নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার রাতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে বের হন।
কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কারাগার ত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মুক্তি
গত ১০ মে আপিল বিভাগ তার ১০টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে। এর আগে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পৃথক জামিন আবেদন শুনানি শেষে হাইকোর্ট পাঁচটি মামলায় তাকে জামিন দেন।

তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে মার্চ মাসে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়। পরে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখায় তার মুক্তির পথ সুগম হয়।
যেসব মামলায় জামিন
তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটি হত্যা মামলা রয়েছে। এসব মামলায় জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগেও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
গত বছরের নভেম্বর মাসে অতিরিক্ত কয়েকটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে সেসব মামলাতেও আইনি লড়াই চলতে থাকে।
আরও দুটি মামলায় স্বস্তি

চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। এসব মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত কোনো স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় ওই দুই মামলার জামিন কার্যকর থাকে। ফলে তার মুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।
গত বছর গ্রেপ্তার
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গত বছরের মে মাসে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তিনি কারাগারে ছিলেন।
সর্বশেষ আদালতের নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বুধবার রাতে তিনি কারামুক্ত হন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















