তাদের দাবি।
লোহিত সাগরে নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর গত মাস থেকে লোহিত সাগর ও এর প্রবেশপথ ঘিরে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটছে। এর আগে জুলাইয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে বাণিজ্য এবং লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন নিয়ে হুথিদের হুমকির নিন্দা জানিয়েছিল পাকিস্তান।
পাকিস্তান তখন সতর্ক করে বলেছিল, তাদের সামুদ্রিক স্বার্থে কোনো ধরনের বৈরী কর্মকাণ্ড হলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। পরে দেশটি জানায়, সামুদ্রিক স্বার্থে হামলা হলে সেটিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
হামলার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন সামুদ্রিক জোটেও ভূমিকা রাখার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল পাকিস্তান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















